kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

রাজশাহী বিসিক-২ প্রকল্প

‘৫০% কাজ শেষ’ নিয়ে ধূম্রজাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘৫০% কাজ শেষ’ নিয়ে ধূম্রজাল

মাটি ভরাট, রাস্তাঘাট, ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণ এখনো বাকি। লাগেনি পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ লাইনের সংযোগ। সীমানাপ্রাচীর, পাম্প হাউজিং, অফিস, পানি সংরক্ষণের জন্য পুকুর—কিছুই তৈরি হয়নি। বড় বড় এই কাজ বাকি রেখেই প্রকল্পের ‘৫০ শতাংশ কাজ শেষ’ হয়েছে বলে দাবি করে বসেছেন রাজশাহীর বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) শিল্পনগরী-২ প্রকল্পের কর্তারা। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পটি নিয়ে মহাদুর্নীতি করতেই ভূমি অধিগ্রহণ ছাড়া কোনো কাজ না করেই ৫০ শতাংশ কাজ শেষ বলা হচ্ছে।

প্রকল্পটির ভূমি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন হয় গত ৪ জুলাই। এরপর রাজশাহী নগরীর কেচুয়াতৈল এলাকায় ওই প্রকল্পের শুধু ১৫০ বিঘা জমি অধিগ্রহণই করা হয়েছে। তবু ৫০ শতাংশ কাজ শেষ এই মর্মে প্রাক্কলনবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বিসিক কর্তৃপক্ষ। আদতে সেই পরিমাণ কাজ শেষ না হওয়ায় প্রতিবেদনটি আটকে দিয়েছে কমিটি। ভূমি অধিগ্রহণের বাইরে কোনো কাজ না করেও কিভাবে ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হলো, তা নিয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বিস্ময় প্রকাশ করেছে।

মজার ব্যাপার হলো, ৫৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে প্রথমে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। পরে সংসদীয় কমিটি সেটি নিয়ে আপত্তি তোলায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষ দেখিয়ে নতুন প্রতিবেদন দেয় বিসিক।

জানা যায়, ভূমি অধিগ্রহণ হলে নিয়ম অনুযায়ী কাজের মাত্র ১০ শতাংশ শেষ হয়। বাকি ৪০ শতাংশ কাজ কিভাবে শেষ দেখানো হয়েছে, সংসদীয় কমিটিকে তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি বিসিক কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগ উঠেছে, ১৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৫ কোটি টাকা। আর বাকি ৬৭ কোটি টাকা ধরা হয়েছে অন্যান্য কাজের জন্য। এর মধ্যে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ধরা হয়েছে জমি ভরাটের জন্য।

এদিকে গতকাল সোমবার সরেজমিন নগরীর সিটি বাইপাস রোডের পাশে কচুয়াতৈল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রাজশাহী বিসিক শিল্পনগরী-২ প্রকল্পের অগ্রগতি বলতে শুধু একটি ভিত্তিপ্রস্তর। যেখানে ভিত্তিটি স্থাপন করা হয়, তার পাশ দিয়েই একটি রাস্তা নেমে গেছে প্রকল্পের ভেতরে। রাস্তাটিও আগে থেকেই ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, ‘ভূমি উন্নয়ন কাজের কিছুই হয়নি। বর্ষার কারণে হয়তো ঠিকাদার করতে পারেনি। তাই বলে বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়েছে দাবি করাটা ঠিক হয়নি। এর পেছনে হয়তো বড় ধরনের দুর্নীতির ছক কষে আছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রকল্পের টাকা আগেভাগেই শেষ করে দিয়ে ফের টাকা চাওয়ার ফন্দিও হতে পারে এটি।’

এদিকে মাটি ভরাট কাজের ঠিকাদার হাবিবুর রহমান ডলার বলেন, ‘আমরা যখন কাজটি পাই, তখন থেকেই বর্ষা শুরু হয়েছে। ফলে কাদা-পানির কারণে সেখানে বালু ফেলতে পারছি না। তবে আশা করছি, দ্রুতই কাজটি শুরু করতে পারব।’

এদিকে প্রকল্পের পরিচালক হায়দার আলী বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণের জন্য কিছু মাটি ফেলা হয়েছে। এর বাইরে কোনো কাজ হয়নি। তবে কয়েক দিনের মধ্যে দ্রুতই কাজটি শুরু হবে। আর মেয়াদ অনুযায়ী আগামী জুলাইয়ের মধ্যে কাজটি শেষ করতে পারব বলে আশা করছি।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের মোট ব্যয়ের অর্ধেক টাকা ব্যয় হচ্ছে জমি অধিগ্রহণের জন্য। সেই হিসাবে হয়তো অর্ধেক কাজ এগিয়েছে বলা যেতে পারে। তবে অর্ধেকেরও বেশি কাজ হয়েছে—এই ধরনের প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে বলে আমার জানা নেই। সেটি হলেও আমার অগোচরে দেওয়া হতে পারে।’

এদিকে প্রাক্কলনবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী-২ আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘প্রকল্পের ৫৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে জানিয়েছে বিসিক। কিন্তু আমরা সেটি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছি। কিভাবে এই কাজ শেষ হলো তার ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে। কিন্তু বিসিকের চেয়ারম্যান কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে তিনি ওই প্রতিবেদন বদলে ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে—এই মর্মে নতুন প্রতিবেদন দিয়েছেন। কিন্তু এটি নিয়েও আমাদের আপত্তি আছে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা