kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

মাটির কোলে একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাটির কোলে একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা

ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, জন্ম : ২৬ জানুয়ারি ১৯৪৬, মৃত্যু : ৭ এপ্রিল ২০২১

একুশে পদকপ্রাপ্ত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা, লোকসংগীত শিল্পী ও গবেষক ইন্দ্রমোহন রাজবংশী আর নেই। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বুধবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দরদি কণ্ঠে গাওয়া হাজারো গানের জনপ্রিয় এই কণ্ঠশিল্পীর মৃত্যুতে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।

গত বৃহস্পতিবার শ্বাসকষ্ট নিয়ে মহাখালীর মেট্রোপলিটন মেডিক্যাল সেন্টারে ভর্তির পর নমুনা পরীক্ষায় তাঁর করোনাভাইরাস পজিটিভ রিপোর্ট আসে। পরে মালিবাগের আরেকটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। গত সোমবার বিএসএমএমইউতে ভর্তির পর থেকে তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। তিনি দীর্ঘদিন থেকে উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন।

ইন্দ্রমোহন রাজবংশীর স্ত্রী দীপ্তি রাজবংশীও করোনায় ইন্দ্রমোহন রাজবংশীর স্ত্রী দীপ্তি রাজবংশীও করোনায় আক্রান্ত বলে জানা গেছে। এই দম্পতি দুই সন্তানের জনক; ছেলে দীপংকর রাজবংশী থাকেন অস্ট্রেলিয়া ও মেয়ে সংগীতা রাজবংশী থাকেন জাপানে। গতকাল বিকেল ৪টায় রাজারবাগ কালীমন্দির মহাশ্মশানে তাঁকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয়। এরপর সেখানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

ইন্দ্রমোহন রাজবংশীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ শোক প্রকাশ করেছেন।

ইন্দ্রমোহন রাজবংশী ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, জারি, সারি, মুর্শিদি গান চর্চার পাশাপাশি লোকগান সংগ্রহ ও গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। ১৯৬৭ সালে ‘চেনা অচেনা’ চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর প্লেব্যাক জীবন শুরু করেন। মুক্তিযুদ্ধকালে যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে। দীর্ঘদিন তিনি সংগীত কলেজে লোকসংগীত বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ লোকসংগীত পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা তিনি।

ইন্দ্রমোহন রাজবংশী স্বাধীনতার আগেই গেয়েছিলেন উজ্জীবনী গান ‘আরে ও দেশের মাঝি ভাই, জয় বাংলা বলিয়া দেশের পাল উড়াই’। গানটি গ্রামোফোন রেকর্ডে ধারণ করা হয়েছিল। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে গানে গানে আহ্বান জানালেন ‘ও বাঙালি ভাই কে কে যাবি আয় রে, চল যাই রে আয় বাঙালি মুক্তিসেনা বাংলার মান বাঁচাই’। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণার জন্য গাইলেন জাগরণের গান ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন করিলি রে বাঙালি, তোরা ঢাকা শহর রঙে রাঙালি’, ‘দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা’ প্রভৃতি।

তাঁর আরেকটি জনপ্রিয় গান ছিল ‘মাটির কোলে খাঁটি মানুষ/খুঁজে পাওয়া দায় রে/জীবন নদীর কূলকিনারা নাই/ সুখের তরী ডুবে গেছে/দুঃখের সাথী নাই রে চোখের জলে নদী বইয়া যায়।’ কোটি মানুষের হৃদয় জয় করা শিল্পী ফিরে গেলেন মাটির কোলেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা