kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

ডিএমপির নির্দেশনা মানছে না বাড়ির মালিক

ভাড়াটিয়ার পরিচয়পত্র সংগ্রহ

মোবারক আজাদ   

২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




ডিএমপির নির্দেশনা মানছে না বাড়ির মালিক

ডিএমপি (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ) থেকে রাজধানীতে বাসা ভাড়া দিতে ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে পরিচয়পত্র সংগ্রহ ও নির্দিষ্ট ফরম পূরণের নির্দেশনা থাকলেও তা মানছেন না কোনো কোনো বাড়ির মালিক। ফলে অনেক ভাড়াটিয়া নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে সহজে পার পেয়ে যাচ্ছে। বিস্তারিত তথ্য না থাকায় করোনা মহামারির সময় অনেক ভাড়াটিয়া গ্রামের বাড়ি চলে গেলে বেশ কিছু বাড়ির মালিক কয়েক মাসের ভাড়া ওঠাতে পারেননি। বাড়ির মালিকরা বলছেন, ভাড়াটিয়ার কাছে বারবার পরিচয়পত্র চেয়েও তাঁরা পাননি। তবে পুলিশ বলছে, পরিচয়পত্র সংগ্রহে বাড়ির মালিকদের গাফিলতি রয়েছে। এর জন্য তাঁদের আরো সচেতন হতে হবে।

রাজধানীর মিরপুর, লালবাগ, কেরানীগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী, আজিমপুর ঘুরে তথ্য মিলেছে, অনেক বাড়ির মালিকের কাছে নেই ভাড়াটিয়ার বিস্তারিত তথ্য। জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য তথ্য চাইলে অনেকে বাড়ি ভাড়া নেয় না। এ অবস্থায় লোকসান না গুনতে অনেক সময় বিস্তারিত তথ্য ছাড়াই বাড়ি ভাড়া দিচ্ছেন মালিক। মানহীন বাড়ির ক্ষেত্রে এই সংখ্যা অনেক বেশি।

জঙ্গি কার্যক্রম দমন এবং রাজধানীকে নিরাপদ রাখতে ডিএমপি কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন্ন এলাকার বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহে ফরম বিতরণ করছে। যেসব বাড়ির

মালিক ফরম পাননি তাঁরা যেন সংশ্লিষ্ট থানা থেকে ফরম সংগ্রহ করে ভাড়াটিয়াদের বিস্তারিত তথ্য নিয়ে থানায় জমা দেন—ডিএমপি থেকে এমন নির্দেশনা রয়েছে। তবে পুলিশের প্রয়োজনীয় নজরদারি না থাকায় এ নির্দেশনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না বাড়ির মালিকরা।

মিরপুর ১৩ নম্বর এলাকার বি-ব্লকের ‘স্বপ্ন কুঠি’ নামে সাততলা বাড়িটির মালিক শাহজাহান খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুই-আড়াই বছর আগে ভাড়াটিয়াদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে থানা থেকে চাপ ছিল। এখন আর তা নেই। ফলে রাখাও হয় না। তবে মোবাইল নম্বর রাখি। অনেকের কাছে পরিচয়পত্র চাইলে দেব দিচ্ছি করে আর দেন না। অনেকে আবার নিজ থেকে দিয়ে দেন। এভাবেই চলছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পরিচয়পত্র ও বিস্তারিত তথ্য না থাকায়  করোনা মহামারির সময় বেশ কিছু ভাড়াটিয়া কয়েক মাসের ভাড়া না দিয়ে, কিছু না বলে, বাসায় তালা মেরে গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন। তাঁদের কাছে পাওয়া কয়েক মাসের ভাড়া গচ্চা গেছে।’

আল-আমিন নামে কেরানীগঞ্জের এক ভাড়াটিয়া বলেন, ‘দুই বছর ধরে মিরপুরে আছি। আগে পরিচয়পত্রের বিষয়ে তেমন গুরুত্ব না দেওয়া হলেও সম্প্রতি বাড়ির মালিক ভবনের সব ভাড়াটিয়ার পরিচয়পত্র এবং ছবিসহ নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে নিয়েছেন।’

লালবাগ থানার ওসি কে এম আশরাফ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সচেতন বাড়ির মালিকরা নিজ থেকেই ভাড়াটিয়াদের পরিচয়পত্র সংগ্রহ এবং নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে থানায় দিয়ে যাচ্ছেন। আমরাও প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় ফরম পূরণের কাজ করছি। তবে কিছু বাড়ির মালিকের গাফিলতি আছে, যে কারণে অনেক সময় ভাড়াটিয়াদের সঠিক তথ্যটা পাওয়া যায় না।’

যাত্রাবাড়ী এলাকার ভাড়াটিয়া মাছুম উল্লাহ বলেন, ‘নিম্ন ও মাঝারি মানের বাসাগুলোতে পরিচয়পত্র চাওয়া হয় না। বাড়ির মালিকরা এদিকে নজরও দেন না। বাসার কেয়ারটেকার/ম্যানেজারের দায়িত্বে যাঁরা আছেন, তাঁদের সতর্ক হয়ে ভাড়াটিয়ার পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা জরুরি।’

মুগদা থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহা বলেন, ‘৫১ হাজার ভাড়াটিয়ার তালিকা আমাদের থানায় জমা আছে। নির্দেশনা থাকলেও অনেক বাড়ির মালিক এখনো ভাড়াটিয়াদের তালিকা আমাদের কাছে জমা দেননি। সচেতন না হলে বিপদাপদে তাঁদেরই ক্ষতি।’

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার ওয়ালিদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে নির্দেশনা আছে, বাড়ির মালিকরা যেন ভাড়াটিয়াদের পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেন। বিষয়টি মানা হচ্ছে। যাঁরা মানছেন না, কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় তাঁদের ওপরই বর্তাবে।’

গত ২১ জানুয়ারি ডিএমপি থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, চুরি-ডাকাতির মতো অপরাধমূলক ঘটনাগুলো রোধ করতে বাসাবাড়ির ভাড়াটিয়াদের পাশাপাশি দারোয়ান, মালিদের তথ্যও যেন সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়।

সম্প্রতি মুগদায় মহসীন নামের এক ভাড়াটিয়া মারা যাওয়ার পর পরিচয়পত্র না থাকায় পুলিশ কোনোভাবে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। ওই ব্যক্তির মোবাইল সিমও নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন করা ছিল না। গত ১৪ জানুয়ারি থেকে এখনো মহসীনের লাশটি মর্গে পড়ে আছে স্বজনদের অপেক্ষায়। আগামীকালের মধ্যে স্বজনদের না পেলে লাশটি আঞ্জুমান মুফিদুলকে হস্তান্তর করবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা