kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭। ২ মার্চ ২০২১। ১৭ রজব ১৪৪২

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সংলাপ

প্রবাসী আয় অব্যাহত রাখতে আরো উদ্যোগ দরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



প্রবাসী আয় অব্যাহত রাখতে আরো উদ্যোগ দরকার

করোনা মহামারির মধ্যে গত বছর দুই লাখের বেশি শ্রমিক দেশে ফিরে এলেও প্রবাসী আয়ে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এত বেশি আয় নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এসব প্রশ্ন ছাপিয়ে যে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে, সেটা হলো প্রবাসীদের জন্য টেকসই ব্যবস্থা দেওয়া। যাতে তাঁরা দেশে আরো বেশি টাকা পাঠাতে উৎসাহী হন। তাই এখন প্রবাসীদেরও শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে। প্রবাসী আয়বিষয়ক এক সংলাপে এমন অভিমত এসেছে।

এ ছাড়া প্রবাসী আয় বৃদ্ধির বর্তমান ধারা অব্যাহত রাখতে অভিবাসন ব্যয় কমানো, কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের মাধ্যমে শ্রমিকদের সমস্যা সমাধান এবং দক্ষ শ্রমিক তৈরির ওপর জোর দেওয়ার বিষয়ে পরামর্শ এসেছে। একই সঙ্গে প্রবাসগামীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনার টিকা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

গতকাল রবিবার ‘সাম্প্রতিক প্রবাসী আয়-রেমিট্যান্স প্রবাহ : এত টাকা আসছে কোথা থেকে?’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সংলাপে বিশিষ্টজনরা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

এই সংলাপের আয়োজক এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট) বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ।

প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, বিদেশে শ্রমবাজারে প্রতিবছর পাঁচ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। এটা না হলে বেকারত্ব অনেক বাড়ত। আবার প্রতিবছর যে গড়ে ৮ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, তা সম্ভব ছিল না। কোনো ধরনের বিনিয়োগ ছাড়া দেশের অর্থনীতি যাঁরা বাঁচিয়ে রেখেছেন, তাঁদের টেকসই করতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে হবে।

সংলাপে যুক্ত হয়ে সিপিডি চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ‘প্রবাসীদের যে সমস্যার কথা বলা হচ্ছে, তা নতুন নয়। করোনার কারণে এটা নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে। তিনি বলেন, প্রবাসী আয়ের কারণে আজকে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। তবে তাঁদের জন্য আমরা এখনো টেকসই ব্যবস্থা নিতে পারিনি।

নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, প্রবাসী আয় বাড়ার ক্ষেত্রে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা বেশি ভূমিকা রেখেছে। এ ছাড়া ভিসা খরচ কমে যাওয়া, হজের খরচ না হওয়া এবং ওই সময়ে যে নগদ অর্থ আসে তা না আসায়, চোরাচালান কমা ও আমদানি কমে যাওয়ায় এটা বেড়েছে। তবে এটা কত দিন অব্যাহত থাকবে, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন আছে। এ ছাড়া বিদেশফেরতদের নিয়ে সরকারকে কাজ করতে হবে। বিদেশফেরতদের শুধু প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার উদ্যোগের ফলে তা বাস্তবায়নে ধীরগতির বিষয়টি উঠে এসেছে। এ ক্ষেত্রে সব ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায় কি না দেখতে হবে।

সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রবাসী আয় বাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে দেশে অনেকে কাজ হারানোর ফলে বিদেশ থেকে তাঁদের স্বজনরা বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। আবার প্রণোদনার ফলে অনেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। কোনো কাগজপত্র ছাড়া পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়ার ফলে এটা বেড়ে থাকতে পারে। আবার হজের সময় স্বজনদের কাছে যে টাকা পাঠানো হতো এবার তা পাঠাতে না পারাও একটি কারণ। প্রবাসী আয় বাড়ার ফলে সুবিধাভোগীরা যেমন উপকৃত হয়েছেন, তেমনি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে আমদানি দায় পরিশোধের সক্ষমতা বেড়েছে।

রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) চেয়ারপারসন অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, এবার রামরু মনে করেছিল প্রবাসী আয় কমবে। কেননা করোনায় কাজ হারিয়ে অনেকে দেশ থেকে টাকা নিয়েছেন। এপ্রিল, মে ও জুন মাসে ৬১ শতাংশ লোক কোনো টাকা পাঠাননি। এর পরও প্রবাসী আয় বেড়েছে। এর মানে প্রবাসীরা ভালো আছেন তেমন নয়। করোনার এ সময়ে প্রায় পাঁচ লাখ শ্রমিক দেশে এসেছেন, যাঁদের বেশির ভাগই আর যেতে পারেননি। তাঁদের পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে। কাজ হারিয়ে অনেকে বিদেশে আছেন। তাঁদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে হবে।

সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারপারসন এম এস সেকিল চৌধুরী বলেন, যাঁরা কাজ হারিয়ে দেশে ফেরত এসেছেন তাঁদের বিষয়ে সরকারকে ভাবতে হবে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, এমএফএস, এজেন্ট ব্যাংকিং, ওয়ালেটবেজ সেবার মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে সুবিধাভোগীর হাতে অর্থ পৌঁছে যাওয়ায় এখন অনেকে বৈধ পথে টাকা পাঠাচ্ছেন। এ ছাড়া বিদেশে কর ছাড় পেয়ে অনেকে বেশি অর্থ দেশে পাঠাতে পেরেছেন।

এ ছাড়া সংলাপে যুক্ত হন আয়োজক কমিটির সদস্য, দূতাবাস কর্মকর্তা, বিদেশফেরত কয়েকজন প্রবাসী এবং বিদেশে অবস্থানরত কিছু প্রবাসী।

বিদেশফেরত শ্রমিকরা দেশে এসে সরকারি কোনো সহায়তা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের জন্য বড় অঙ্কের তহবিল ঘোষণা করা হলেও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অদক্ষতার কারণে তা বিতরণ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা