kalerkantho

বুধবার । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৯ মে ২০২১। ৬ শাওয়াল ১৪৪

নাজমুলের সেঞ্চুরিতে শক্ত ভিতে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ : ৯০ ওভারে ৩০২/২ (প্রথম দিনের শেষে)

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নাজমুলের সেঞ্চুরিতে শক্ত ভিতে বাংলাদেশ

দারুণ ধৈর্য আর নিখুঁত সব শটের চিত্রায়ণে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পেয়েছেন নাজমুল হোসেন। দিনশেষে তিনি অপরাজিত ১২৬ রানে। ছবি : এএফপি

বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকেই তাঁকে মনে করা হচ্ছে ভবিষ্যৎ তারকা। তাই পরিচর্যায়ও কমতি ছিল না কোনো। হাই পারফরম্যান্স থেকে শুরু করে ‘এ’ দল, প্রতিটি ধাপে নিজেকে প্রমাণ করে জাতীয় দলেও চলে আসেন দ্রুতই। কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুযোগের পর সুযোগ পেয়েও কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। প্রতিশ্রুতি অনূদিত হচ্ছিল না পারফরম্যান্সে। সুবাদে সমালোচনার খররোদে পুড়তে পুড়তে নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে যেন অবশেষে নামল স্বস্তির বৃষ্টিই। এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান পেরোলেন প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির সেই আরাধ্য মাইলফলক। ক্যান্ডির পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে নাজমুলের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির আলোয় উজ্জ্বল হওয়ার দিনটি বাংলাদেশেরও। ২ উইকেট হারিয়ে ৩০২ রান নিয়ে প্রথম দিন শেষ করার মধ্যে যে আছে শ্রীলঙ্কাকে রানপাহাড়ে পিষ্ট করার বার্তাও।

সেঞ্চুরি করার পরেও গোলমাল না করা নাজমুলের ব্যাট থেকে আজ আরো বড় কিছু দেখার প্রত্যাশাও থাকছে। প্রায় তিন শ (২৮৮) বল খেলে ফেলা এই তরুণ ১২৬ রানে অপরাজিত। উইকেটে তাঁর সঙ্গী মমিনুল হকও দেশের বাইরে আজ পর্যন্ত কোনো টেস্ট সেঞ্চুরি করতে না পারার ‘গেরো’ ছোটানোর অপেক্ষায়। দেশের মাটিতে ১০-১০টি সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক আজ নামবেন ৬৪ রান নিয়ে। নাজমুলকে নিয়ে তাঁর অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেট পার্টনারশিপও হয়ে গেছে ১৫০ রানের। তবে তাঁদেরও আগে সকাল সকাল পাল্লেকেলের সবুজ উইকেটে পাল্টা আক্রমণে স্বাগতিকদের ভড়কে দেওয়ার আত্মবিশ্বাসের সদম্ভ ঘোষণাটি এসেছিল তামিম ইকবালের ব্যাটেই। সুরঙ্গা লাকমলের করা ম্যাচের প্রথম ওভারেই এই বাঁহাতি ওপেনারের মারা জোড়া বাউন্ডারিতে যেন মিশে ছিল চ্যালেঞ্জ জয়ের ঘোষণাও। এরপর তাঁর ব্যাটে একের পর এক বাউন্ডারি উইকেটে গিয়ে শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে নাজমুলকেও করে তোলে দারুণ আত্মবিশ্বাসী। দুজনে মিলেই বাড়াতে থাকেন লঙ্কান শিবিরের হতাশা।

এর আগে সকালে টস জিতে অধিনায়ক মমিনুলের আগে ব্যাট করার সাহসী সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতাও ততক্ষণে প্রমাণ করা হয়ে গেছে তামিম-নাজমুল জুটির। যদিও ওপেনিং জুটি ভাঙে দ্বিতীয় ওভারেই। বিশ্ব ফার্নান্ডোর ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে এলবিডাব্লিউ হন সাইফ হাসান (০)। রিভিউ নিয়ে জুটি ভাঙা লঙ্কান শিবিরে এরপর হতাশার ঢেউই আছড়ে পড়েছে বেশি। বিশ্ব ফার্নান্ডোকেই এক ওভারে তিন বাউন্ডারি মেরে তামিম ছন্দটা আরো ধরে ফেলেন। সেখানে মোটামুটি গতির সুইং নির্ভর বোলার লাকমল আর ফার্নান্ডোর পাশাপাশি দুরন্ত গতির পেসার লাহিরু কুমারাও ওভারের পর ওভার সাফল্য তুলতে না পেরে হতাশায় এলোমেলো হয়েছেন আরো। ৫৩ বলেই ফিফটিতে পৌঁছে যাওয়া তামিমও এগোতে থাকেন দশম টেস্ট সেঞ্চুরির দিকে। সেটি পাওয়া যখন কেবলই সময়ের ব্যাপার বলে মনে হচ্ছে, তখনই মনোযোগ হারিয়ে বসেন এই ওপেনার। ফার্নান্ডোর বলে স্লিপে ক্যাচ অনুশীলন করিয়ে ৯০ রানে আউট হওয়া ১০১ বলের ইনিংসে বাউন্ডারির মার ১৫টি। ভাঙে নাজমুলের সঙ্গে ১৪৪ রানের পার্টনারশিপও। তামিম মনোযোগ হারিয়ে ফিরলেও ২৮ রানে অফস্পিনার ধনঞ্জয়া ডি সিলভার বলে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যাওয়া নাজমুল আর কোনো সুযোগই দেননি। উইকেটের পেছনে বল গ্লাভসে জমাতে পারেননি লঙ্কান উইকেটরক্ষক নিরোশান ডিকভেলা। আরো সাবধানী হয়ে যাওয়া নাজমুল ফিফটিতে পৌঁছান ১২০ বলে। ৯০ থেকে তিন অঙ্কে যেতেও বল খেলেন ৩৮টি। এরপরই সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। সেই ধনঞ্জয়াকেই কাভার ড্রাইভে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যর্থতার অতীত ভুলে সামনে তাকাতে পারলেন নাজমুল। সে জন্যই কিনা প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির উদযাপনে ছিল না তেমন কোনো আতিশয্যও। এক হাতে ব্যাট আর অন্য হাতে হেলমেট তোলা উদযাপনে যেন ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ার স্বস্তিই বেশি মিশে থাকল।

 

 



সাতদিনের সেরা