kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

জমির বিরোধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল    

৭ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জমির বিরোধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা!

কৃষক আবু জামান

মামলার বিবরণে নেই তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ। কথিত অপরাধের কোনো দায় তাঁর নয়। এর পরও কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের গজারিয়া গ্রামের নিরীহ কৃষক আবু জামান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আসামি। আর মামলাটি দায়ের করা হয়েছে কটিয়াদী থানায়। মামলা দায়েরের পর পাঁচ মাস পার হলেও পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়নি। নানা কারণে থেমে আছে তদন্ত।

এ অবস্থায় ডিজিটাল জগৎ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ কৃষক আবু জামান মামলার ‘গ্যাঁড়াকলে’ পড়ে নাস্তানাবুদ হচ্ছেন। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার ভয়ে পরিবার-পরিজন ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এলাকাবাসী বলছে, একটি প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে বাড়ির জায়গাজমি নিয়ে পুরনো বিরোধের জেরে তাঁকে আসামি করা হয়েছে।

কটিয়াদী মডেল থানায় গত বছরের ১৯ অক্টোবর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কটিয়াদী পশ্চিমপাড়ার মিজানুর রহমান শিকদার বাদী হয়ে দুজনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১৯/২৮৩। আসামিরা হচ্ছেন বাজিতপুর উপজেলার বিলপাড় গজারিয়া গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে মো. আল আমিন (২৫) ও গজারিয়া গ্রামের মৃত হাছেন আলীর ছেলে আবু জামান (৫০)।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, বাদীর পিতা, বিলপাড় গজারিয়ার ‘শিকদার মডেল একাডেমি’র অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন ওরফে গেনু শিকদারের বিরুদ্ধে ১ নম্বর আসামি আল আমিন তাঁর ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস দিয়ে বাদীর পরিবারের সামাজিক মান-মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছেন। মামলার ২ নম্বর আসামি আবু জামানের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ করা হয়নি। তবে বলা হয়েছে, ‘আসামিরা এলাকায় বাদীর পিতার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলে মানহানি করছেন’।

এ অবস্থায় মামলার আসামি হয়ে গত পাঁচ মাস পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আবু জামান। আবু জামানের স্ত্রী রেহানা খাতুন বলেন, ‘বাবার জন্য ছোট্ট মেয়েটা কেঁদে বুক ভাষায়। কোনো অপরাধ না করেও কেন আমার স্বামীকে এভাবে পালিয়ে থাকতে হবে?’ ‘অ্যানালগ’ মানুষ আবু জামানের ‘ডিজিটাল’ আইনের জাঁতাকলে পড়ে নাস্তানাবুদ হওয়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে আসে অনেক তথ্য। আসামি আবু জামানের বাড়ি বাজিতপুরের গজারিয়া গ্রামে। বাদী ও তিনি পরস্পর প্রতিবেশী। বাড়ির জায়গাজমি ও সীমানা নিয়ে দুই পরিবারের বিরোধ কয়েক দশকের। পুরনো বিরোধের কারণেই ডিজিটাল মামলার ‘সাজানো’ আসামি হয়েছেন আবু জামান।

আবু জামান কালের কণ্ঠকে জানান, প্রাইমারি স্কুল ডিঙাতে পারেননি তিনি। অ্যানড্রয়েড ফোন বা ফেসবুক সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা নেই। যে আল আমিন তাঁর ফেসবুকে গিয়াস উদ্দিন ওরফে গেনু শিকদারের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তাঁকেও চেনেন না তিনি। অথচ মামলায় তাঁকে অপরাধী বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশও তদন্তের নামে সময় নষ্ট করছে। পুলিশ সুষ্ঠু তদন্ত করলে তিনি যে ষড়যন্ত্রের শিকার, তা প্রমাণিত হবে।

কটিয়াদী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, মামলাটির অভিযোগের ফরেনসিক রিপোর্ট এসেছে কি না বা আদালতে অভিযোগপত্র পাঠানো হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না। এই বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাই ভালো বলতে পারবেন। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও কটিয়াদী থানার এসআই তোফায়েল আহম্মেদ কালের কণ্ঠকে জানান, এখনো অভিযুক্ত ১ নম্বর আসামি আল আমিনের মোবাইল ফোনসেটটি জব্দ করা যায়নি। ফলে সিআইডির কাছে পরীক্ষার জন্য কিছু পাঠানো সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য