kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

আগের সপ্তাহের চেয়ে মৃত্যু ৫৩ শতাংশ বেড়েছে

২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৩৯, নতুন শনাক্ত ২১৫৬

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আগের সপ্তাহের চেয়ে মৃত্যু ৫৩ শতাংশ বেড়েছে

করোনায় ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলছে দৈনিক মৃত্যু। সামনে এই সংখ্যা আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে শীতের আগে থেকে ফুসফুসের সংক্রমণ বা শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের জটিলতা যেমন বেড়ে যাবে, তেমনি তাদের মধ্যে যারাই করোনায় আক্রান্ত হবে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকবে বলে বিশেষজ্ঞরা জানান। ফলে বয়স্ক ও যেকোনো বয়সের ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে অধিকতর সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) বাংলাদেশ  কার্যালয়ের সর্বশেষ (গত সোমবার প্রকাশিত) সাপ্তাহিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আগের সপ্তাহের (৪৬তম) চেয়ে সর্বশেষ সপ্তাহে (৪৭  সপ্তাহ) দেশে শনাক্ত বেড়েছে ২৪.১ শতাংশ আর মৃত্যু বেড়েছে প্রায় ৫৩ শতাংশ (৫২.৮ শতাংশ)। অর্থাৎ ৪৬তম সপ্তাহে শনাক্ত ছিল ১২ হাজার ৯৫ জন আর ৪৭তম সপ্তাহে শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার। অন্যদিকে ৪৬তম সপ্তাহে যেখানে মারা গেছে ১২৭ জন, সেখানে ৪৭তম সপ্তাহে মারা গেছে ১৯৪ জন।

ডাব্লিউএইচওর দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মুজাহেরুল হক জানান, শীতে সংক্রমণ আরো বাড়বে কি না কিংবা দ্বিতীয় ঢেউ কতটা উচ্চতায় উঠবে কি উঠবে না সেটা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও আগে থেকে জটিলতায় আক্রান্তরা যদি করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে তাহলে তাদের মধ্য থেকে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা থাকছেই। ফলে তাদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে এবং সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো তথ্য অনুসারে ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৩৯ জন। একই সময়ে নতুন শনাক্ত হয়েছে দুই হাজার ১৫৬ জন এবং সুস্থ হয়েছে দুই হাজার ৩০২ জন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত দেশে মোট শনাক্ত হয়েছে চার লাখ ৫৪ হাজার ১৪৬ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছে তিন লাখ ৬৯ হাজার ১৭৯ জন আর মারা গেছে ছয় হাজার ৪৮৭ জন।

২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১৩.৪৭ শতাংশ এবং মোট শনাক্তের হার ১৬.৮৪ শতাংশ। সুস্থতার হার ৮১.২৯ শতাংশ ও মৃত্যুহার ১.৪৩ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় মৃত ৩৯ জনের মধ্যে ২৭ জন পুরুষ ও ১২ জন নারী। তাঁদের মধ্যে ৪১-৫০ বছরের পাঁচজন, ৫১-৬০ বছরের ১২ জন ও ষাটোর্ধ্ব ২২ জন। অর্থাৎ মৃতদের মধ্যে ৩৪ জন বা ৭৯ শতাংশই পঞ্চাশোর্ধ্ব। মৃত ৩৯ জনের মধ্যে ২৬ জন ঢাকা বিভাগের, পাঁচজন চট্টগ্রাম বিভাগের, তিনজন রাজশাহীর, দুজন করে খুলনা ও রংপুরের এবং একজন বরিশালের। এ পর্যন্ত দেশে মোট মৃতদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫৩ শতাংশ বা তিন হাজার ৪৪৮ জন ঢাকা বিভাগের। এর পরই ১৯.২২ শতাংশ চট্টগ্রাম বিভাগের, ৭.৫৫ শতাংশ খুলনার, ৬.১২ শতাংশ রাজশাহীর, ৪.৫৩ শতাংশ রংপুরের, ৪.০৭ শতাংশ সিলেটের, ৩.৩১ শতাংশ বরিশালের ও ২.০৩ শতাংশ ময়মনসিংহের।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা