kalerkantho

রবিবার । ১০ মাঘ ১৪২৭। ২৪ জানুয়ারি ২০২১। ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

হয়তো ভালো কাজের সম্মান

২৫ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হয়তো ভালো কাজের সম্মান

রিনা আক্তার তালিকার ৬ নম্বরে

১০০ জন অনুপ্রেরণামূলক ও প্রভাবশালী নারীর যে তালিকা প্রকাশ করেছে বিবিসি তাতে ঠাঁই পেয়েছেন বাংলাদেশের রিনা আক্তার ও  রিমা সুলতানা রিমু। তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন কালের কণ্ঠ’র বিশেষ প্রতিনিধি কাজী হাফিজতোফায়েল আহমদ

 

কালের কণ্ঠ : বিশ্বের ১০০ জন অনুপ্রেরণামূলক ও প্রভাবশালী নারীর তালিকায় আপনার নাম। খবরটি কখন পেলেন?

রিনা : কিছুদিন আগেই। এর আগে বিবিসি থেকে আমার সাক্ষাত্কার নিয়েছিল। হয়তো ভালো কাজ করেছি বলেই আমাকে এমন সম্মান দেওয়া হয়েছে। এই সম্মান যৌনকর্মীদের সহায়তার, তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টার গতি বাড়াবে।

 

কালের কণ্ঠ : যৌনকর্মীদের কিভাবে সহায়তা দিচ্ছেন?

রিনা : করোনার কারণে গত মার্চ থেকে ঢাকায় যৌনকর্মীদের উপার্জন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ভাসমান যৌনকর্মীরা রাস্তার পাশে দাঁড়াতেও পারত না। গুলিস্তান মোড়, মহানগর নাট্যমঞ্চসহ রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় যৌনকর্মীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও ঘটে। এ সময় আমি তাদের  কোনোভাবে টিকে থাকার ব্যবস্থা করি। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় চাল, ডাল, শাড়ি, মাস্ক, সাবান ও টাকা তাদের মধ্যে বিতরণ করি। কাউন্সেলিংও করি। করোনা এড়াতে কিভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, নিজেকে নিরাপদ রাখতে হবে—এসব বিষয়ে তাদের মধ্যে সতর্কতা গড়ে তুলতে চেষ্টা করি। তাদের শিশুসন্তানদের খাবারেরও ব্যবস্থা করি। এভাবে আট থেকে ১০ হাজার যৌনকর্মীকে আমি সহায়তা করতে পেরেছি এবং এখন পর্যন্ত এ কাজে লেগে আছি। 

 

কালের কণ্ঠ : রাজধানীতে এ ধরনের ভাসমান যৌনকর্মীর সংখ্যা এখন কত? তাদের বর্তমান অবস্থা কী?

রিনা : আমার ধারণা, ১৫ থেকে ১৬ হাজারের মতো। তারা নানাভাবেই অবহেলা, অবজ্ঞা ও নির্যাতনের শিকার।

 

কালের কণ্ঠ : যৌনকর্মীদের জন্য আর কী করছেন?

রিনা : আমি তাদের জন্য একটা ড্রপিং সেন্টার পরিচালনা করি। ভাড়া বাসায় চলে এই সেন্টার। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভাসমান যৌনকর্মীদের জন্য সেখানে থাকা ও এক বেলা খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। করোনার আগে তাদের প্রতিজনের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে নিতাম। এখন ২০ টাকা করে নিই।

 

কালের কণ্ঠ : আপনার নিজের আয়ের উৎস কী?

রিনা : আমি মেয়েদের জন্য থ্রিপিস, কসমেটিকস বিক্রি করি। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ভাত বিক্রি করি। এতেই আমার নিজেরটা চলে যায়।

 

কালের কণ্ঠ : এ ধরনের জীবন বেছে নেওয়ার কারণ কী?

রিনা : বেছে তো নিইনি, বাধ্য হয়েছি। আমার বয়স যখন আট বছর, তখন আমাদের এক প্রতিবেশী আমাকে যৌনপল্লীতে বিক্রি করে দেয়। মা-বাবার সংসারও ছিল অভাব-অনটনের। আমাদের ইউনিয়নের এক মেম্বার একদিন যৌনপল্লীতে গিয়ে আমাকে চিনতে পারেন। ওই মেম্বার গ্রামে ফিরে সে কথা সবাইকে জানিয়ে দিলে আমার বাবা আমাকে ওই যৌনপল্লী থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যান। কিন্তু গ্রামে আমার আর জায়গা হয় না। ওই মেম্বারই বলে দেন আমাকে আশ্রয় দিলে আমার মা-বাবাকেও সপরিবারে গ্রাম ছাড়তে হবে। এরপর আমাকে এ পথে নামতে হয়।

 

কালের কণ্ঠ : বর্তমানে কি কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন?

রিনা : দুর্জয় নারী সংঘের সঙ্গে অনেক দিন ধরে যুক্ত আছি। যৌনকর্মীদের সহায়তার উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা এ সংগঠনের আমি সাংগঠনিক সম্পাদক। এ ছাড়া সেক্স ওয়ার্কার নেটওয়ার্কের সঙ্গেও আছি।

 

কালের কণ্ঠ : যৌনকর্মীদের সহায়তার জন্য আর কী করতে চান?

রিনা : ওদের হাতের কাজ শেখানোর জন্য একটা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, নিজের চলার জন্য বিকল্প উপার্জনের একটা ব্যবস্থা পেলে ৫০ শতাংশ যৌনকর্মী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা