kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পবিত্র ওমরাহ

নভেম্বর সামনে রেখে এজেন্সিগুলোর প্রস্তুতি

মোশতাক আহমদ   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নভেম্বর সামনে রেখে এজেন্সিগুলোর প্রস্তুতি

করোনা পরিস্থিতিতে কয়েক মাসের বিরতির পর পবিত্র ওমরাহ চালুর খবরে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। তাঁরা ওমরাহ পালনের জন্য অধীর অপেক্ষায় আছেন। বেসরকারি এজেন্সিগুলো এরই মধ্যে ওমরাহর যাত্রী পাঠাতে প্রস্তুতি শুরু করেছে। এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম চালাচ্ছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

ওমরাহর প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে গতকাল সোমবার হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদত হোসাইন তসলিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রথম ধাপে শুধু সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ লোকজনের জন্য ওমরাহ চালু হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে কবে ওমরাহ পালনের অনুমতি পাওয়া যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে শিগগিরই ওমরাহ কার্যক্রম শুরুর আশায় আমরা যথাযথ প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

গত ২২ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তিন ধাপে ওমরাহ চালুর বিষয়টি জানানো হয়। প্রথম ধাপে আগামী ৪ অক্টোবর থেকে সৌদি আরবের নাগরিক ও দেশটিতে থাকা বিদেশিরা নিবন্ধনের মাধ্যমে (সীমিত সংখ্যায়) ওমরাহ পালনের সুযোগ পাচ্ছেন। এরই মধ্যে গতকাল সোমবার থেকে প্রথম ধাপের ওমরাহ পালনে আগ্রহীদের নিবন্ধন শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আগামী ১ নভেম্বর থেকে সৌদি আরবের স্থানীয়রাসহ বিশ্বের সব দেশের মুসলমানদের জন্য ওমরাহ কার্যক্রম উন্মুক্ত হওয়া কথা। তবে কোন কোন দেশ এই সুযোগ পাবে তা সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে সৌদি গেজেট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

গত রবিবার পত্রিকাটির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রী মুহাম্মদ সালেহ বেনতেন বলেছেন, আগামী ১ নভেম্বর থেকে কোন দেশকে ওমরাহর যাত্রী পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হবে সে বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে। যদিও বাংলাদেশের ওমরাহ এজেন্সিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, সৌদি আরব সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী তৃতীয় ধাপে অর্থাৎ ১ নভেম্বর থেকে এদেশ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ওমরাহ পালনের সুযোগ পাবেন। সেভাবেই সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এর আগে সালেহ বেনতেন এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বিদেশি হজযাত্রীদের আগমন ও প্রস্থানের জন্য একটি বিশেষ পথ থাকবে। ৪ অক্টোবর থেকে পুনরায় ওমরাহ পালনের সুযোগ চালুর কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রথম পর্যায়ে মাত্র ১২টি গ্রুপকে এক দিনের মধ্যে ওমরাহ করতে দেওয়া হবে। প্রতি গ্রুপে থাকবে ৫০০ জন। প্রতিটি গ্রুপের সঙ্গে হারাম শরিফের পেশাদার স্বাস্থ্যকর্মীরা থাকবেন। প্রথম পর্বে শুধু ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সীদেরই ওমরাহ পালনের অনুমতি দেওয়া হবে।

বেনতেন জানান, ওমরাহর অনুমতি পেতে কোনো ফি দিতে হবে না। তবে মোবাইল অ্যাপ ‘ই‘তামারানা’র মাধ্যমে প্রবেশের পদ্ধতি শেষ না করে মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে কোনো ওমরাহযাত্রীকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। ওমরাহযাত্রীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

সৌদি গেজেট জানায়, রবিবার থেকে সৌদি আরবের নাগরিক ও দেশটিতে থাকা প্রবাসীদের ওমরাহ মোবাইল অ্যাপটি (ই‘তামারানা) ডাউনলোড করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ওমরাহ পালনের জন্য তাঁদের নাম নিবন্ধন করার পাশাপাশি দুটি পবিত্র মসজিদ দর্শন এবং সেখানে এবাদত করার জন্য কার্যকর করা হয়েছে। এদিকে দীর্ঘদিন পর ওমরাহ শুরুর আগেই রবিবার থেকে সীমিতভাবে সৌদির ‘ইহরাম’ পোশাকের দোকানগুলো ফের বেচাকেনা শুরু করেছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নূরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে ওমরাহর যাত্রী পাঠাতে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগ্রহীরা পবিত্র ওমরাহ পালন করুক, এটাই আমরা চাই।’

বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ওমরাহ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় সৌদি আরব সরকার। এমনকি কয়েক মাস কাবাঘরে তাওয়াফও বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে সীমিত পরিসরে তাওয়াফ চালু করা হয়। এরই মধ্যে সীমিত পরিসরে সৌদি আরবে অবস্থানরত অল্পসংখ্যক মুসলমানকে নিয়ে এ বছরের পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা