kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

বুড়িগঙ্গাতীরে অভিযান

২৩টি পাকা ভবনসহ ৮৯ স্থাপনা উচ্ছেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২৩টি পাকা ভবনসহ ৮৯ স্থাপনা উচ্ছেদ

উচ্ছেদ : রাজধানীর কামরাঙ্গীর চরে মুসলিমবাগ এলাকায় বিআইডাব্লিউটিএর উচ্ছেদ অভিযান। এ সময় বুড়িগঙ্গাপারের অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর কামরাঙ্গীর চর এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীর দখল করে তৈরি করা ২৩টি পাকা ভবনসহ ৮৯ স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে নদীর দুই একর তীরভূমি। পুনরায় দখল রোধে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই অভিযান চলে।

বিআইডাব্লিউটিএ জানায়, বিভিন্নভাবে জানানোর পরও যারা সরেনি তাদের সব গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া আগের অভিযানে সব সরিয়ে দেওয়ার পর নতুন করে আবারও জায়গাগুলো দখল করা হয়েছে। বুড়িগঙ্গা নদীর পারে তথা নদীর সীমানাপ্রাচীরের ভেতর থাকা অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। চারতলা তিনটি পাকা ভবন, দুটি তিনতলা পাকা ভবন, দুটি দোতলা পাকা ভবন, ১৮টি একতলা পাকা ভবন, ১২টি আধাপাকা ঘর, ৩২টি টিনের ঘর, ১৮টি টংঘর, দুটি খাবার হোটেল ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

উচ্ছেদ অভিযানে কথিত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের দাবি, জায়গাগুলো আগেও তাঁদের ছিল। তাঁদের পূর্বপুরুষরা এভাবেই বসবাস করে আসছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, অহেতুক এমন হয়রানি করা হচ্ছে। যদিও নিজেদের জায়গার প্রমাণ আছে কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে অনেকেই বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যান।

উচ্ছেদ করা ভবনের ভাড়াটিয়ারা, যাঁরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাঁরা বলছেন, মালিকরা বলেছেন ভাঙার পর আবার ঘর তুলে দেবেন। সে জন্য ভাড়ার বাইরেও কিছু টাকা দিতে হবে।

বিআইডাব্লিউটিএ ঢাকা নদীবন্দরের (সদরঘাট) যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, যাঁরা ভাবছেন উদ্ধারের পর দখল করবেন, তাঁরা ভুল ভাবছেন। নদীর জায়গা কেউ ভোগ করতে পারবে না। বুড়িগঙ্গাকে তার আগের রূপ ফেরত দিয়ে পরিবেশ ঠিক করতে পর্যায়ক্রমে কার্যক্রম চলতে থাকবে। তিনি আরো বলেন, ‘যারা নিজেদের জায়গা বলে দাবি করছে, তারা কেউই এখন সামনে আসছে না। চার দিন ধরে টানা মাইকিং করেছি। কিন্তু এর পরও কেউ নিজের জায়গার প্রমাণ নিয়ে আসেনি। এর আগে অন্যান্য স্থানে যারা আইনগত কাগজ নিয়ে সামনে এসেছে, সেখানে উচ্ছেদ করা হয়নি।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উচ্ছেদ অভিযানে কোনো দখলদারই বাধা দিচ্ছেন না। বরং বেশির ভাগ ভবন থেকেই আগে থেকে মালপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ভাড়াটিয়ারা এতে কিছুটা বিপাকে পড়েছেন। বিকেল ৩টার দিকে ঠোটারমাথাসংলগ্ন মুসলিমবাগে অভিযানের সময় আদনান নামের এক শিক্ষার্থী বলছিলেন, কম টাকায় থাকা যায় বলে কামরাঙ্গীর চর এলাকায় থাকেন তিনি। যে আধাপাকা বাসাটিতে তিনি থাকতেন, সেই বাসার মালিক অভিযানের বিষয়ে তাঁকে কিছু জানাননি। তাঁর তেমন ক্ষতি না হলেও যাঁরা পরিবার নিয়ে থাকেন তাঁদের অনেকের ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা