kalerkantho

বুধবার । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৯ মে ২০২১। ৬ শাওয়াল ১৪৪

চিকিৎসক-পুলিশ বিতণ্ডা

পাল্টাপাল্টি বিবৃতি নিয়ে অসন্তোষ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাল্টাপাল্টি বিবৃতি নিয়ে অসন্তোষ হাইকোর্টের

লকডাউনে মুভমেন্ট পাস নিয়ে ধানমণ্ডির এলিফ্যান্ট রোডে চিকিৎসক, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের বাগবিতণ্ডার ঘটনায় পুলিশ ও চিকিৎসকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দেওয়ার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এমন আচরণ কাম্য নয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পেশাজীবী সংগঠনের পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দেওয়াও অনাকাঙ্ক্ষিত।

আদালত বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের কাছ থেকে সবাই যথাযথ দায়িত্ব পালন আশা করে। কভিড-১৯-এর কারণে দেশের সব মানুষই চাপের মধ্যে আছে। যেকোনোভাবেই হোক একটা ঘটনা ঘটে গেছে। আর তা নিয়ে কিছু পেশাজীবী সংগঠন যে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দিয়েছে, তা কাম্য নয়। সবারই নমনীয় হওয়া উচিত।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে ওই ঘটনার তদন্ত চেয়ে করা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন আদালত। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী আকন্দ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন ও মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের পাল্টাপাল্টি বিবৃতি নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে এনে তদন্ত চান। আগের দিনও এই আইনজীবী ওই বাগবিতণ্ডার ঘটনায় আদালতের কাছে স্বতঃপ্রণোদিত আদেশ চেয়েছিলেন।

আবেদনকারীকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, ‘গতকালও  (সোমবার) আপনি এ বিষয় নিয়ে এসেছিলেন। আপনি তো (ইউনুছ আলী আকন্দ) সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি নন। সংক্ষুব্ধ কোনো পক্ষ এটা নিয়ে আদালতে এলে বিষয়টি দেখা যেতে পারে।’ জবাবে ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, ‘আমার মেয়ে একজন চিকিৎসক। আরো চিকিৎসক আত্মীয়-স্বজন আছে।’ 

এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, ‘আপনি তো বিষয়টি দেখতে পারেন। দুটি পেশাজীবী সংগঠন কিভাবে বিবৃতি দেয়?’ জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ওই ঘটনা (বাগবিতণ্ডা) অপ্রত্যাশিত, অনাকাঙ্ক্ষিত।

গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে সরকারি বিধি-নিষেধের পঞ্চম দিনে মুভমেন্ট পাস নিয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়ান চিকিৎসক, ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তা। এ নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় গত সোমবার বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বিবৃতি দিয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। অন্যদিকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ ও বাংলাদেশ ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন পৃথক বিবৃতিতে চিকিৎসককে হয়রানির অভিযোগ এনে জড়িত পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।

 



সাতদিনের সেরা