kalerkantho

শুক্রবার । ৪ আষাঢ় ১৪২৮। ১৮ জুন ২০২১। ৬ জিলকদ ১৪৪২

মিয়ানমারে রাজপথে আরো ১৭ মৃত্যু

জান্তার বিরুদ্ধে বিপ্লবের ডাক

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিয়ানমারে রাজপথে আরো ১৭ মৃত্যু

ছবি: ইন্টারনেট

মিয়ানমারে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে বিপ্লবের ডাক দিয়েছেন দেশটির ‘অস্থায়ী’ বেসামরিক সরকারের প্রধান মান উইন খায়িং থান। তিনি বলেছেন, সব বিভেদ ভুলে জান্তা সরকারকে বিতাড়িত করার এটিই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এদিকে দেশটির রাজপথে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহত রেখেছে জান্তা সরকার। গতকাল রবিবারও তিনটি শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১৭ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।

জান্তা সরকারের পতন ঘটাতে এবং সু চিসহ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে প্রায় দেড় মাস ধরে আন্দোলন চলছে মিয়ানমারের রাজপথে। আন্দোলন দমাতে গুলি ছুড়তেও পিছপা হচ্ছে না জান্তা সরকার। জাতিসংঘের হিসাবে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এ পর্যন্ত অন্তত ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রায় দুই হাজার ব্যক্তিকে।

সু চির নেতৃত্বাধীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) অনেক নেতাই গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন। আত্মগোপনে থেকেই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁরা। এ জন্য জান্তা সরকারের সমান্তরালে বেসামরিক সরকারও গঠন করেছেন তাঁরা। ‘অস্থায়ী’ এই সরকারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘কমিটি ফর রিপ্রেজেন্টিং পাইদাংসু লুত্তাও’ (সিআরপিএইচ)। সমান্তরাল সরকার হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের চেষ্টা করছে এই কমিটি। এর প্রধান হিসেবে আছেন মান উইন খায়িং থান। গতকাল এক ফেসবুক বার্তায় তিনি বলেন, ‘জাতির অন্ধকার সময়ে ধৈর্যের পরীক্ষা চলছে। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষ দশকের পর দশক ধরে জান্তা সরকারের হাতে নির্যাতিত হয়ে আসছে। নির্যাতিত এসব মানুষ অবশ্যই বিপ্লবের দাবিদার।’ তিনি আরো বলেন, ‘অতীতে আমাদের মধ্যে ভেদাভেদ ছিল। এখন সময় এসেছে সেই ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের হাতে হাত রাখার।’

জান্তা সরকারের দৃষ্টিতে সিআরপিএইচ অবৈধ একটি সংগঠন। কোনো ব্যক্তি এই সংগঠনে সম্পৃক্ত হলে কিংবা সহযোগিতা করলে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হবে বলেও হুমকি দিয়েছে জান্তা সরকার।

এদিকে দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনের লেয়িং থারিয়ার এলাকায় গতকাল নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১৫ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। ইয়াঙ্গুনের পার্শ্ববর্তী বাগো শহরে প্রাণ গেছে এক তরুণের। গুলিতে আরেক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে জেড পাথরের খনির জন্য পরিচিত হপাকান্ত শহরে।

গত নভেম্বরের নির্বাচন নিয়ে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর টানাপড়েন চলছিল। এর মধ্যে ১ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। গ্রেপ্তার করা হয় স্টেট কাউন্সেলর সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ এনএলডির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের। জারি করা হয় এক বছরের জরুরি অবস্থা। সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এক বছর পর নতুন নির্বাচন দেওয়া হবে। তবে সাধারণ মানুষ এই প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করছে না। সূত্র : বিবিসি।



সাতদিনের সেরা