kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ মাঘ ১৪২৭। ২১ জানুয়ারি ২০২১। ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

করোনা উপসর্গ নিয়ে রোগীর লম্বা লাইন

তামজিদ হাসান তুরাগ   

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনা উপসর্গ নিয়ে রোগীর লম্বা লাইন

কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা মীর সাহেব আলী। তিনি ডাক্তার দেখাতে এসেছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। টিকিট কাউন্টারে লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তিন দিন ধইরা হালকা কাশির সাথে নাক বন্ধ হইতাছে, তাই এই হাসপাতালে আইছি বড় ডাক্তাররে দেখাইতে।’ মাস্ক ঠিক করতে করতে তিনি বলেন, ‘এই ১০ টাকা দিয়ে টিকিট কাটছি, এহন স্যারেরা জানাইবো করোনা হইছে কি না?’

সেখানেই কথা হয় ৬০ বছর বয়সী ফরিদুর রহমানের সঙ্গে। মেরুল বাড্ডা থেকে ছেলের সঙ্গে এসেছেন হাসপাতালে। আগে থেকে শ্বাসকষ্ট থাকলেও নতুন করে আবার তা বেড়েছে। ফলে তাঁকে নিয়ে শঙ্কায় আছে পরিবার; এটি করোনার উপসর্গ কি না!

শুধু মীর সাহেব বা ফরিদুর রহমান নন, আরো বহু মানুষের লম্বা লাইন দেখা গেছে কাউন্টারের সামনে। গতকাল বুধবার তাঁদের অনেকেই করোনা উপসর্গ নিয়ে কিংবা করোনা সন্দেহে পরীক্ষা করানোর জন্য আসেন। 

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শীত পড়ার কারণে হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা আবার বাড়ছে। তাদের বেশির ভাগের বয়সই ৫০ বছরের ওপরে। গত নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে প্রতিদিন গড়ে দুই শর বেশি রোগী হাসপাতালে আসছে। এর মধ্যে যাদের অবস্থা বেশি আশঙ্কাজনক তাদের ভর্তি করা হচ্ছে করোনা ইউনিটে। অন্যদের ব্যবস্থাপত্র দিয়ে বাড়িতে আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

জানতে চাইলে টিকিট কাউন্টারের ইনচার্জ মো. সালাউদ্দিন সজল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইদানীং বেশ ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে দিন পার করতে হচ্ছে আমাদের। প্রতিদিন গড়ে দুই শতাধিক মানুষের কাছে টিকিট বেচতে হচ্ছে; তাদের বেশির ভাগই করোনা উপসর্গের কথা বলছে। অক্টোবর মাসেও যেখানে প্রতিদিন ১০০ টিকিট বিক্রি করেছিলাম, নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে তা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘উপসর্গ নিয়ে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁদের অবস্থা বেশি খারাপ সে রকম ৫০ থেকে ৭০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। এক মাস আগেও এই সংখ্যা ছিল ১০ থেকে ২০ জনের মতো।’

নন সার্জিক্যাল কভিড আইসিইউ ফাঁকা নেই—উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত মেডিক্যাল অফিসার ডা. আলফেসানি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের এই আইসিইউতে ১৪টি সিট আছে, তবে একটিও ফাঁকা নেই। সিরিয়ালে আমাদের আরো রোগী আছে, একটি সিট ফাঁকা হলেই সেখানে উঠে যাচ্ছে অন্য রোগী।’

তিনি বলেন, ‘সকালেও (গতকাল) দুজন রোগী মারা গেছে। আমরা সেখানে সিরিয়ালে থাকা দুজন রোগী ভর্তি করিয়ে দেই। আমরা সাধ্যমতো রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’ সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা দয়া করে স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলুন; শুধু নিজেকে নয় আপনার আশপাশে যারা আছে, তাদেরও নিরাপত্তার কথা ভাবুন।’

চিকিৎসকরা বলছেন, করোনার সেকেন্ড ওয়েভ বা দ্বিতীয় ঢেউ আসবে অথবা এসেছে এমনটা এখনো সুনির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব না। তবে এখন যেটা সব থেকে বেশি জরুরি তাহলো মাস্ক পরা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, আর জনসমাগম এড়িয়ে চলা। কারণ শীতকালে যেহেতু বায়ুপ্রবাহ কম থাকে, তাই ঝুঁকি বেশি।

ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক কর্নেল মো. নাজমুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে আমাদের হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা সম্প্রতি বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। তবে আমরা সাধ্যমতো প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। আমাদের ৯০০ বেড়ের মধ্যে এখনো দুই শর বেশি বেড ফাঁকা আছে। এ ছাড়া বেশি ক্রিটিক্যাল রোগীদের জন্য আমাদের দুই আইসিইউতে ২৪টি বেড প্রস্তুত আছে।’

পোস্ট কভিডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা করোনা আক্রান্ত হয়েছিল, এই হাসপাতালে প্রতি রবি ও বুধবার কভিড কর্নারে মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকদের সহযোগিতায় তাদের ফলোআপ করা হচ্ছে। সেখানেও আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি; আর যদি প্রয়োজন হয় তাহলে এই সেবার পরিধিও বৃদ্ধি করা হবে, যাতে মানুষ উত্তম সেবা পায়।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা