kalerkantho

রবিবার। ২২ ফাল্গুন ১৪২৭। ৭ মার্চ ২০২১। ২২ রজব ১৪৪২

১৩ মাসে বিশ্বে করোনা শনাক্ত ১০ কোটি

► প্রাণহানি সাড়ে ২১ লাখ
► ভাইরাসের নতুন ধরন নিয়ে উদ্বেগ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৩ মাসে বিশ্বে করোনা শনাক্ত ১০ কোটি

প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ছাড়াল। ১৩ মাস বা ৩৯২ দিনের ব্যবধানে বিশ্বের ২১৯টি দেশ ও অঞ্চলে এই বিপুলসংখ্যক মানুষ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছে। এরই মধ্যে প্রাণহানি হয়েছে সাড়ে ২১ লাখ মানুষের। আর সুস্থ হয়েছে সোয়া সাত কোটি কভিড রোগী। বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাবে, গত ৬ নভেম্বর পর্যন্ত বৈশ্বিক নথিবদ্ধ আক্রান্তের সংখ্যা ছিল পাঁচ কোটি। অর্থাৎ তিন মাসেরও কম সময় বা ৮১ দিনের ব্যবধানে আরো পাঁচ কোটি ব্যক্তি সংক্রমিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

২০১৯ সালের শেষ দিনে চীনের উহানে প্রথমবারের মতো মানবদেহে করোনা শনাক্ত হয়। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে মহামারি আকার ধারণ করে। অবশ্য এরই মধ্যে করোনার বেশ কয়েকটি কার্যকর টিকার প্রয়োগ শুরু হয়েছে বিভিন্ন দেশে। যদিও মহামারি ঠেকাতে সর্বজনীন যে টিকার প্রাপ্যতা দরকার, তা নিশ্চিত করতে পারেনি বিশ্ব নেতৃত্ব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) তরফে সবার টিকা নিশ্চিতে কোভ্যাক্স উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা খুব সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তা ছাড়া সম্প্রতি যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার অতি সংক্রামক ধরন শনাক্ত হওয়ায় টিকার কার্যকারিতা নিয়েও নানামুখী প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যদিও ফাইজারসহ কয়েকটি টিকা উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠান বলছে, তাদের টিকা করোনার নতুন স্ট্রেনের বিরুদ্ধে কাজ করছে। করোনার নতুন ধরন মূল ধরনের চেয়ে বেশি প্রাণঘাতী বলে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের এক সমীক্ষার ফলে বলা হয়েছে। এর পর থেকে দেশে দেশে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করা শুরু হয়েছে।

মানবদেহে করোনা শনাক্তের এক বছর পেরোলেও এখনো ভাইরাসটির উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পাননি বিজ্ঞানীরা। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সম্প্রতি উহানে যেতে পেরেছে ডাব্লিউএইচওর ১০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল। দলের সদস্যরা আশা প্রকাশ করছেন, ভাইরাসটির উৎস সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা আসবে তাঁদের অনুসন্ধানে।

চলমান মহামারিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে সর্বাধিক আড়াই কোটিরও বেশি মানুষ করোনা সংক্রমিত হয়েছে। প্রাণহানিও হয়েছে সর্বাধিক। এরই মধ্যে সেখানে চার লাখ ৩২ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়েছে করোনা।

আক্রান্তের নিরিখে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ভারত। দেশটিতে প্রায় এক কোটি সাত লাখ মানুষের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি ধরা পড়েছে। প্রাণহানি হয়েছে দেড় লাখেরও বেশি মানুষের। তবে আশার খবর হলো, প্রতিবেশী এ দেশে সুস্থতার হার খুবই আশাব্যঞ্জক। এরই মধ্যে সেখানকার এক কোটি সাড়ে তিন লাখ রোগী সেরে উঠেছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা মাত্র এক লাখ ৭৮ হাজার।

লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল আক্রান্তে তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও প্রাণহানিতে বৈশ্বিক অবস্থানে দ্বিতীয়। সেখানে এরই মধ্যে ৮৯ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে দুই লাখ ১৭ হাজারেরও বেশি মানুষ।

আক্রান্তের নিরিখে চতুর্থ অবস্থানে আছে রাশিয়া। এর পরে আছে যুক্তরাজ্য, ষষ্ঠ অবস্থানে ফ্রান্স, সপ্তম স্থানে স্পেন, অষ্টমে ইতালি, নবমে তুরস্ক এবং জার্মানির অবস্থান দশমে।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাবে, অঞ্চল হিসেবে এখন পর্যন্ত সর্বাধিক মৃত্যু ঘটেছে ইউরোপে, প্রায় পৌনে সাত লাখ। উত্তর আমেরিকায় মারা গেছে সোয়া লাখ মানুষ। দক্ষিণ আমেরিকায় চার লাখ, এশিয়ায় তিন লাখ ৬৬ হাজার, আফ্রিকায় ৮৬ হাজার এবং ওশেনিয়া সহস্রাধিক প্রাণহানি ঘটেছে। সব মিলিয়ে গতকাল পর্যন্ত বৈশ্বিক প্রাণহানি ১০ কোটি চার লাখ ছাড়িয়েছে।

 

মন্তব্য