kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

ছাত্রলীগে সংঘর্ষ

রাজনৈতিক সব কর্মকাণ্ড চমেক ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৫ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজনৈতিক সব কর্মকাণ্ড চমেক ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ

গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের (চমেক) প্রধান ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় কলেজটিতে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এসংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ এবং কলেজসংশ্লিষ্ট এলাকায় সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ যেকোনো সভা, সমাবেশ, মিছিল, মিটিং, স্লোগান ইত্যাদি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।

গত মঙ্গলবারের ঘটনায় উভয় পক্ষের আহত সাতজনের মধ্যে একজনকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সংঘর্ষে ছাত্রাবাসের কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুরের পাশাপাশি শিক্ষা উপকরণ ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনার পরের দিন গত বুধবার চমেকে একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। কলেজে সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে ওই সভায় তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে কলেজ সূত্র জানায়। কলেজে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণার পাশাপাশি অন্য দুটি সিদ্ধান্ত হলো—যেসব ইন্টার্ন চিকিৎসক ছাত্রাবাস/ছাত্রীনিবাসে অবস্থান করছেন অবিলম্বে তাঁদের ছাত্রাবাস/ছাত্রীনিবাসের আসন ছেড়ে দিতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মে-২০২০ ও জুলাই-২০২০ পরীক্ষার্থী (পেশাগত) ছাড়া ৪ মার্চের মধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হোস্টেল ত্যাগ করতে হবে।

চমেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাহেনা আক্তার স্বাক্ষরিত এক আদেশে গতকাল এই তিনটি সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

জানতে চাইলে চমেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাহেনা আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত এক মাসে দুইবার মারামারি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। হোস্টেলে যাদের থাকার কথা তারা (সাধারণ শিক্ষার্থী) ছাড়া বহিরাগত কেউ অবস্থান করছে কি না তা আগামী শনিবার সরেজমিনে দেখব।’

চমেক ছাত্রসংসদের সাবেক ভিপি বর্তমানে বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১৯৯৩ সালে ক্যাম্পাসে ট্রিপল মার্ডারের পর কিছুদিন ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও এর আগে-পরে কখনো ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়নি। তবে মনে হচ্ছে, এটাও সাময়িক।’

এদিকে চমেক ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণার পর তা নিয়ে ছাত্রলীগের বিবদমান দুই পক্ষের নেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিষয়ে চমেক ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। ছয়-সাত মাস ধরে ক্যাম্পাসকে যারা অস্থিতিশীল করতে চেষ্টা করছে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ নিষিদ্ধের কারণে ছাত্রলীগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমাদের আশঙ্কা, এতে করে মৌলবাদীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।’

ক্যাম্পাসে আরেক পক্ষের ছাত্রলীগ নেতা মো. খোরশেদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগই একমাত্র সক্রিয়। এখানে অন্য কোনো ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম নেই। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হওয়ার খেসারত দিতে হবে ছাত্রলীগকে। কী কারণে সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তা আমরা অবগত নই।’

মন্তব্য