kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

অপ্রাপ্তবয়স্ক ১১ আসামির জেল

বরগুনা প্রতিনিধি   

২৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অপ্রাপ্তবয়স্ক ১১ আসামির জেল

বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির ছয়জনকে ১০ বছর কারাদণ্ড, চারজনকে পাঁচ বছর, একজনকে তিন বছর এবং বাকি তিনজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে বরগুনার শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় পর্যালোচনায় আদালত বলেছেন পারিবারিক, নৈতিক ও মৌলিক শিক্ষার অভাবে বিপথগামী হয়েছে এসব কিশোর আসামি। এই আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে দেশে কিশোর অপরাধের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে। আদালত এ কারণে কিশোর অপরাধের শাস্তি বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। এ ছাড়া নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী ও মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির অনৈতিক এবং বেপরোয়া জীবন যাপন নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বলেও উল্লেখ করেন আদালত।

রায়ে এ মামলার আসামি মো. রাশিদুল হাসান রিশান ফরাজী, মো. রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার, মো. আবু আবদুল্লাহ রায়হান, মো. ওয়ালিউল্লাহ অলি, মো. নাঈম ও তানভীর হোসেনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জয়চন্দ্র সরকার চন্দন, মো. নাজমুল হাসান, রাকিবুল হাসান নিয়ামত, সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ ওরফে মহিব্বুল্লাহকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রিন্স মোল্লাকে দেওয়া হয়েছে তিন বছরের কারাদণ্ড। মামলার অন্য তিন আসামি মারুফ মল্লিক, রাতুল সিকদার জয় ও আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ বেকসুর খালাস পেয়েছে।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও বরগুনার শিশু আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, ‘মাত্র ৬৩ কার্য দিবসে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। রায়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’ এ রায় মানুষকে আশাবাদী করবে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘অপরাধ করে যে পার পাওয়া যায় না তা আবারও এই রায়ের মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হয়েছে।’

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁরা রায়ে সন্তুষ্ট নন। তাঁরা উচ্চ আদালতে যাবেন।

এ মামলার একজন আইনজীবী গোলাম মোস্তফা কাদের জানান, দেশে কিশোর অপরাধ কমিয়ে আনতে অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের শাস্তি বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে রায়ের পর্যালোচনায় বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন আদালত। তিনি জানান, আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, পারিবারিক, নৈতিক ও মৌলিক শিক্ষার অভাবে বিপথগামী হয়েছে এসব কিশোর। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে দেশে কিশোর অপরাধের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে। আদালত এ ছাড়া নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির অনৈতিক এবং বেপরোয়া জীবন যাপন নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বলেও উল্লেখ করেন।

গত ১৪ অক্টোবর এ মামলার দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে বিচারক মো. হাফিজুর রহমান রায়ের জন্য আজ মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন। গত বছরের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত হত্যাকাণ্ড ঘটে। ওই বছর ১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই ভাগে বিভক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জন। 

গত ৮ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার শিশু আদালত। এরপর ১৩ জানুয়ারি এই ১৪ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মোট ৭৪ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে এ মামলায়।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর এ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির রায় ঘোষণা করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান। রায়ে নিহত রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ ছয়জনের ফাঁসির আদেশ দেন। বাকি চারজনকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।

প্রসঙ্গত গত বছরের ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে কিশোর গ্যাং ‘বন্ড বাহিনী’ কুপিয়ে হত্যা করে রিফাত শরীফকে। হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।  চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকেলেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান রিফাত শরীফ। এই হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মন্তব্য