kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

নির্ধারিত দামের কমে মিলছে খোলা তেল

বোতলজাতে দর কমায়নি অনেক ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




নির্ধারিত দামের কমে মিলছে খোলা তেল

খুচরা বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কমে মিলছে খোলা ভোজ্য তেল। একইভাবে কয়েকটি ব্র্যান্ডের বোতলজাত তেলও নির্ধারিত দামের চেয়ে কমে মিলছে। অবশ্য কিছু ব্র্যান্ডের বোতলজাত তেলের দাম সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি।

বিক্রেতাদের দাবি, সরকার দাম নির্ধারণের আগে থেকেই খুচরা বাজারে খোলা ভোজ্য তেল কমে বিক্রি হচ্ছিল। শুধু কেজি আর লিটারের ভুল-বোঝাবুঝিতে ক্রেতারা বুঝতে পারেনি। হিসাব করলে সরকার ভোজ্য তেলের দাম বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি নির্ধারণ করেছে।

বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার ভোজ্য তেলের দাম নির্ধারণ করে দেয়। খোলা সয়াবিনের দাম খুচরায় ১১৫ টাকা লিটার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর সেগুনবাগিচা, মালিবাগ, মুগদাসহ খুচরা বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, সেখানে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১২৩-১২৭ টাকা কেজি দরে। এক লিটার সমান প্রায় ৯৬০ গ্রাম, অর্থাৎ এক কেজির কম। রাজধানীর মুগদা বাজারের এক দোকানে বোতলজাত সয়াবিনের এক লিটারের বোতল মেপে দেখা যায় ৯৩৬ গ্রাম। বিক্রেতা জানালেন, বোতল ছাড়া ৯০০ গ্রাম তেল পাওয়া যাবে। সে হিসাবে খোলা সয়াবিন তেলের লিটারের দাম আসে ১১০ থেকে ১১৪ টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সপ্তাহে সরকার যখন তেলের দাম নির্ধারণ করে, তখন খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১২৩ থেকে ১২৫ টাকা কেজি। অর্থাৎ ১১২ টাকা ৫০ পয়সা লিটার। বিক্রেতারা বলছেন, সরকার নির্ধারণ করার পর অনেকে কেজিতে দুই টাকা বাড়িয়ে নির্ধারিত দামে বিক্রি করছেন।

বাজারে খোলা পাম সুপার তেল বিক্রি হচ্ছে ১০৫-১০৭ টাকা লিটার দরে। খুচরা পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত দাম ১০৪ টাকা লিটার। পাম লুজ বিক্রি হচ্ছে ১০০-১০৫ টাকা লিটার।

বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে খোলা তেল বিক্রি হয় কেজি দরে। লিটার দরে নয়। কিন্তু সরকার এ ক্ষেত্রে দাম বেঁধে দিয়েছে লিটারে। সে হিসাবে সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম বাজারদরের চেয়ে বেশি।

মুগদা বাজারের ফরিদগঞ্জ জেনারেল স্টোরের মালিক মইজ উদ্দীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি খোলা সয়াবিন ১২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। সে হিসাবে ১১২ টাকা লিটার। নির্ধারিত দামের মধ্যেই রয়েছে। গত ১৫ দিন এই দামেই বিক্রি করছি। পাইকারি থেকে কেনার পর নানা খরচ দিয়ে এর চেয়ে কমে বিক্রি করা যায় না। আমার কেনাতেই ১২৩ টাকা কেজি বা ১১০ টাকা লিটার পড়ছে। তেল বিক্রিতে খুব একটা লাভ হচ্ছে না।’

তবে বোতলজাত সয়াবিন সরকার নির্ধারিত দামে নামায়নি অনেক ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। প্রতিটি ব্র্যান্ডের বোতলের গায়ের মূল্য ১৩৫ টাকা। সরকার খুচরায় দাম বেঁধে দিয়েছে ১৩৫ টাকা লিটার। বাজারে পাঁচ লিটারের সয়াবিনের জার পাওয়া যাচ্ছে ব্র্যান্ডভেদে ৫৯০ থেকে ৬৫০ টাকায়। এ ক্ষেত্রে সরকার দাম বেঁধে দিয়েছে ৬৩০ টাকা। গায়ের মূল্য ৬৫০ থেকে ৬৮৫ টাকা পর্যন্ত লেখা রয়েছে।

পাইকারি ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মওলা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের দাম কমতির দিকে। মার্চে মৌসুম পুরোপুরি শুরু হলে আরো কমে আসবে। অনেক কম্পানি দাম বেশি হওয়ায় আমদানি বন্ধ করে দিয়েছিল। তারা আবার আনা শুরু করলে দেশে আরো কমে আসবে।’

ভোজ্য তেল ছাড়া পরিবর্তন আসেনি অন্যান্য পণ্যেও। বড় দানার মসুর ডাল ৬৫-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট দানার ১০০-১৪০ টাকা কেজি। ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি। চিনির দামও কমেনি, বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকা কেজি দরে।

দেশি পেঁয়াজ আগের মতোই ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদা-রসুনের দাম স্থির রয়েছে ৭০-১২০ টাকা কেজিতে। তবে আলুর দাম নেমেছে আরেকটু। বাজারে এখন ১৪-২০ টাকা কেজি দরে আলু পাওয়া যাচ্ছে। টমেটো, বেগুন, পেঁপে, শালগমসহ প্রায় সব ধরনের সবজিই মিলছে প্রতি কেজি ২০-৪০ টাকার মধ্যে।

ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে কিছুটা কমে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা ডজন। গত সপ্তাহে ছিল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা ডজন। তবে কেজিতে আরো ১০ টাকা বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। প্রতি কেজি ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা। মাসখানেক আগেও ১৩০ টাকায় পাওয়া যেত। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজি দরে। গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ২৬০-২৮০ টাকা দরে। গরুর মাংস কেজি ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মন্তব্য