kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহারে অগ্রগতি নেই

ঘাটে ঘাটে অচলাবস্থা বাজারে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহারে অগ্রগতি নেই

পণ্যবাহী নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহারে গতকাল বুধবারও কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে দ্বিতীয় দিনের ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আগের দিনের মতো অনেকটা অচলাবস্থা তৈরি হয়। তবে ধর্মঘট প্রত্যাহারে সরকারের তরফ থেকে উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। গতকালও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছে সরকারপক্ষ। আলোচনায় শ্রমিক নেতারা ছিলেন অনড়। সোমবার মধ্যরাত থেকে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে পণ্যবাহী নৌযানে এ ধর্মঘট শুরু হয়।

চট্টগ্রামে বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য স্থানান্তর পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে বহির্নোঙর থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে নৌপথে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় সাগরে এবং ঘাটে ঘাটে পণ্যভর্তি জাহাজ আটকা পড়েছে। ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে বহির্নোঙরে ৫৪টি বিদেশি জাহাজে ১০ লাখ টন পণ্য আটকা পড়েছে। এর বাইরে সাগর ও নদীপথে গন্তব্যে রওনা দেওয়ার পর মাঝপথে বিভিন্ন ঘাটে আটকা পড়েছে ১১ লাখ ৯০ হাজার টন। সব মিলিয়ে ২১ লাখ টন পণ্য আটকা পড়েছে।

চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় ভোগ্য পণ্য আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল বশর চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ধর্মঘটের ফলে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হবে, একই সঙ্গে শিল্প-কারখানায় যথাসময়ে কাঁচামাল পৌঁছতে বিলম্ব হবে। আমদানি পণ্য সরবরাহ হয়ে উৎপাদন এবং বাজারে সরবরাহ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এর কোনো এক স্থানে ব্যাঘাত ঘটলে পুরো সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এতে শিল্পোৎপাদন ব্যাহত হবে এবং বাড়তি বসে থাকার কারণে আর্থিক ক্ষতির বোঝা আরো বাড়বে।

তবে চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের জাহাজ আসা-যাওয়ায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। জেটিতে পণ্য ওঠানামা স্বাভাবিক ছিল এবং বন্দর থেকে সড়ক-রেলপথে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক ছিল।

ধর্মঘট প্রত্যাহার করে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আবারও আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, ‘কভিড-১৯ মহামারি নিয়ে সব শিল্পোদ্যোক্তা-শ্রমিক-কর্মচারী যখন বাড়তি শ্রম দিয়ে পরিস্থিতি উত্তরণের চেষ্টায় নিয়োজিত তখন এমন ধর্মঘট সত্যিই আমাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ধর্মঘটের কারণে বাড়তি জাহাজ ভাড়া বাবদ দিনে প্রতিটি জাহাজে ১০ হাজার মার্কিন ডলারের বোঝা তো পণ্যের দামের সঙ্গে যোগ হয়ে দাম বাড়বে।’

এদিকে ধর্মঘট পালনে গতকালও ছোট ছোট মিছিল নিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ঘাটে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক খোরশেদ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ধর্মঘট শুরুর পর আমরা এখন পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারিভাবে বৈঠকের কোনো উদ্যোগ দেখছি না। শুধু শুনেছি বড় কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিজেদের জাহাজের শ্রমিকদের খোরাকি ভাতা দিচ্ছে; কিন্তু বাকি জাহাজ মালিকদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া দেখছি না।’

বরিশালে বিআইডাব্লিউটিএর গাবখান চ্যানেলের সিগন্যালম্যান রুহুল আমীন জানান, ধর্মঘটের ফলে গাবখান চ্যানেল জাহাজশূন্য। মোংলাগামী জাহাজ ঘষিয়াখালী চ্যানেলে অবস্থান করছে। অন্যদিকে বরিশাল, ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী জাহাজ মোংলা নদীবন্দরে অবস্থান করছে। কীর্তনখোলা নদীর তীরে জাহাজ নোঙর করে আছে।

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন বরিশাল আঞ্চলিক সভাপতি আবুল হাসেম মাস্টার সকালে বলেন, শ্রমিকরা সন্ধ্যার পর থেকে বরিশাল নৌবন্দর এলাকায় ফেডারেশন কার্যালয়ে অবস্থান নেন। রাত ১২টার পর নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেন। এখনো পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে নারায়ণগঞ্জের ৫ নম্বর ঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে কর্মবিরতির সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বাংলাদেশ জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ মিছিলে ছিলেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শাহআলমসহ অন্যরা। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে জেলা নৌযান শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল ও কর্মবিরতি পালন করেছেন। গতকাল সকাল ১১টায় লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে নৌযান শ্রমিক লীগ এ কর্মসূচি পালন করে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা নৌযান শ্রমিক লীগের সভাপতি আবুল হাসেম খানের নেতৃত্বে জেলার সব পণ্যবাহী নৌযানের শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালনসহ বিক্ষোভ মিছিল করেন।

প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল ও মুন্সীগঞ্জের প্রতিবেদকরা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা