kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

‘দেশকে পুলিশি রাষ্ট্র বানাবেন না’’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘দেশকে পুলিশি রাষ্ট্র বানাবেন না’’

কুষ্টিয়া ও যশোরে পুলিশের ভূমিকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, কুষ্টিয়ার ঘটনায় পত্রপত্রিকায় যা প্রকাশিত হয়েছে, সেটি যদি বাস্তব চিত্র হয়, তবে সেটি হবে ভয়ংকর। যশোরের অবস্থা আমাদের ভীতসন্ত্রস্ত করে দিয়েছে। আদালত কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে (এসপি) উদ্দেশ করে বলেন, ওই জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আপনার দায়িত্ব। কে কোন দল বা মতাদর্শের, এটি বিবেচ্য বিষয় নয়। আপনার দায়িত্ব সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আপনাকে কথায় পটু হলে হবে না। কাজে পটু হতে হবে। আদালত বলেন, এমন কাজ করবেন না, যাতে মানুষের মনে হয় যে একটি পুলিশি রাষ্ট্র কায়েম হয়ে গেছে।

সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কুষ্টিয়ার এসপি এস এম তানভীর আরাফাতের দুর্ব্যবহারের ঘটনায় আদালত অবমাননার রুলের ওপর শুনানিকালে বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ মন্তব্য করেন। আদালতে এসপির পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মুনসুরুল হক চৌধুরী ও আহম্মেদ ইশতিয়াক। প্রিসাইডিং অফিসারের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক ও অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. তাহেরুল ইসলাম।

এদিকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌর নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ও স্থানীয় উপজেলার যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলী ও তাঁর পরিবার এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দিতে কুষ্টিয়ার এসপিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি আদেশের জন্য দিন ধার্য করে এসপিকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘এই কয়েক দিন আমরা আপনার কর্মকাণ্ড দেখব।’ 

হাইকোর্টের নির্দেশে গতকাল সকালে হাইকোর্টে হাজির হন এসপি তানভীর আরাফাত। এরপর আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আবেদন উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন ভুল হয়েছে, এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়। ওই ঘটনায় আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।’

এরপর ব্যারিস্টার অনিক আর হক প্রিসাইডিং অফিসারের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেন। তিনি বলেন, এই প্রিসাইডিং অফিসারকে দৌলতপুর থানায় নিয়ে দেড় ঘণ্টা আটকে রেখে মানসিক নির্যাতন করা হয়। এ সময় তিনি একটি জাতীয় দৈনিকে ওই বিচারকের সঙ্গে এসপির আগের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, আপনি একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা। আপনি নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন ঠিক; কিন্তু মনে রাখতে হবে, এটি কোনো সাধারণ আদালত অবমাননা নয়। এটিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।

আদালত বলেন, আপনাদের মধ্যে অনেক দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা আছেন, যাঁরা অনেক সুনাম অর্জন করেছেন। আপনাকেও সে জায়গায় যেতে হবে। আপনি তো রাষ্ট্রপতির পদক পেয়েছেন। আপনার যথেষ্ট জ্ঞান আছে। সেটি কাজে লাগান। সমাজকে একটি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দিকে নিয়ে যান। রাষ্ট্রের এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করে কাজ করাই দক্ষতা। আপনার কাছে প্রত্যাশা, আইনের শাসন ও সামাজিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এগুলো বিচার বিভাগের একার পক্ষে দেখা সম্ভব না।

গত ১৬ জানুয়ারি ভেড়ামারা পৌর নির্বাচন চলাকালে ভেড়ামারা পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহসিন হাসানের সঙ্গে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম তানভীর আরাফাত দুর্ব্যবহার করেন। এ ঘটনায় পরদিন এসপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ওই বিচারক নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন। এর অনুলিপি গত ১৯ জানুয়ারি আইন ও স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের দপ্তরেও পাঠানো হয়। এ ঘটনা ২০ জানুয়ারি বিচারপতি মামনুন রহমানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আসার পর আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এক আদেশে ওই এসপিকে তলব করেন। এসপিকে হাইকোর্টে সশরীরে হাজির হয়ে বিচারকের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার কারণ জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। এ আদেশের পরই এসপি নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেন।

অন্যদিকে গত ১১ জানুয়ারি যশোরের পুরনো কসবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে পুলিশ সদস্য ইমরানকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা নিয়ে ওই দিন মধ্যরাতেই যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল খালেকসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা হয়। আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, এ হামলা করেছে পুলিশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা