kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

বিক্ষোভে উত্তাল গাইবান্ধা পুলিশি ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

প্রধান আসামি মাসুদ রানা চার দিনের রিমান্ডে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

১৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিক্ষোভে উত্তাল গাইবান্ধা পুলিশি ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদ রানার বাড়িতে আটকে রাখা অবস্থায় হাসান আলী (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে ব্যবসায়ীসহ গাইবান্ধার সর্বস্তরের মানুষ। এটিকে হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে দায়ীদের বিচার দাবিতে গতকাল সোমবার গাইবান্ধা শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও। এই ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাসুদ রানাকে গতকাল চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

শহরের ডিবি রোডে গতকাল দুপুরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বক্তারা মাসুদ রানা এবং তাঁর দুই সহযোগী রুমেন হক ও খলিলুর রহমান বাবুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তাঁরা পুলিশের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা ও গাফিলতির কঠোর সমালোচনা করেন। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করে এটিকে হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে সুষ্ঠু বিচার দাবি করে।

গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ গতকালের বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। জেলা শহরের সব ওষুধের দোকানসহ মার্কেট-শপিং মল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে ব্যবসায়ীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সদর থানার ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনসহ এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানানো হয়। কর্মসূচিতে জেলার রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠন এবং সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয়। ব্যবসায়ী হাসান আলীর স্ত্রী বীথি বেগম ও ছোট ছেলে হেদায়েতুল ইসলাম শাফিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করা হয়। পরে ব্যবসায়ী নেতা ও নিহতের স্ত্রী-স্বজনের সঙ্গে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম মতবিনিময় করেন। পুলিশ সুপার ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। এ সময় তিনি হাসান আলীর ছেলে হেদায়েতুল ইসলাম শাফিনের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন। শেষে ব্যবসায়ী নেতারা ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, এর মধ্যে দাবি মানা না হলে হরতালসহ লাগাতার নানা কর্মসূচি পালন করা হবে।

এর আগে চেম্বার সভাপতি শহিদুল ইসলাম শান্তর সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন রাজনীতিক আমিনুল ইসলাম গোলাপ, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ শরিফুল ইসলাম বাবলু, বীর মুক্তিযোদ্ধা ময়নুল ইসলাম রাজা, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য মিহির ঘোষ, জেলা জাসদ সভাপতি গোলাম মারুফ মনা ও সম্পাদক  জিয়াউল হক জনি, মনজুর আলম মিঠু, কাজী আবু রাহেন শফিউল্যাহ খোকন, গোলাম রব্বানী, জেলা যুবলীগ সভাপতি সরদার শাহীদ হাসান লোটন, গাইবান্ধা চেম্বারের সহসভাপতি মোস্তাক আহমেদ রঞ্জু, ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির জেলা সভাপতি আব্দুর রশিদ সরকার, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি রেজাউন্নবী রাজু, গাইবান্ধা নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দাশ দিপু, জেলা দোকান শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল সাহা প্রমুখ।

মামলার এজাহারে বলা হয়, জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক ও কুখ্যাত দাদন ব্যবসায়ী মাসুদ রানার কাছ থেকে জুতা ব্যবসায়ী হাসান আলী সুদের ওপর দেড় লাখ টাকা নেন। অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে তিনি সেই টাকা সময়মতো পরিশোধ করতে পারেননি। এদিকে মাসুদ রানা দেড় লাখ টাকা থেকে সুদে-আসলে ১৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকার পাওনাদার বনে যান। আর সেই টাকা আদায়ের জন্য গত ৫ মার্চ তিনি হাসানকে লালমনিরহাট থেকে জোর করে নিয়ে এসে নিজের বাড়িতে আটকে রাখেন। তাঁর ওপর চলে নির্যাতন। পরে হাসানের স্ত্রী বীথি বেগম পুলিশে অভিযোগ করলে পুলিশ কর্মকর্তারা মাসুদ রানাসহ হাসানকে ১৫ মার্চ থানায় নিয়ে আসেন।

বীথির অভিযোগ, সদর থানায় আনার পর সেখানে পরিদর্শক (তদন্ত) মজিবর রহমান ও এসআই মোশারফ হোসেন মাসুদ রানার পক্ষ নিয়ে চেক ও স্ট্যাম্পে হাসানের স্বাক্ষর নেন। পরে প্রভাবিত হয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা হাসানকে পুনরায় মাসুদ রানারই জিম্মায় দেন। আর মাসুদ রানার জিম্মায় থাকা অবস্থায়ই ১০ এপ্রিল সকালে ওই বাড়িতে বাথরুমে হাসানের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ‘পুলিশ দাদন ব্যবসায়ী মাসুদ রানার পক্ষ নিয়েছে। তারা হাসানকে নিজেদের হেফাজতে রাখলে এই ঘটনা ঘটত না। আমি এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’