kalerkantho

শুক্রবার । ৪ আষাঢ় ১৪২৮। ১৮ জুন ২০২১। ৬ জিলকদ ১৪৪২

মিয়ানমারে অভ্যুত্থান ও দমন-পীড়ন

১১ সেনা কর্মকর্তা ও দুই ইউনিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা ইইউ-যুক্তরাষ্ট্রের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১১ সেনা কর্মকর্তা ও দুই ইউনিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা ইইউ-যুক্তরাষ্ট্রের

ছবি: ইন্টারনেট

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান ও গণবিক্ষোভে হামলা চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে দেশটির সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফসহ ১১ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গতকাল সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউরোপিয়ান কাউন্সিল এ তথ্য জানায়।

এদিন যুক্তরাষ্ট্রও মিয়ানমারের সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তারা মিয়ানমার পুলিশপ্রধান থান হ্লাইং এবং ব্যুরো অব স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল অং সোয়েসহ সেনাবাহিনীর দুটি ইউনিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সেনাবাহিনীর ইউনিট দুটি হচ্ছে ৩৩তম ও ৭৭তম লাইট ইনফ্যানট্রি ডিভিশনস (এলআইডি)। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারিস অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল বিভাগ (ওএফএসি) এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

মিয়ানমারে জান্তা সরকারের পতন ঘটাতে এবং এনএলডি নেতা অং সান সু চিসহ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে আন্দোলন চলছে। আন্দোলন দমাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গুলি চালাতেও পিছপা হচ্ছে না। এ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত আড়াই শ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্তত দুই হাজার ৬০০ জনকে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো মিয়ানমারকে সতর্ক করে আসছে অভ্যুত্থানের গোড়া থেকেই।

মিয়ানমার বিষয়ে গতকাল ব্রাসেলসে ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে মিয়ানমারে অভ্যুত্থান ও দমনপীড়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

পরে ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর (তাতমাদও) সর্বোচ্চ র্যাংকের ১১ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এদের মধ্যে সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ মিন অং হ্লাইং এবং ডেপুটি কমান্ডার ইন চিফ সোয়ে উইন রয়েছেন। এ ছাড়া গত বছরের নির্বাচনের ফল বাতিল করার জন্য ইউনিয়ন ইলেকশন কমিশনের নতুন চেয়ারপারসনকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। ইইউর এ নিষেধাজ্ঞার ফলে ওই ১১ কর্মকর্তা ইইউভুক্ত এলাকায় ভ্রমণ করতে পারবেন না এবং তাঁদের ইইউ সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হবে। এ ছাড়া ইইউভুক্ত দেশগুলোর কোনো নাগরিক বা কম্পানি তাদের আর্থিক সুবিধা দিতে পারবে না। মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের পর জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত নেওয়া ইইউর সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ এটি।

বৈঠক শেষে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস সাংবাদিকদের জানান, ইইউ মিয়ানমারে সহিংসতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সেখানে মানুষ হত্যার সংখ্যা অসহ্যের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এ কারণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করে আমাদের উপায় নেই।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারের জনগণকে শাস্তি দিতে চাই না, কিন্তু যারা সেখানে চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে, তাদের শাস্তি পেতে হবে।’ তবে মিয়ানমার সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও ইইউ করছে বলে জানান তিনি। 

এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের ওপর আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যায় কি না সে ব্যাপারে পর্যালোচনা অব্যাহত রাখবে ইইউ। তবে এসব পদক্ষেপ যেন মিয়ানমারের সাধারণ জনগণের ওপর কোনো প্রভাব না ফেলে, সেদিকেও নজর রাখা হবে। মিয়ানমারের জনগণ এবং দেশটির গণতান্ত্রিক বিবর্তনের প্রতি ইইউর সমর্থন সব সময় থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গতকাল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমার পুলিশপ্রধান থান হ্লাইং এবং ব্যুরো অব স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল অং সোয়েসহ সেনাবাহিনীর দুটি ইউনিট ৩৩তম ও ৭৭তম লাইট ইনফ্যানট্রি ডিভিশনসের (এলআইডি) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা, শান্তি ও আইনের শাসন ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের সঙ্গে মিয়ানমারের পাশে থাকবে। মিয়ানমারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশটিতে অভ্যুত্থান ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার বজায় রাখবে। সূত্র : ডয়চে ভেলে।

 



সাতদিনের সেরা