kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

হাইকোর্টে সমঝোতার রায়

বাসে পা হারানো রাসেল আরো ২০ লাখ টাকা পাবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাসে পা হারানো রাসেল আরো ২০ লাখ টাকা পাবেন

গ্রিন লাইন পরিবহনের একটি বাসের চাপায় এক পা হারানো রাসেল সরকারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ আরো ২০ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তিন মাসের মধ্যে এই টাকা এককালীন পরিশোধ করতে বলা হয়েছে গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষকে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দিয়েছেন। রিট আবেদনকারী ও গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষের সম্মতিতে এই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উভয় পক্ষের আইনজীবীরা। এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া প্রশ্নে জারি করা রুলের ওপর শুনানি শেষে রুলটি নিষ্পত্তি করে এ রায় দেন আদালত। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন রাসেল সরকার। 

এর আগে গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ রাসেলকে মোট ১৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা দিয়েছিল। দুই কিস্তিতে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা এবং চিকিৎসা বাবদ তিন লাখ ৪২ হাজার টাকা দিয়েছিল। গতকাল এই রায়ের ফলে গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষকে আরো ২০ লাখ টাকা দিতে হবে।

গ্রিন লাইনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক বলেছেন, ‘ছেলেটি পা হারিয়েছে। তাই ক্ষতিপূরণ পেতেই পারে। তাই মানবিক দিক বিবেচনা করেই আমরা ২০ লাখ টাকা দিতে সম্মত হয়েছি। আমরা সম্মতি জানানোর পর আদালত একটি সম্মত রায় দিয়েছেন। তাই এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে না।’

রায়ের পর রাসেল সরকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘১০০ কোটি টাকা দিলেও আমি আর পা ফিরে পাব না। তাই আদালত যে রায় দিয়েছেন তাতে আমি সন্তুষ্ট।’ তিনি বলেন, ‘আগে আমি স্ত্রী, সন্তান, মাতা-পিতা নিয়ে ঢাকায় থাকতাম। দুর্ঘটনার পর গ্রামে চলে যেতে হয়েছে। এখন গ্রামেই থাকি।’ তিনি বলেন, ‘এই টাকা পাওয়ার পর তা ব্যাংকে স্থায়ী ডিপোজিট করব অথবা এফডিআর করে রাখব। তা থেকে যা আয় হবে তা দিয়েই সংসার চালাব।’

২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে গ্রিন লাইন পরিবহনের ধাক্কায় মারাত্মক আহত হন গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার পার্বতীপুর গ্রামের মো. শফিকুল আসলামের ছেলে রাসেল সরকার। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একপর্যায়ে তাঁর একটি পা কেটে ফেলতে হয়। আরেক পা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁকে আইনগত সহায়তা দিতে এগিয়ে আসেন গাইবান্ধার একই এলাকার বাসিন্দা জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য (কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি। এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন এই নারী নেত্রী। হাইকোর্ট রুল জারি করেন। গত বছর ১২ মার্চ হাইকোর্ট থেকে তাঁকে ৫০ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ওই বছরের ১০ এপ্রিল হাইকোর্ট এক আদেশে প্রতি মাসে পাঁচ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এই নির্দেশের পর গত বছর জুলাই পর্যন্ত মোট ১৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা দেয় গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ। তবে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ আবেদন করায় আপিল বিভাগ গত বছর ১৩ অক্টোবর হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেন। এর পর থেকে আর কোনো টাকা দেয়নি পরিবহন সংস্থাটি। এ অবস্থায় এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া প্রশ্নে রুলের ওপর হাইকোর্টে চূড়ান্ত শুনানি হয়।

গতকাল শুনানিকালে আদালত গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হকের কাছে জানতে চান, ‘কত টাকা দিতে পারবেন?’ এরপর ওই আইনজীবী গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফোনে কথা বলে আদালতকে জানান, ১৫ লাখ টাকা দিতে পারবে। এরপর আদালত বলেন, ‘আপনারা ১৫ লাখ টাকা দিতে যখন রাজি, তখন আপনি আরো পাঁচ লাখ টাকা বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা দিতে বলেন। আমরা রায়ে বলে দিচ্ছি, আপনারা ২০ লাখ টাকা দিতে রাজি হয়েছেন।’ এরপর ওই আইনজীবী আবারও ফোনে গ্রিন লাইন বাস মালিকের সঙ্গে কথা বলে আদালতকে ২০ লাখ টাকা দিতে সম্মত হওয়ার তথ্য জানান। এরপর আদালত রায় ঘোষণা করেন।

মন্তব্য