kalerkantho

শনিবার। ২ মাঘ ১৪২৭। ১৬ জানুয়ারি ২০২১। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ফয়জুল-মামুনুলের সমর্থনে হঠাৎ ‘মারমুখী’ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফয়জুল-মামুনুলের সমর্থনে হঠাৎ ‘মারমুখী’ মিছিল

পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, অনুমতি ছাড়াই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করে একটি মৌলবাদী গোষ্ঠী রাজপথে নামতে পারে। জুমার নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটের দিক থেকে কয়েক শ যুবক-কিশোর মিছিল বের করে। আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে থাকা পুলিশ তাদের বাধা দেয়। তবে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে তারা শাহবাগের দিকে এগোতে চাইলে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের কয়েকজন সদস্য সামান্য আহত হন।

তবে কাকরাইলের পর মিছিলটিকে আর এগোতে দেননি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এতে পল্টন এলাকায় ব্যাপক যানজট ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। কয়েক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও যেকোনো সময় এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে পারে বলে সতর্ক রয়েছেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

পল্টন থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক কালের কণ্ঠকে বলেন, কোনো রকম অনুমতি ছাড়াই উগ্র-মৌলবাদীরা বায়তুল মোকাররম এলাকায় হঠাৎ ‘জঙ্গি’ মিছিল বের করে। তারা পুলিশের কাজে বাধা দিয়ে হট্টগোল সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। এতে ওই এলাকায় আতঙ্কের পাশাপাশি যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশ ধৈর্যের সঙ্গে তাদের মোকাবেলা করে পরিস্থিতি শান্ত করেছে।

আবু বকর সিদ্দিক বলেন, মিছিলকারীদের বেশির ভাগই হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মী। তাঁদের অনেকেই মাদরাসার ছাত্র। কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ ঘটনায় মিছিলকারীদের আসামি করে মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।

তবে মিছিলকারীরা জানান, শাহবাগে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামের একটি সংগঠন সম্প্রতি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করীম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছে এবং তাঁদের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছে। এর প্রতিবাদে তাঁরা মিছিল করতে এসেছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মিছিল থেকে ভাস্কর্যবিরোধী স্লোগানের পাশাপাশি ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগবিরোধী স্লোগানও দেওয়া হয়। তবে তারা কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। মিছিলে কোনো ব্যানার-পোস্টার ছিল না।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে তাঁরা তৎপর রয়েছেন।

 প্রসঙ্গত, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণের হুমকিদাতা হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীর বক্তব্যে সম্প্রতি নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখছে।

মন্তব্য