kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

মুজিববর্ষে বাড়তি ব্যয় নয়

বাহরাম খান   

২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুজিববর্ষে বাড়তি ব্যয় নয়

মুজিববর্ষ উপলক্ষে অযথা বাড়তি ব্যয় করার উদ্দেশ্যে কোনো প্রকল্প না নিতে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন বলে মন্ত্রিসভা বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রত্যেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ চলমান। এসব উদ্যোগের মধ্য থেকে গুরুত্ব বিবেচনা করে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ সেবা দেওয়ার জন্য বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এতে করে বাড়তি টাকা খরচ না করেই মানুষকে ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

গতকাল মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিউজিল্যান্ডে দূতাবাস স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এসংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় আনার নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে সূত্র জানায়, বিদেশি দূতবাস চালানোতে অনেক খরচ। যেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিকভাবে বড় লেনদেন নেই, সেসব দেশে দূতাবাস স্থাপন করে খরচ বাড়ানোর কোনো মানে হয় না। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক বিষয়কগুলো অস্ট্রেলিয়া থেকে দেখভাল করা হয়।

এদিকে করোনা শুরুর প্রায় আট মাসের বেশি সময় পর গতকাল প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভা বৈঠকে সশরীরে সভাপতিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকালের বৈঠকে ছয়জন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা বৈঠক কক্ষে আয়োজিত মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে সচিবালয় ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। মন্ত্রিসভার নির্ধারিত এজেন্ডার বাইরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে যাতে অপচয় না হয়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। এ সময় মন্ত্রিপরিষদসচিব উদাহরণ দিয়ে বলেন, ভূমি ও গৃহহীন গরিব মানুষকে যেসব ঘর দেওয়া হচ্ছে তা মুজিববর্ষের আলাদা কোনো প্রকল্প নয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের চলমান কার্যক্রমগুলোকে সমন্বিত করে মুজিববর্ষের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, এতে একদিক থেকে ভালো একটি সেবার সুযোগ পাওয়া গেল, অন্যদিকে মুজিববর্ষের সঙ্গে যুক্ত থাকল এই উদ্যোগ। তবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ কিছু নতুন অনুষ্ঠান পালনের ক্ষেত্রে যেসব খরচ লাগবে, সেগুলো তো করাই হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর মুজিববর্ষ শুরু হওয়ার প্রথম দিকে বরাদ্দকৃত টাকা থেকে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানে বরাদ্দের জন্য নানা তরফ থেকে চাপ আসছিল। কিন্তু মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অপরিকল্পিতভাবে হঠাৎ আয়োজিত অনুষ্ঠানে টাকা ব্যয় যাতে না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক ছিল। তাই জাতীয় কমিটি ছাড়াও মন্ত্রিপরিষদসচিবের নেতৃত্বে একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি মুজিববর্ষের আর্থিক ব্যয়ের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সরকার ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণভাবে মুজিব শতবর্ষ পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়। গত বছর ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৭ মার্চের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করে সরকার। এর মধ্যে ছোট ছোট কিছু অনুষ্ঠান হলেও বড় অনুষ্ঠানগুলো

হয়নি। তাই সরকার চলতি বছর স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর সঙ্গে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুজিববর্ষ পালনের নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ উপলক্ষে আসছে ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ১০ দিনের বিশেষ জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান আয়োজনেরও পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে সরকার।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা