kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

স্বামী ভাশুর ভাইদের দাপট

পুলিশকে পিটিয়ে হাজতে শ্রমিক লীগ নেতার স্ত্রী

খুলনা অফিস   

১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পুলিশকে পিটিয়ে হাজতে শ্রমিক লীগ নেতার স্ত্রী

স্বামী শ্রমিক লীগ, ভাশুর আওয়ামী লীগ, এক ভাই প্রজন্ম লীগ এবং আরেক ভাই যুবলীগ নেতা। প্রতাপশালী নেতাদের স্বজন হয়ে তিনি দোর্দণ্ড প্রতাপশালী। তাই বহর নিয়ে রূপসা সেতু পার হতে গিয়ে টোলের দাবি মানতে পারেননি ফাতেমা আক্তার বিউটি (৩৯)। সেতুর নিরাপত্তাকর্মীদের হুমকি-ধমকি দিয়েই থেমে থাকেননি তিনি, বরং নিরাপত্তাকর্মীদের রক্ষা করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন দায়িত্বরত পুলিশ কনস্টেবল সাইদুর রহমান। গত শুক্রবারের ওই ঘটনায় এই নারী এখন জেলহাজতে।

ফাতেমা আক্তার বিউটির স্বামী মফিজুল ইসলাম খুলনার রূপসা উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ও রূপসা টেম্পো-অটো টেম্পো-মাহিন্দ্রা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। স্বামীর বড় ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক নৈহাটী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রূপসা-বাগেরহাট বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। আবার বিউটির ভাই মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ বাবু। অন্য ভাই রূপসা চিংড়ি বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও রূপসা উপজেলা যুবলীগের সদস্য আবু আহাদ হাফিজ বাবু। 

প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ফাতেমা আক্তার বিউটি গত শুক্রবার চারটি মাইক্রোবাস, দুটি প্রাইভেট কার ও তিন-চারটি মোটরসাইকেলে অর্ধশতাধিক মানুষের বহর নিয়ে রূপসা থেকে তাঁর মেয়ের বউভাতের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে খুলনা শহরে যাচ্ছিলেন। গাড়ির বহরটি দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে রূপসা সেতুর পূর্ব পাশে টোল প্লাজার ৬ নম্বর লেন দিয়ে সিরিয়াল ভেঙে ও টোল না দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেন। এ নিয়ে গাড়িতে বসেই বিতর্কে লিপ্ত হন বিউটি। পরে দুই ভাতিজা আহমদ আলী শেখ ও মোহাম্মদ আলী শেখ এবং গাড়িচালক মনি গাজীকে নিয়ে তিনি গাড়ি থেকে নেমে আসেন। নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে বিউটি সিকিউরিটি গার্ড রবিউল ইসলামকে ধাক্কা দেন। এ সময় দায়িত্বরত পুলিশ এসে ঘটনাটি জানতে চাইলে বিউটি পুলিশ কনস্টেবল সাইদুর রহমানকে ধাক্কা দিয়ে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। তাঁর টানাহেঁচড়ায় সাইদুরের পোশাক ছিঁড়ে যায়। পরে অন্য পুলিশ সদস্যরা এসে সাইদুরকে উদ্ধার এবং ফাতেমা আক্তার বিউটিকে আটক করেন। এ ঘটনায় পুলিশের নায়েক রাজীব হোসেন ও সেতু বিভাগের পক্ষে মশিউর রহমান ওই রাতেই চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরো তিন-চারজনের নামে রূপসা থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।

সেতু বিভাগের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) বাদল দাস কালের কণ্ঠকে বলেন, মামলার প্রধান আসামি ফাতেমা গ্রেপ্তার রয়েছেন। সরকারি কাজে বাধাদান, মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলাটি হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।

রূপসা থানার ওসি মোল্লা জাকির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, রূপসা টোল প্লাজার ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

রূপসার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বামী ও বাবার বাড়ির লোকজন প্রভাবশালী হওয়ায় ফাতেমা আক্তার বিউটিরা কাউকেই গ্রাহ্য করেন না। নৈহাটী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শীর্ষ সন্ত্রাসী মোস্তফা কামাল ওরফে মিনা কামালের অনুসারী ছিলেন বিউটির ভাই আবু সালেহ বাবু ও আবু আহাদ হাফিজ বাবু। র‌্যাবের ক্রসফায়ারে মিনা কামাল নিহত হওয়ার পর এই দুই ভাই এখন রূপসার ডন। মিনা কামালের মতো তাঁরাও নিজস্ব টর্চার সেল এবং বিচার-সালিসকেন্দ্র গড়ে তুলেছেন। এ জন্য অফিস নিয়েছেন পূর্ব রূপসা বাজারে আড্ডা গলিতে (আদর্শ গলি)। এখানে মিনা কামাল স্টাইলে চলে সালিস-বিচার ও নির্যাতন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক ব্যক্তি বলেন, এই পরিবারের সবাই প্রভাবশালী। পরিবহন ব্যবসা, শ্রমিক ইউনিয়নসহ ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা