kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

মোদির ঢাকা সফর

বাণিজ্য, নৌ, পানিসম্পদ সচিবদের বৈঠকের প্রস্তুতি

আগামী ২৬ ও ২৭ মার্চ মোদির বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে

মেহেদী হাসান   

৬ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাণিজ্য, নৌ, পানিসম্পদ সচিবদের বৈঠকের প্রস্তুতি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন বাংলাদেশ সফরের আগে বাণিজ্য, নৌপরিবহন ও পানিসম্পদ সচিব পর্যায়ে বৈঠকের চেষ্টা চালাচ্ছে দুই দেশ। আগামী ২৬ ও ২৭ মার্চ মোদির বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে। এই সফর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা সফর করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের ফলাফল বিষয়ে জানতে চাইলে নয়াদিল্লির একটি সূত্র জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এটি ছিল বাংলাদেশে জয়শঙ্করের দ্বিতীয় সফর। এর আগে ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে তিনি বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। মূলত তাঁর ওই সফর ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের প্রস্তুতির অংশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

ঢাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আলোচনার সময় সেখানে উপস্থিত এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সীমান্ত অবকাঠামো, অভিন্ন নদ-নদীর পানিবণ্টন, মুজিববর্ষ ও মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে সম্ভাব্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ অনিষ্পন্ন সব ইস্যুতে আলোচনা করেছেন।

ভারতীয় সূত্রগুলো বলছে, অনিষ্পন্ন ইস্যুগুলোর উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে তারা শিগগিরই বাণিজ্য, নৌপরিবহন ও পানিসম্পদ সচিব পর্যায়ে বৈঠক করবে। মোদির আসন্ন সফরের আগেই ওই বৈঠকগুলো করার চেষ্টা চলছে।

ঢাকায় গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি ইস্যুতে ভারত সরকারের অবস্থান পরিবর্তন হয়নি।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মোদির সফরে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সম্মতি ছাড়া ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সই করবে না। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিস্তা চুক্তি সই করার ব্যাপারে সম্মতি জানাননি। আগামী ২৭ মার্চ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই অবস্থায় তিস্তা চুক্তি সইয়ের ব্যাপারে কোনো অগ্রগতির সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে তিস্তা ছাড়াও মনু, মুহুরি, দুধকুমার, ধরলা, গোমতী ও খোয়াই নদীর পানিবণ্টন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। দুই দেশের পানিসম্পদসচিব পর্যায়ে বৈঠক হলেই ওই নদীগুলোর পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে অগ্রগতি হতে পারে।

জানা গেছে, ওই নদীগুলোর পানিবণ্টন চুক্তির খসড়া নিয়ে দুই দেশ কাজ করছে। ওই খসড়া দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপর বাংলাদেশ জোর দিচ্ছে।

এদিকে আগামীকাল ও পরশু বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যসচিব পর্যায়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি বাড়লেও স্থলবন্দর সমস্যা, পাটের ওপর ‘অ্যান্টিডাম্পিং’ শুল্কসহ নানা অশুল্ক বাধা ও সমস্যার অভিযোগ করছেন এ দেশের ব্যবসায়ীরা। বাণিজ্যসচিব পর্যায়ের বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।

সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তির জন্য একটি যৌথ সমীক্ষা করতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছিলেন। দ্রুত সেই সমীক্ষা শুরু করতে চায় বাংলাদেশ।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে আরো বড় পরিসরে ‘কানেকটিভিটির’ কথা বলেছেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, কানেকটিভিটি নিয়ে ভারতের আগ্রহকে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে দেখছে। নরেন্দ্র মোদির আসন্ন সফরে ঢাকা ও দার্জিলিংয়ের মধ্যে রেল সংযোগ চালু হবে। এ ছাড়া মেহেরপুরের মুজিবনগর দিয়ে ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক সড়ক চালু হচ্ছে। অতীতের কানেকটিভিটিগুলো সচল করার পাশাপাশি নতুন নতুন কানেকটিভিটি নিয়ে দুই দেশ কাজ করতে চায়।

মন্তব্য