kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

সদরঘাট আংশিক স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় তিন বছর লাগবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সদরঘাট আংশিক স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় তিন বছর লাগবে

দখল-দূষণে অনেকটাই সরু হয়ে গেছে বুড়িগঙ্গা। এর বিপরীতে বাড়ছে নৌযান। এ অবস্থায় সদরঘাট আংশিক স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবারের চিত্র। ছবি : কালের কণ্ঠ

আগের তুলনায় অনেকটাই সরু হয়ে গেছে বুড়িগঙ্গা। দখলে-ভরাটে কমছেই প্রশস্ততা। তবে এর উল্টো দিকে এই সরু নদীতে বেড়ে চলছে নৌযানের সংখ্যা। দেশের সবচেয়ে বড় বড় যাত্রীবাহী নৌযান চলে এই নদী দিয়ে। অথচ ঢাকা নৌ বন্দরের আয়তন রয়ে গেছে অনেকটা আগের মতোই। প্রতিদিনই রীতিমতো যানজট লেগে যায় বুড়িগঙ্গায়। ঘটে বহু দুর্ঘটনা। হয় প্রাণহানিও। কয়েক বছর আগেই বর্তমান সদরঘাটের নৌ বন্দর অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া ও একই জায়গায় সব রুটের নৌযান না রেখে তা কয়েকটি ভাগে স্থাপনের পরিকল্পনা করা হলেও এখন পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা আলোর মুখ দেখছে না।

বিশেষজ্ঞরা জানান, আগে যখন বর্তমান সদরঘাট ঘিরে লঞ্চ টার্মিনাল ছিল তখন এতসংখ্যক কিংবা এত বড় বড় লঞ্চ ছিল না। খুবই ছোট আকৃতির লঞ্চ ছিল এবং সংখ্যাও ছিল অনেক কম। আবার নদীটিও ছিল প্রশস্ত। ফলে এখানে যেসব নৌযান চলত তাতে কোনো সমস্যা হতো না। যাত্রীবাহী লঞ্চ, পণ্যবাহী কার্গো-ট্রলার কিংবা ছোট বড় নৌকাও চলতে পারত অনায়াসে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টে যাওয়ায় এখানে আর লঞ্চঘাট রাখার মতো পরিস্থিতি নেই। এখন একেকটি লঞ্চ এই সদরঘাটে নোঙর করা কিংবা ঘোরানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকে। এসব কারণে সবচেয়ে জরুরি হয়ে পড়েছে এই ঘাট অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া বা ক্যাটাগরি ভাগ করে অন্যান্য এলাকায়ও ঘাট তৈরি করা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ২৯ জুন একটি লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যায় আরেকটি লঞ্চ। ওই ঘটনায় ৩৪ যাত্রীর প্রাণহানি ঘটে। এর আগে ও পরে সদরঘাটে লঞ্চের চাপায় ডুবে যায় বেশ কিছু খেয়া নৌকা। যা নিয়ে এলাকাবাসী, নৌকার মাঝি ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে মাঝেমধ্যেই অসন্তোষ তৈরি হয়।

আরেক বিশেষজ্ঞ বলেন, শুধু দুর্ঘটনাই নয়, বুড়িগঙ্গা দূষণের অন্যতম কারণও এই লঞ্চ। প্রতিদিন শত শত লঞ্চ থেকে নানা ধরনের পলিথিন, প্লাস্টিক ও জ্বালানি অপসারণ করা হয় বুড়িগঙ্গায়।

অবশ্য এ বিষয়ে ইতিবাচক খবর জানিয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমান সদরঘাট থেকে লঞ্চ যেসব রুটে চলাচল করে তার একটি অংশ সরিয়ে পোস্তগোলা ব্রিজের কাছে নিয়ে যাওয়া হবে। এ জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একটি প্রকল্প পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে, যা অনেক দূর এগিয়েছে। টেন্ডারপ্রক্রিয়াও শুরু হয়ে যাবে। আশা করা যায়, তিন বছরের মধ্যেই এই কাজ শেষ করে ওই নতুন ঘাট ব্যবহার উপযোগী করা যাবে।’

ঢাকা নৌ বন্দর কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ অভ্যন্তীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআইডাব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মো. গুলজার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ঢাকা সদরঘাট থেকে প্রতিদিন দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটে প্রায় ১০০টি যাত্রীবাহী নৌযান যাতায়াত করে। এ ছাড়া অন্যান্য নৌযানও চলাচল করে প্রতিদিন।