kalerkantho

সোমবার। ৪ মাঘ ১৪২৭। ১৮ জানুয়ারি ২০২১। ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা

আদালতে আপসে বাদী-বিবাদী বিয়ে মুক্তি পেলেন বর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

২৬ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আদালতে আপসে বাদী-বিবাদী বিয়ে মুক্তি পেলেন বর

মামলা হয়েছিল ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে। অভিযুক্ত যুবককে (৩০) গ্রেপ্তার করে জেলেও পাঠানো হয়েছিল। আপসে বিয়ের শর্তে জামিনের আদেশ হলে গত মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লা আদালতের পিপির কক্ষে বাদীর (২৪) সঙ্গে বিয়ে হয় বিবাদী যুবকের। বিয়ে হলেও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় কনে যায় বাড়িতে, বর কারাগারেই। তবে এক দিন পর গতকাল বুধবার সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন ওই যুবক।

ওই যুবকের মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহজাহান আহমেদ কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তারেকুল আলম রাসেল কালের কণ্ঠকে জানান, কুমিল্লার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. আতাব উল্লাহ আপসের শর্তে আসামিকে জামিন দেন এবং আদালতের আঙিনায় বিয়ের নির্দেশনা দেন। সেই নির্দেশনামতেই ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে বাদী ও বিবাদীর বিয়ে হয়েছে। বিয়ের খবর পেয়ে বর-কনেকে দেখতে আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় করে উত্সুক জনতা। বিয়ের পর সেখানে উপস্থিত সবার মধ্যে খেজুর বিতরণ করা হয়।

তিনি আরো জানান, আইনি কার্যক্রম শেষে গতকাল ওই যুবক কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। এ সময় কারাগার প্রাঙ্গণে তাঁর স্বজনরা উপস্থিত ছিল। পরে তারা তাঁকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি চৌদ্দগ্রামে চলে যায়।

আদালত সূত্র জানায়, এ মামলার বাদীর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ভাঙ্গাপুস্করণী গ্রামে। একই উপজেলার এক সৌদিপ্রবাসীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। এ সংসারে তাঁদের চার বছরের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। ২০১৫ সালে এই নারীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার সূত্রে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা হয় একই উপজেলার পারুয়ারা গ্রামের ওই যুবকের। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্কও হয়। সেই ছবি ও ভিডিও মোবাইলে ধারণ করার পর তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় বাদীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন ওই যুবক। একপর্যায়ে সেই ভিডিও বাদীর প্রবাসী স্বামীর পরিবারেও পাঠান। ভিডিও দেখার পর ওই নারীকে ডিভোর্স দেন তাঁর স্বামী। এরপর ওই নারীর কাছে আবারও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন ওই যুবক। তিনি অপারগতা প্রকাশ করে গত অক্টোবরে চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা করেন ওই নারী। এরপর পুলিশ ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সরকার গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, বাদীর দাবি অনুযায়ী আসামি তাঁকে ফাঁদে ফেলে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছেন। বাদী ও আসামিপক্ষ এলাকায় বিয়ের শর্তে আপস করে আদালতে আসায় আদালত আসামিকে জামিন দিয়েছেন।

 

 

 

মন্তব্য