kalerkantho

রবিবার । ২৬ বৈশাখ ১৪২৮। ৯ মে ২০২১। ২৬ রমজান ১৪৪২

রোগীর জন্য অক্সিজেন সেবায় তাঁরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রোগীর জন্য অক্সিজেন সেবায় তাঁরা

সোমবার ভোর সাড়ে ৪টা বাজতেই ‘জয় বাংলা অক্সিজেন সেবা’র স্বেচ্ছাসেবক সাদ বিন কাদের চৌধুরী সাদির ফোন বেজে উঠল। রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকার বাসিন্দা নাজনীন ওই স্বেচ্ছাসেবককে জানান, তাঁর মা মধ্যরাত থেকে শ্বাসকষ্টে ভুগছেন, অক্সিজেন প্রয়োজন। ফোন পেয়ে ‘জয় বাংলা’র সেবকরা তাঁর বাসায় দ্রুত পৌঁছে দেন অক্সিজেন সিলিন্ডার। শুধু নাজনীনই নন, অক্সিজেনের খোঁজে প্রতিদিন এমন শতাধিক ব্যক্তির কল আসে এই স্বেচ্ছাসেবকদের মোবাইল ফোনে। তবে সীমাবদ্ধতা থাকলেও গড়ে প্রতিদিন ৫০ জনেরও বেশি মানুষকে এই সেবা দিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি।

২০২০ সালের ২৫ জুন ১২টি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে ‘জয় বাংলা অক্সিজেন সেবা’ নামের সংগঠনটির যাত্রা শুরু। এখন রাজধানীতে তাদের অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ৫০। আর সারা দেশে অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে ১০০টিরও বেশি। শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশে এখন স্বেচ্ছাসেবকও তৈরি হয়েছে। রয়েছেন ১৪০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবক। এই অক্সিজেন সেবাটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, কক্সবাজার, ফেনীসহ বিভিন্ন জেলায় বিস্তৃত। ফোন করামাত্রই অক্সিজেন সেবকরা ছুটে যাচ্ছেন রোগীর কাছে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরীর উদ্যোগে ‘জয় বাংলা অক্সিজেন সেবা’ নামের সংগঠনটি পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ছাত্রলীগের উপবিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক সবুর খান কলিন্স ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডাকসুর সদস্য রফিকুল ইসলাম সবুজ।

জানতে চাইলে জয় বাংলা অক্সিজেন সেবার প্রধান সমন্বয়ক সাদ বিন কাদের চৌধুরী বলেন, ‘গেল বছরের জুন থেকে চলছে আমাদের এই সেবা কার্যক্রম। এই সেবাটি দিচ্ছি বিনা মূল্যে। আমাদের শুধু চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র দেখালেই হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এবারের করোনা রোগীদের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। আমরা দেখছি খুব দ্রুত একজনের কাছ থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়ছে এই মহামারি। আমরা আমাদের সাধ্যমতো এই সেবা দিয়ে যাচ্ছি।’

এ ছাড়া রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় একবারই নামমাত্র দামে অক্সিজেন সেবা দিচ্ছে ‘অক্সিজেন ব্যাংক’ ও ‘সংযোগ অক্সিজেন সেবা’। ‘অক্সিজেন ব্যাংক’ থেকে সেবা নিতে হলে পাঁচ হাজার টাকা জামানত রেখে তিন দিন পর্যন্ত ৫০০ টাকা অক্সিজেন রিফিল চার্জ দিয়ে সেবা নিতে হবে। তিন দিনের বেশি হলে রোগীকে গুনতে হবে দিন প্রতি ৫০০ টাকা। এ ছাড়া ‘সংযোগ অক্সিজেন সেবা’র মাধ্যমে সেবা নিতে হলে তিন দিনের জন্য গুনতে হবে তিন হাজার টাকা। আর অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিলের জন্য দিতে হবে ৫০০ টাকা।

মানবতার ফেরিওয়ালা ডা. মনিষা : এদিকে বরিশাল অফিস জানায়, বরিশালে করোনা আক্রান্ত বিপন্ন পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন ডা. মনীষা চক্রবর্তী। গত বছরের মার্চ থেকে চলছে তাঁর নিরলস সংগ্রাম। বরিশালের মানুষের কাছে মনীষার পরিচিতি বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের নেতা হিসেবে। কিন্তু করোনাকালে তিনি আবির্ভূত হয়েছেন অসহায় মানুষের সহায়ক হিসেবে। করোনার শুরুতে তিনি সতীর্থদের নিয়ে ভয়-শঙ্কা উপেক্ষা করে অক্সিজেন সিলন্ডার কাঁধে নিয়ে বিপন্ন মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটেছেন। কখনো অ্যাম্বুল্যান্সে তুলে হাসপাতালে নেওয়ার কাজে। আবার কখনো লকডাউনে খাদ্যসংকটে পড়া পরিবারগুলোর জন্য ছুটে যান রান্না করা খাবার নিয়ে। করোনাকালে জীবিকা হারানো অসচ্ছল মানুষের জন্য বিনা মূল্যে ‘মানবতার বাজার’ বসিয়েছেন তিনি। মানবতার বাজার থেকে বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছে চাল, ডাল, আলু, তেল সবজিসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। দরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে শিশুখাদ্যও। শ্রমজীবী মানুষের নেতা থেকে তাই ডা. মনীষা হয়ে উঠেছেন করোনাকালের মানবতার ফেরিওয়ালা।



সাতদিনের সেরা