kalerkantho

শুক্রবার । ৭ কার্তিক ১৪২৭। ২৩ অক্টোবর ২০২০। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

যেখানে বাল্যবিয়ে সেখানেই যুব নেটওয়ার্ক

ভুবন রায় নিখিল, নীলফামারী   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যেখানে বাল্যবিয়ে সেখানেই যুব নেটওয়ার্ক

নীলফামারী জেলায় করোনাকালে বেড়েছে কন্যাশিশু বিয়ের হার। জেলায় এর সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও কন্যাশিশুর বিয়ে প্রতিরোধে কাজ করা যুব নেটওয়ার্কের সদস্যরা এ তথ্য দিয়েছেন। তাঁরা জানান, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এ সংখ্যা বেড়েছে অন্তত তিন গুণ।

জেলার জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের রাজবাড়ী গ্রামের শিরিন আক্তার আশা এলাকায় কন্যাশিশুর বিয়ে প্রতিরোধে কাজ করছেন ২০১৫ সাল থেকে। তিনি বর্তমানে জেলা যুব নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক। নিজ এলাকায় পাঁচ বছরে ১৮০টি  কন্যাশিশুর বিয়ে প্রতিরোধ করেছেন তিনি।

শিরিন আক্তার আশা বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে করোনাকালীন কন্যাশিশুর বিয়ের মাত্রা বেড়েছে তিন গুণ। এ সময় আমার নিজ এলাকা জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে কন্যাশিশুর বিয়ে হয়েছে অন্তত ১০টি। আমরা একটি বিয়ে প্রতিরোধ করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে কন্যাশিশুর বিয়ের খবর আমরা পেতাম শিক্ষার্থী এবং তাদের বন্ধুদের মাধ্যমে। কিন্তু করোনাকালীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, মানুষের স্বাভাবিক চলাচল না থাকায় গোপন থেকেছে কন্যাশিশুর বিয়ের ঘটনা।’

একই সংগঠনের জেলা কমিটির  অর্থবিষয়ক সম্পাদক এবং জলঢাকা উপজেলার কৈমারী ইউনিয়ন যুব নেটওয়ার্কের সভাপতি আজপিয়া আক্তার বলেন, ‘করোনাকালীন আমার ইউনিয়নে অন্তত ২০টি কন্যাশিশুর বিয়ে হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে অনেকে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে গাড়ির মধ্যেও বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার উদারণ রয়েছে।’

যুব নেটওয়ার্কের তথ্যের এসব প্রতিফলন নেই জেলা মহিলা দপ্তরে। ওই দপ্তরে করোনাকালীন মার্চ থেকে মে পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদন নেই। তবে ওই দপ্তরে গত জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত কন্যাশিশুর বিয়ে প্রতিরোধের তিনটি তথ্য পাওয়া গেছে। ওই তিনটির মধ্যে জুন মাসে ডিমলা উপজেলায় একটি, কিশোরগঞ্জ উপজেলায় একটি এবং আগস্ট মাসে সৈয়দপুর উপজেলায় একটি।

জলঢাকা উপজেলায় কন্যাশিশুর বিয়ে প্রতিরোধে কাজ করছে বেসরকারী সংস্থা ইউএসএস। সংস্থাটির তথ্যমতে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত কন্যাশিশুর বিয়ে হয়েছে ৬৪টি। এর মধ্যে মার্চ মাসে ১৩টি, জুন মাসে ১৫টি, জুলাই মাসে ২১টি ও আগস্ট মাসে ১৫টি।

করোনাকালীন কন্যাশিশু বিয়ের প্রবণতা বাড়ার বিষয়ে ইউএসএসের নির্বাহী পরিচালক আলাউদ্দিন আলী বলেন, ‘জলঢাকা উপজেলার ইউনিয়নভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, করোনাকালীন কন্যাশিশু বিয়ের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। মানুষের আয়রোজগার কমে যাওয়ায় হতাশার মধ্যে মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব আসলে অভিভাবকরা তা হাতছাড়া করেননি। করোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় প্রশাসনও আগের মতো নজর রাখতে পারেনি। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ভুক্তভোগীর বন্ধুরাও প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে পারেনি। আর কন্যাশিশুবান্ধব সংগঠনগুলো এ সময় তাদের তৎপরতা চালাতে পারেনি।’   

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা