kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭। ২ মার্চ ২০২১। ১৭ রজব ১৪৪২

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন

৫৭% কেন্দ্র ‘ঝুঁকিপূর্ণ’

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

২০ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৫৭% কেন্দ্র ‘ঝুঁকিপূর্ণ’

সাম্প্রতিক সময়ের ধারাবাহিক সংঘাত-সহিংসতা পর্যালোচনার পাশাপাশি অতীতের রক্তক্ষয় আমলে নিয়ে আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনের ৫৭ শতাংশ ভোটকেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে মহানগর পুলিশ। অর্থাৎ এবারের নির্বাচনে মহানগরীর ৭২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪১০টিই ঝুঁকিপূর্ণ। বাকি ৩১৩টি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই হিসাবে প্রায় ১৯ লাখ ভোটারের মধ্যে ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি ভোটারের কেন্দ্রে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ হাসানুজ্জামানের ভাষ্য, তাঁদের কাছে সব কেন্দ্রই গুরুত্বপূর্ণ এবং সব কেন্দ্রেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চূড়ান্ত তালিকা পেলে বুঝতে পারব কোন কেন্দ্রে কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে। তালিকা পাওয়ার পর যেখানে যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (বিশেষ শাখা) মো. আবদুল ওয়ারিশ গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কেন্দ্রগুলোর অতীতের সহিংসতার ইতিহাস এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকে। তবে সেই বাড়তি নিরাপত্তা কী হবে বা বাহিনীর কতজন করে সদস্য মোতায়েন থাকবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।’

চসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর গত বছরের ১৮ মার্চ রাতে পাহাড়তলী থানার দক্ষিণ কাট্টলী এলাকায় সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন আনোয়ার জাহিদ তানভীর। তিনি ছিলেন ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোবারক আকতার চৌধুরীর সমর্থক। তানভীর হত্যা মামলার আসামিরা জামিনে বের হয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ ইসমাইলের গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন।

এই হত্যাকাণ্ডের পর নির্বাচনী মাঠ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ২১ মার্চ চসিক নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে নির্বাচন কমিশন আগামী ২৭ জানুয়ারি নির্বাচনের দিন ধার্য করেছে। এই লক্ষ্যে গত ৮ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়। প্রচারণার প্রথম দিনই ছুরিকাঘাতের শিকার হন এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী আশিকুর রহমান রোহিত। ১৫ জানুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান তিনি। এই হত্যাকাণ্ডে মাদক ও স্থানীয় বিরোধের কথা বলছে পুলিশ। এরই মধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

এ ছাড়া পাঠানটুলী ওয়ার্ডের মগপুকুরপাড় এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় গত ১২ জানুয়ারি রাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুরের সমর্থক আজগর আলী বাবুল। এ ঘটনায় ওই ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল কাদেরসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ-র‌্যাব।

এই তিন হত্যাকাণ্ডের বাইরে প্রায় প্রতিদিনই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, প্রচারে প্রতিপক্ষের হামলার অভিযোগ জমা হচ্ছে পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনের মাঠ বেশি উত্তপ্ত বলে মনে করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এ কারণে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে মনে করছেন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তারা।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, ‘বিষয়টি এমন নয় প্রতিদিন সংঘাত হচ্ছে। এ পর্যন্ত যে কয়টি মামলা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে। নির্বাচন কেন্দ্রে স্থানীয়ভাবে কেউ যদি প্রভাব বিস্তার করতে চায়, তাহলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা