kalerkantho

রবিবার । ২৬ বৈশাখ ১৪২৮। ৯ মে ২০২১। ২৬ রমজান ১৪৪২

আত্মহত্যা নয়,এটি হত্যাকাণ্ড দাবি স্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও চট্টগ্রাম   

১৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আত্মহত্যা নয়,এটি হত্যাকাণ্ড দাবি স্ত্রীর

চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক আব্দুল মোরশেদ চৌধুরী ব্যবসা করতে তিন আত্মীয়ের কাছ থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নেন। ঋণের শর্তানুযায়ী মুনাফাসহ ৩৮ কোটি টাকা তাঁদের ফেরতও দেন তিনি। তার পরও তাঁরা তাঁর কাছ থেকে টাকা দাবি করতে থাকেন। দুই দফা নির্যাতনও চালান। দেওয়া হয় প্রাণনাশের হুমকি। প্রভাবশালী ওই মহলের চাপে-হুমকিতে শেষ পর্যন্ত আত্মহননের পথ বেছে নেন তিনি। মোরশেদ চৌধুরীর স্বজনরা সিসিটিভির ফুটেজ, ব্যাংকে লেনদেনের নথিপত্র ও চিরকুট উপস্থাপন করে দাবি করছেন, এটি আত্মহত্যা নয়, হত্যা। পাঁচলাইশ থানায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করলেও পুলিশ এই প্রভাবশালীদের ধরছে না। সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করছে মৃতের পরিবার।

গত রবিবার এক সংবাদ সম্মেলন করে মৃতের স্ত্রী ইশরাত জাহান চৌধুরী মৃত্যুর প্ররোচনাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন। এর পরও অধরা আসামিদের পক্ষে গতকাল সোমবার চট্টগ্রামে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে আসামিরা নির্দোষ বলেও দাবি করা হয়।

জানতে চাইলে পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাশেম ভুইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মামলাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল পাঁচলাইশ থানার হিলভিউ আবাসিক এলাকার নাহার ভিলা নামের বাড়ি থেকে আব্দুল মোরশেদ চৌধুরীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে। বাসা থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। সেখানে লেখা ছিল, ‘আর পারছি না। সত্যি আর নিতে পারছি না। প্রতিদিন একবার করে মরছি। কিছু লোকের অমানসিক প্রেসার আমি আর নিতে পারছি না। প্লিজ, সবাই আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো। আমার জুমকে (মেয়ে) সবাই দেখে রেখো। আল্লাহ হাফেজ।’

পরদিন ৮ এপ্রিল তাঁর স্ত্রী ইশরাত জাহান চৌধুরী বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। মামলায় মোরশেদের ফুফাতো ভাই জাবেদ ইকবাল চৌধুরী, পারভেজ ইকবাল চৌধুরী, পাঁচলাইশ এলাকার সৈয়দ সাকিব নাঈম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল হক চৌধুরী রাসেল ও অজ্ঞাতপরিচয় সাত-আটজনকে আসামি করা হয়।

গত রবিবার সংবাদ সম্মেলনে ইশরাত জাহান চৌধুরী বলেন, ২৫ কোটি টাকা ধার নেয় মোরশেদ। তবে ২০১৮ সালের মধ্যে ওই ধারের টাকা লভ্যাংশসহ ৩৮ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। এর পরও তারা টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। ২০১৮ সালের মে মাসে স্বামীকে পাঁচলাইশের এমএম টাওয়ারে নিয়ে যায় সৈয়দ সাকিব নাঈম উদ্দিন। সেখানে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শারীরিক নির্যাতন, আমাকে বেঁধে ১২ কোটি টাকা অতিরিক্ত দাবি করে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে সই নেওয়া হয়েছিল। আমার ও আমার মেয়ের পাসপোর্ট নিয়ে নেওয়া হয়। সেটা এখন পর্যন্ত ফেরত দেয়নি। ২০১৯ সালেও বাসায় হামলা করা হয়। তাদের কাছে জমা থাকা চেক নিয়ে আদালতে মামলা পর্যন্ত করেছে। ইশরাত দাবি করেন, ‘এটা আমার দৃষ্টিতে মার্ডার। আমি আমার স্বামীর আত্মহননের নেপথ্যে জড়িতদের বিচার চাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার স্বামীর ফুফাতো ভাই জাবেদ ইকবাল চৌধুরী, পারভেজ ইকবাল চৌধুরী ও পাঁচলাইশ এলাকার সাকিব নাঈম উদ্দিনের কাছ থেকে ২০১১ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ব্যাবসায়িক সূত্রে ২৫ কোটি টাকা নিয়েছিলেন আমার স্বামী। তাদের লভ্যাংশসহ ৩৮ কোটি টাকা ফেরত দেন তিনি। কিন্তু তারা আরো টাকা দাবি করে আমার স্বামীকে মানসিকভাবে চাপ দিতে থাকে। পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকে।’

সিসিটিভির ফুটেজ দেখিয়ে ইশরাত জাহান চৌধুরী অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালে তাঁদের হিলভিউয়ের বাসায় হামলা করা হয়। ২৮ মের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুটি গাড়িতে করে ৮-১০ জন যুবক ভবনে প্রবেশ করছে। ইশরাত বলেন, পাওনার অতিরিক্ত অর্থ পাওয়ার পরও জামানত হিসেবে দেওয়া চেকগুলো ফেরত না দিয়ে আপস ও আলোচনার কথা বলে ২০১৯ সালে ২৭ সেপ্টেম্বর সৈয়দ সাকিব নাঈম উদ্দিন অস্ত্রের মুখে ৮৪টি চেকে জোর করে সই নেয়। ছয়টি অলিখিত ও স্বাক্ষরিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প রয়েছে তাদের কাছে।

তিনি বলেন, অত্যাচার-নির্যাতন থেকে চিরমুক্তি পেতে স্বামী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। হুমকিদাতাদের অর্থবিত্ত এবং রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে আমরা চরম অসহায়। আমি ও মেয়ের জীবন ও মানইজ্জত নিয়ে চরম শঙ্কিত রয়েছি। প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। 



সাতদিনের সেরা