kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

নবান্ন উৎসব

ওয়ানগালায় মাতল গারো সম্প্রদায়

শেরপুর প্রতিনিধি   

২৩ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ওয়ানগালায় মাতল গারো সম্প্রদায়

নবান্ন উৎসব ‘ওয়ানগালায়’ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে গারো নারীদের নৃত্যগীত। গতকাল শেরপুরের মরিয়মনগর থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

নবান্ন উৎসব ‘ওয়ানগালায়’ মাতল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী গারো সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ও শিশুরা। ‘মিসি সালজং’ বা শস্য দেবতার মর্জির ওপর নির্ভর করে ফসলের ভালো ফলন—এমন বিশ্বাস থেকে দেবতাকে ধন্যবাদ জানাতে তাদের এই আয়োজন। নতুন ফসল ওঠার শুরুতে গারো সম্প্রদায়ের এই উৎসবের আরেকটি উদ্দেশ্য থাকে—পরিবারে ভালোবাসা, মণ্ডলীর আনন্দ ও সব পরিবারের মঙ্গল কামনা করা।

গারো সম্প্রদায়ের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব এই ওয়ানগালা। ‘ওয়ানা’ শব্দের অর্থ দেব-দেবীর দানের দ্রব্যসামগ্রী আর ‘গালা’ অর্থ উৎসর্গ করা। দেব-দেবীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও মনোবাসনার নানা নিবেদন হয় এই উৎসবে। সাধারণত বর্ষার শেষ ও শীতের আগে নতুন ফসল তোলার পর এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মরিয়মনগর সাধু জর্জের ধর্মপল্লীর গির্জা চত্বরে গতকাল রবিবার দিনব্যাপী ওই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় ‘থক্কা’ (চালের গুঁড়ার তিলক) অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ওয়ানগালা উৎসবের সূচনা করেন ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত ও খামাল ফাদার সুবল কুজুর সিএসসি। তাঁকে সহযোগিতা করেন সহকারী পাল পুরোহিত ফাদার আশীষ রোজারিও সিএসসি।

উৎসবে ক্রুশ চত্বরে বাণী পাঠ (মান্দিতে), খামালকে খুথুব ও থক্কা প্রদান, জনগণকে থক্কা দেওয়া, খ্রিস্টযাগ, দান সংগ্রহ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রার্থনা করা হয়। গারো সম্প্রদায়ের কয়েক শ মানুষ দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নেয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গারোদের নিজস্ব ভাষায় গান ও নৃত্য পরিবেশিত হয়। বিকেলে মরিয়মনগর গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে ‘নকগাত্তা’ (ঐহিত্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে নেচে-গেয়ে আনন্দ করা) অনুষ্ঠিত হয়।

সুবল কুজুর সিএসসি জানান, মরিয়মনগর সাধু জর্জের ধর্মপল্লীর উদ্যোগে ১৯৮৫ সাল থেকে এখানে ওয়ানগালা উৎসব পালন করা হচ্ছে। গারো সম্প্রদায়ের সুপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্ম ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সামনে তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। প্রতিবছর উৎসব ঘিরে ধর্মপল্লীর পাশে গারোদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও শিশুদের নানা রকমের খেলনা নিয়ে মেলা বসে। ব্যতিক্রম হয়নি এবারও।

গারো সম্প্রদায়ের বিশ্বাস মতে, ওয়ানগালার আগে নতুন খাদ্যশস্য ভোজন নিষেধ থাকে। শস্য দেবতাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এবং নতুন ফসল খাওয়ার অনুমতির জন্য নেচে-গেয়ে উদযাপন করা হয় ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা উৎসব। তাই অনেকে একে নবান্ন বা ধন্যবাদের উৎসবও বলে থাকে। এটি আবার ১০০ ঢোলের উৎসব নামেও পরিচিত।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা