kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বললেন

পারলে কালই কান ধরে ব্যবসা ছেড়ে দিতে চাই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পারলে কালই কান ধরে ব্যবসা ছেড়ে দিতে চাই

দেশের করব্যবস্থা ব্যবসাবান্ধব নয় বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। তিনি বলেছেন, ‘অবস্থাটা এমন যে আমরা যাঁরা বাংলাদেশে ব্যবসা করি তাঁরা পারলে কালই কান ধরে ব্যবসা ছেড়ে দিতে চাই। লাভ-লোকসান যা-ই হবে, কর দিয়ে যাবেন। আর যারা কর দেয় না, তারাই ভালো থাকবে। তারা আরো বড় বড় ব্যবসা করবে, আর আমরা মরব। বিদ্যমান করব্যবস্থা ঠিক করুন। অন্যথায় বর্তমান ব্যবসাই থাকবে না, নতুন বিনিয়োগের তো প্রশ্নই ওঠে না।’

ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) উদ্যোগে গত শনিবার অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় অংশ নিয়ে সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এসব কথা বলেন। ‘পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য ও উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার যাত্রাকে মসৃণ করতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই)’ শীর্ষক আলোচনাসভাটি আয়োজনে সহযোগিতায় ছিল বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (আরএপিআইডি) ও এশিয়া ফাউন্ডেশন।

আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। আরো বক্তব্য দেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি নিহাদ কবীর, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

বিদেশি বিনিয়োগের ওপর জোর দিয়ে সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, ‘বাংলাদেশ ২০১৯ সালে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের জুতা রপ্তানি করে। একই সময়ে ভিয়েতনাম রপ্তানি করে এক হাজার ৩০০ কোটি ডলারের জুতা। তাদের শীর্ষ পাঁচটি জুতা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান দেশি-বিদেশি যৌথ বিনিয়োগে পরিচালিত হয়। ভিয়েতনামে যৌথ বিনিয়োগে স্থাপিত একটি কোরিয়ান কম্পানি ১০০ কোটি ডলারের জুতা রপ্তানি করে। আর আমরা সারা বছর সবাই মিলে সেই পরিমাণ জুতা রপ্তানি করছি। এটিই আসলে এফডিআইয়ের মূল শক্তি।’

নাসিম মঞ্জুর আরো বলেন, করোনার কারণে সারা বিশ্বে এফডিআইয়ের হার অর্ধেক হয়ে গেছে। তবে বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ আছে। বিধি-নিষেধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র বড় ব্র্যান্ড চীনের কাপড় নেবে না। সে জন্য ভারত, পাকিস্তানের মতো দেশে বস্ত্রকল হচ্ছে। বাংলাদেশ সেই সুযোগ নিতে পারে। তা ছাড়া মিয়ানমার থেকে ব্যবসা ছিনিয়ে নেওয়ার সুযোগ এখনই।

এই উদ্যোক্তা বলেন, বাংলাদেশ থেকে এসপাড্রিল নামে একটি পণ্য রপ্তানি হয়। এটি পাট দিয়ে বানানো জুতা। এতে মূল্য সংযোজন প্রায় শতভাগ। এটা বাংলাদেশ থেকে বিক্রি করা হয় গড়ে তিন থেকে চার ডলার বা সর্বোচ্চ ছয় ডলারে। অন্যদিকে পণ্য খুব একটা ভিন্ন না হলেও চায়না কম্পানি রপ্তানি করে ২২ ডলারে। ভিন্নতা হলো ডিজাইন, দর-কষাকষির ক্ষমতা এবং ক্রেতার সঙ্গে সম্পর্ক। সেটাই এফডিআই এনে দেয়।

নাসিম মঞ্জুর বলেন, এখন এফডিআইয়ে প্রতিযোগিতায় শুধু ভারত, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া নয়; ইউকে, পর্তুগাল ও ইতালির সঙ্গেও প্রতিযোগিতা করতে হয়। ইউকে ও আমেরিকায়ও অনেক বিনিয়োগ হচ্ছে। থাইল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান গিয়ে ইউকের প্রতিষ্ঠান কিনে ফেলছে। ফলে বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা আগের মতো নেই। শুধু উত্তর থেকে দক্ষিণে আসে না; এখন দক্ষিণ থেকে উত্তরেও যায়। এটা এক নতুন প্রতিযোগিতা।

অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের এমডি আরো বলেন, ‘করোনার কারণে বিশ্ব বিনিয়োগ অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ সময়ে বস্ত্র খাতে বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আমেরিকান বড় বড় ব্র্যান্ড আমাদের পোশাক রপ্তানিকারকদের বলছে চীনের কাপড় ব্যবহার না করতে। ওই কাপড় অন্য দেশ থেকে আনতে হবে। এ ধরনের কাপড়ের কারখানা দেশেই হতে পারে। অথচ এ ধরনের কারখানা হচ্ছে পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও ভারতে। বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে মিয়ানমারের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি। মিয়ানমার থেকে ব্যবসা সরিয়ে বাংলাদেশে আনার এখনই সময়। এই সুযোগ হারানো যাবে না।’

নিহাদ কবির বলেন, ‘বিডাতে গেলে সমস্যার সমাধান হয়। তবে উপরের লেভেলে (উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা) কথা বলতে হয়। বিডাতে যাঁরা কাজ করেন তাঁদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো। কিন্তু তাঁরা ব্যবসার বিষয়ে প্রশিক্ষিত নন।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। অথচ একজন উপসচিব তাঁর টেবিলের সামনে আমাকে বলেছেন—আপনারা ব্যবসায়ীরা মানুষজনকে ঠকানোর কাজ করেন। আসলে বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের যেভাবে মূল্যায়ন করা হয়, সেভাবে চোরদেরও হয়তো মূল্যায়ন করা হয় না। দেশের ব্যবসায়ীদের সম্মানের সঙ্গে মূল্যায়ন না করলে বিদেশি ব্যবসায়ীরাও আসবে না।’