kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত

রোহিঙ্গাদের কথা ভুলে যায়নি বিশ্বসম্প্রদায়

কূটনৈতিক প্রতিবেদক    

৭ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোহিঙ্গাদের কথা ভুলে যায়নি বিশ্বসম্প্রদায়

কক্সবাজার সফর করে আশ্রিত রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের কূটনৈতিক মিশনপ্রধানরা। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ওই মিশনপ্রধানরা গত বুধ ও বৃহস্পতিবার কক্সবাজার সফর করেন।

সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শরণার্থী বা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা ও আশ্রয়দানকারী জনগোষ্ঠীর কথা ভুলে যায়নি। শরণার্থীদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে ও স্থায়ীভাবে ফিরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মিয়ানমারকে উৎসাহিত করতে আমরা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে অব্যাহতভাবে কাজ করব। সেই লক্ষ্যে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর, অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা সবাইকে মুক্তি এবং সাংবাদিক, আন্দোলনকর্মী ও অন্যদের প্রতি আক্রমণ বন্ধে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো সবার প্রতি আমরা জোর সমর্থন জানাচ্ছি। এখন সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযম দেখাতে হবে এবং অতিরিক্ত সহিংসতা থেকে বিরত থাকতে হবে।’

জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আমাদের সহায়তা আরো ত্বরান্বিত করা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করার উদ্দেশ্যে আমরা এই যৌথ মিশনে যুক্ত হয়েছি। কক্সবাজারে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রাখাইন রাজ্য থেকে বিতাড়িত জনগোষ্ঠীকে অতিসত্বর ফিরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে জাপান কাজ করে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘এই সংকটের স্থায়ী সমাধান বের করা একটি অবারিত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক গঠনের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। আমরা দৃঢ়ভাবে আশা করি, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রমসহ সব সেবা কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে।’

অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জেরেমি ব্রুয়ার বলেন, ‘বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি আমরা আমাদের জোরালো সহায়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করতে চাই। কভিডের ফলে গত বছর এই কক্সবাজারসহ সমস্ত জায়গায় অনেক নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘সংক্রমিতের সংখ্যার স্থিতিশীলতা এবং টিকা কার্যক্রম চালু হওয়া সত্ত্বেও মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো যাতে রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দানকারী জনগোষ্ঠীর জন্য অত্যাবশ্যক সহায়তা দিতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে আমাদের আগের যেকোনো সময়ের মতোই বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষগুলোর সঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।’ ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এই সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সহযোগিতা দিয়ে আসছে। সেই সময়ে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দানকারী জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ২৪ কোটি ডলারেরও বেশি, জাপান ১৪ কোটি ডলার এবং বাংলাদেশের আশ্রয়দানকারী জনগোষ্ঠীসহ ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ১২০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে।

মন্তব্য