kalerkantho

রবিবার। ২৮ চৈত্র ১৪২৭। ১১ এপ্রিল ২০২১। ২৭ শাবান ১৪৪২

ডাব্লিউএইচও বলছে

করোনা মোকাবেলায় এশীয় নারীরা এগিয়ে

শামসুন নাহার

৮ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা মোকাবেলায় এশীয় নারীরা এগিয়ে

কভিড-১৯ মোকাবেলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। মহামারি কাটিয়ে ওঠার জন্য এবং সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে অধিকতর সমতা নিশ্চিত করার জন্য তাঁদের ক্ষমতায়ন অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে। আঞ্চলিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা খাতে নারীর পেশাদার অংশগ্রহণ সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্যের নেতৃত্বে নারীর সংখ্যা ৫০ শতাংশও নয়। স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি অন্য খাতগুলোয় এবং বৈশ্বিক মহামারি মোকাবেলা ও এ থেকে মুক্তি লাভের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধাপে নারী নেতৃত্ব বাড়াতে এবং নারীকণ্ঠ এগিয়ে নিতে দ্রুত ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

মহামারি মোকাবেলাকালে এই অঞ্চলে নারীর ক্ষমতায়নে জেন্ডারসংশ্লিষ্ট সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। যেমন—কভিড-১৯ পরীক্ষা ও চিকিৎসায় নারীদের ন্যায্য অধিকার দিতে কাজ করা হয়েছে। গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে নারী ও মেয়েদের পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতে কাজ করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা রোধে জড়িত সামাজিক সহযোগিতা সেবা সচল রাখতে এবং এসব খাতে পর্যাপ্ত সম্পদের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ চেষ্টা বজায় রাখা হয়েছে। কিছু দেশে কথিত লকডাউন চলাকালে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার নারীদের হেল্পলাইনে ফোন করার হার ৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে। এতেই প্রমাণ হয়ে যায়, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সহযোগিতা সেবা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু রাখা কতটা জরুরি।

মহামারির মধ্যে তো বটেই, এই সংকট কেটে যাওয়ার পরও যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখা এবং সেবার পরিধি বাড়ানোর প্রক্রিয়া চালু রাখা প্রয়োজন। এই অঞ্চলে বহুদিন ধরেই যৌন ও প্রজনন বিষয়ক বেশির ভাগ সেবা চালু আছে। এর পরও যেসব ফাঁক রয়ে গেছে, সেগুলো অবশ্যই চিহ্নিত করে নিরসনের উদ্যোগ নিতে হবে, যেন কোনো নারী বা মেয়ে সেবার বাইরে না থাকে। নারী ও মেয়েদের সংকটগুলো নিরসন করতে এবং তাদের পুষ্টিচাহিদা পূরণের পথে থাকা সব বাধা দূর করতে লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা নিতে গিয়ে প্রত্যেক নারী ও মেয়ে যেন অবশ্যই স্বস্তি ও নিরাপত্তা অনুভব করে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

কভিড-১৯ টিকা প্রদান কর্মসূচিতে নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। এই অঞ্চলকে পোলিওমুক্ত করার মর্যাদা অর্জন এবং তা ধরে রাখা, প্রসূতি ও নবজাতকদের ধনুষ্টঙ্কারের মতো জাতীয় সমস্যা নির্মূল করাসহ বহু টিকাদান কর্মসূচির সাফল্য অর্জনের অগ্রভাগে আছেন নারীরা।

 

 

মন্তব্য