kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নার্সকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নার্সকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এক চিকিৎসক সহকর্মী নার্সকে যৌন হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর ওই চিকিৎসককে অব্যাহতি দিয়ে তদন্ত কমিটি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম মামুন-অর-রহমান। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যানেসথেসিয়ার ওপর ডিপ্লোমা করছেন। সেখান থেকেই কোর্স সম্পন্ন করতে এসেছেন রামেক হাসপাতালে। এর আগে ডা. মামুন ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস শেষ করেন। এরপর তিনি চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে যোগ দেন। ছুটি নিয়ে এখন তিনি অ্যানেসথেসিয়া কোর্স করছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জানুয়ারি সকাল ১১টার দিকে রামেক হাসপাতালের আইসিইউয়ে ডা. মামুনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন একজন নার্স (২৫)। ডা. মামুন তখন ওই নার্সের শরীরে হাত দেন। সেদিন বিষয়টি নিয়ে কোনো অভিযোগ করেননি ওই নার্স। পরের দিন ওই নার্স আইসিইউয়ে ডা. মামুনকে রোগীর জন্য একটি টিউব দিচ্ছিলেন। তখন ডা. মামুন তাঁর হাত চেপে ধরেন। নার্স দ্রুত নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে সরে যান। এ সময় পেছন থেকে গিয়ে ডা. মামুন তাঁর শরীর স্পর্শ করেন। ক্রমাগত এমন যৌন হয়রানির শিকার হয়ে ওই নার্স তাঁর এক সহকর্মীকে বিষয়টি জানান। এরপর তিনি বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের রামেক হাসপাতাল শাখার সভাপতি শাহাদাতুন নূর লাকি ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ খলিলুর রহমানের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। সেদিনই তাঁরা আইসিইউয়ে ডা. মামুনের কাছে গিয়ে  ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। ডা. মামুন তখন তাঁর আচরণের জন্য তাঁদের কাছে ‘স্যরি’ বলেন। এরপর তাঁরা সবাই হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয়ে যান।

সেখানে নার্সরা ডা. মামুনের এমন আচরণের বিষয়টি হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানীকে জানান। তখন ডা. মামুনও উপস্থিত ছিলেন। তিনি তাঁর অপরাধ স্বীকার করেন। এ সময় তাত্ক্ষণিকভাবে ডা. মামুনকে প্রশিক্ষণ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন হাসপাতাল পরিচালক। একই সঙ্গে রামেকের উপাধ্যক্ষ ডা. হাবিবুল্লাহ সরকারকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

এদিকে নার্স সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি এখন ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে তাঁরা জেনেছেন। এখন করণীয় ঠিক করতে নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন গতকাল দুপুরে জরুরি সভা করেছেন। অভিযুক্ত চিকিৎসককে অব্যাহতি দেওয়া হলেও তাঁরা শাস্তির দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের রামেক হাসপাতাল শাখার সভাপতি শাহাদাতুন নূর লাকি বলেন, ‘এখানেই আমরা চাকরি করি। এখানেই এমন একটা ঘটনা ঘটেছে। সেই ডাক্তারের কী শাস্তি হচ্ছে, সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করছি। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্তে যাব।’

অভিযুক্ত চিকিৎসক মামুন-অর-রহমানের ভাষ্য, ‘ছোট একটা সমস্যা হয়েছে। সেটা তো অনেক রকমেই হতে পারে। আমাকে এককভাবে অপরাধী ভাবা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি আর কী বলব? স্যারেরা তদন্ত করে দেখছেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বললেই ভালো হয়।’

এদিকে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘এটা ছোটখাটো একটা ঘটনা, খুব বড় কিছু নয়। তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। রিপোর্ট আসার কথা ছিল। সোমবার (গতকাল) দুপুর পর্যন্ত আসেনি। অভিযুক্ত চিকিৎসককে ২০ তারিখ থেকেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা