kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

লিচুর রাজ্যে মুকুলের সুবাস

এমদাদুল হক মিলন, দিনাজপুর   

৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লিচুর রাজ্যে মুকুলের সুবাস

বসন্তের বাতাসে দোল খাচ্ছে গাছপালা। গাছে গাছে কচি পাতার মুখে থোকায় থোকায় আসতে শুরু করেছে লিচুর সোনালি মুকুল। ‘লিচু রাজ্য’ হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরের পথেঘাটেও এখন লিচুর মুকুলের সুবাস। এখন সারা দেশে কমবেশি লিচু চাষ হলেও দিনাজপুরের লিচুর রয়েছে আলাদা কদর। রসালো এই লিচু অনেকের কাছে রসগোল্লা হিসেবে পরিচিত। এবার মধুমাসের ফল লিচুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

লিচু চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর দিনাজপুরের লিচু দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে। লিচু লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় প্রতিবছরই জেলায় লিচুর চাষ বাড়ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না এলে এবারও দিনাজপুরে রেকর্ড পরিমাণ লিচুর ফলন হবে।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্র মতে, এবার দিনাজপুর জেলায় চার হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তৌহিদুল ইকবাল জানান, চলতি বছরে জেলায় চার হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানকার লিচু সুস্বাদু ও মিষ্টি হওয়ায় দেশব্যাপী এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দিনাজপুর থেকে অনেক আগে একবার মধ্যপ্রাচ্যে লিচু রপ্তানি করা হয়েছিল, পরে আর তা সম্ভব হয়নি। কারণ এটি দ্রুত পচনশীল পণ্য। এত অল্প সময় পাওয়া যায় যে রপ্তানি করা খুব কঠিন। তবে লিচুর মান ও উৎপাদনের পরিমাণসহ নানা দিক বিবেচনা করে লিচু সংরক্ষণাগার, প্রক্রিয়াকরণ এবং লিচু গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, যাতে লিচু দিয়ে বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করে দেশ-বিদেশে পাঠানো যায়।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে লিচুগাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। আশা করা হচ্ছে, আগের বছরগুলোর চেয়ে এবার ফলন ভালো হবে। কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছেন। কোন সময় কোন কীটনাশক, বালাইনাশক ব্যবহার করা উচিত সেই পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

দিনাজপুরের লিচুর মধ্যে চায়না থ্রি, বেদানা, বোম্বাই ও মাদ্রাজি, কাঁঠালি উল্লেখয্যেগ্য। আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে এবার এসব প্রজাতির লিচুর বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিনাজপুরের প্রতিটি বাড়ির বসতভিটায় বা আঙিনার লিচুগাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। মুকুলের সঙ্গে ফুলে ফুলে মৌমাছির গুঞ্জন আর ঝিঁঝি পোকার ঝিঁ ঝিঁ শব্দে এলাকা মুখরিত হতে শুরু করেছে।

লিচগাছগুলোতে ফুল আসা থেকে লিচু আহরণ পর্যন্ত তিন-চার মাস লিচুবাগানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের কর্মব্যস্ততা থাকে। ফুল আসার ১৫ দিন আগে এবং ফুল আসার ১৫ দিন পরে সেচ দিতে হয়। সেই অনুযায়ী গাছে মুকুল আসার সঙ্গে সঙ্গেই তা টিকিয়ে রাখতে লিচু চাষি ও ব্যবসায়ীরা স্প্রে করে চলছেন। এ ছাড়া মুকুল যাতে ঝরে না পড়ে সে জন্য গাছের গোড়ায় নিয়মিত পানি ও সার দিয়ে যাচ্ছেন চাষিরা। জেলার যেসব স্থানে লিচু চাষ করা হয় তার মধ্যে সদর, বিরল, বোচাগঞ্জ, কাহারোল, চিরিরবন্দর, বীরগঞ্জ, খানসামা উপজেলা বিখ্যাত।

লিচু চাষি মোসাদ্দেক হোসেন জানান, লিচুর ফুল আসার আগেই লিচুগাছের পরিচর্যা করতে হয়। নিয়মিত স্প্রে ও সেচ দেওয়া শুরু হয়েছে। লিচুগাছগুলোতে ফুল আসতেই রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে লিচু ব্যবসায়ীরা আসতে শুরু করেছেন। তাঁরা লিচুবাগান আগাম কিনে নিচ্ছেন।

 

 

মন্তব্য