kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ

রাজধানীর কলাবাগানের একটি বহুতল ভবনের ছাদ থেকে ফেলে তাজরিন মোস্তফা মৌমিতা (১৯) নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদনান নামে এক যুবককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

স্বজনদের দাবি, মারা যাওয়ার কিছুক্ষণ আগেও বাবার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছিলেন মৌমিতা। বাবাকে তিনি বলেছিলেন, ছাদ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে বাসায় ফিরবেন। কিন্তু বাসায় আর ফেরেননি। বাসার নিচে রক্তাক্ত দেহ পড়েছিল তাঁর। পরিকল্পিতভাবে সাততলার ছাদ থেকে ফেলে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার জন্য তাঁরা ওই বাসার মালিকের ছেলেকে দায়ী করছেন।

বাসার মালিকের ছেলেকে সন্দেহ করার কারণ জানতে চাইলে মৌমিতার ফুফু শাহনেওয়াজ খানম বলেন, বাড়ির মালিকের ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মৌমিতাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। ফলে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হতে পারে।

তবে মৌমিতার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘ওপর থেকে পড়ার কারণে তাঁর (মৌমিতা) মৃত্যু হয়েছে। লাশ থেকে ‘ব্লাড, ভিসেরা ও হাইভেজনাল সোয়াব সংগ্রহ করে এগুলো পরীক্ষার জন্য হিস্ট্রোপ্যাথলোজিতে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন এলে বলা যাবে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল কি না। তবে তাঁর শরীরে ধস্তাধস্তির কোনো আলামত পাইনি। তবে তাঁর শরীরে যেই আঘাতগুলো রয়েছে তা ভবন থেকে পড়ার কারণেই হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’

পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, তিন বোনের মধ্যে মেজো মৌমিতা ছিলেন চাপা স্বভাবের। তবে সব সময় হাসি-খুশি থাকতেন। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলাবাগান শাখা থেকে মাধ্যমিক পাস করার পর শিক্ষাবৃত্তি পেয়ে এশিয়ান প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির মালয়েশিয়া শাখায় পড়ালেখা করছিলেন। গত বছর  করোনার কারণে দেশে আসেন। অনলাইনে নিয়মিত ক্লাস করছিলেন তিনি।   

এ ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি। মামলা করতে দেরির কারণ জানতে চাইলে মৌমিতার বাবা কামাল মোস্তফা শামীম বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, কলাবাগানের ওই বাড়ির মালিকের ছেলে ফাইজার মৌমিতাকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করত। ফাইজারের বন্ধু আদনানও তার সঙ্গে মিলে মৌমিতাকে উত্ত্যক্ত করত। বাসার বাড়িওয়ালার একটিই ছেলে। সে বাইরে থেকে বিভিন্ন ছেলেদের বাসায় নিয়ে আসত। গত সপ্তাহে মৌমিতার মা ফাইজারের মাকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তবে তিনি উল্টো প্রতিক্রিয়া করেছেন মৌমিতার মায়ের ওপর।

কামাল মোস্তফা বলেন, ‘শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মৌমিতা ছাদে উঠে। এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে আমি জানতে পারি, মেয়ে ছাদ থেকে পড়ে গেছে। সেখানে আমার বাসার কাজের ছেলেও দেখেছে অনেকে ক্রিকেট খেলছে, হৈচৈ করছে। আমি মৌমিতাকে মেসেজ দিয়েছিলাম, সে বলল আসতেছি। এরপর আমি গ্রিন রোডে আমার অফিসে চলে যাই। তখন আমার ছোট মেয়ে ফোনে বলে, আব্বু তাড়াতাড়ি গ্রিন লাইফ হাসপাতালে আসেন।’

মৌমিতার ফুফু শাহনেওয়াজ খানম বলেন, ‘ঘটনার সময় ছাদে ফায়জার ছিল। বিকেলে ছাদের দরজা লাগিয়ে দিয়েছিল। আমাদের ধারণা, মৌমিতাকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই সে মৌমিতাকে উত্ত্যক্ত করছিল।’

কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ চন্দ বলেন, ‘মৌমিতার পরিবার এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দায়ের করার পরই আমরা মামলা নেব। তিনি বলেন, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদনান নামে একজনকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। আমাদের তদন্ত চলছে। অনুসন্ধান শেষে এটি আত্মহত্যা না হত্যা সে বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।’

মন্তব্য