kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

রূপগঞ্জ থেকে তিতাসের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক ও রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রূপগঞ্জ থেকে তিতাসের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন শুরু

ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযান শুরু করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। গতকাল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবৈধভাবে গ্যাস বেলুন ব্যবহারকারীদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মধ্য দিয়ে এই অভিযান শুরু হয়েছে। রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নে শুরু হওয়া এ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী ইকবাল মো. নূরুল্লাহ।

গতকাল দুপুর ১টায় শুরু হওয়া এ অভিযানে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের মাঝিনা ও চনপাড়া এলাকার প্রায় ৪০টি গ্রামের ২০০ বৈধ গ্যাস সংযোগসহ চার হাজারের বেশি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এসব এলাকায় তিতাসের গ্যাস সংরক্ষণ করার জন্য প্লাস্টিকের বড় বড় বেলুন ব্যবহার করা হতো। এরপর এসব বেলুন থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস ব্যবহার করা হতো। তবে এভাবে গ্যাস ব্যবহারের কারণে জনজীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, রূপগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জের অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান তিতাসের গ্যাসলাইন অবৈধভাবে ব্যবহার করে আসছিল। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছিল, তেমনই ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অসমতা তৈরি হচ্ছিল। যাঁরা বৈধভাবে গ্যাসের লাইন নিয়েছিলেন, তাঁদের সঙ্গে অবৈধভাবে ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক দূরত্ব বেড়ে যায়। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছিল। তিতাস কর্তৃপক্ষের কাছেও এ নিয়ে অভিযোগ আসছিল।

গতকাল অভিযান পরিচালনা হওয়া এলাকা সম্পর্কে তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী ইকবাল মো. নূরুল্লাহ বলেন, ‘এই এলাকায় যখন পাইপলাইন দেওয়া হয়. তখন মাত্র ২০০ বৈধ গ্রাহক ছিলেন। কিন্তু সেখানে চার থেকে পাঁচ হাজারের মতো গ্রাহক অবৈধ সংযোগ নিয়েছেন। গ্রাম থেকে গ্রামে অবৈধ গ্যাস বেলুন ব্যবহার করা হচ্ছে। আর যে লাইনটি ওই গ্রামে টানা হয়েছে তা তিন ইঞ্চি ব্যসবিশিষ্ট লাইন, ২০১২ সালে এটি টানা হয়। এখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই গ্রামে দুর্ঘটনা রোধে বৈধ-অবৈধ সব গ্যাসলাইন বিচ্ছিন্ন করা হবে। মানুষ মেরে ফেলার চেয়ে এখানে গ্যাস সংযোগ না দেওয়াই ভালো।’

আলী ইকবাল মো. নূরুল্লাহ আরো বলেন, ‘গ্যাস আইনে বলা আছে যে জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্যাস সংযোগ না-ও দিতে পারেন। বর্তমানে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের মাঝিনা ও চনপাড়া এলাকার সব গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। চার হাজারের বেশি অবৈধ সংযোগ ছাড়াও এসব গ্রামে কতসংখ্যক অবৈধ বেলুন আছে, তার কোনো হিসাব নেই। আমরা অনুমোদন নিয়ে হয়তো এখানে গ্যাস সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেব।’ এসব গ্রাহকের বিকল্প হিসেবে এলপিজি গ্যাস ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তিনি। গতকালের অভিযানে আরো উপস্থিত ছিলেন রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ নুসরাত জাহান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফিফা খাঁন, ভিজিল্যান্সের জিএম সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জের ডিএমডি প্রকৌশলী মমিনুল হক, রূপগঞ্জ থানার ওসি মহসিনুল কাদির, সোনারগাঁও কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক ডা. প্রদীপ চন্দ্র মণ্ডল, ব্যবস্থাপক মিসবাহ-উর রহমান প্রমুখ।

 



সাতদিনের সেরা