kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

নজরদারিতে পেঁয়াজ আমদানিকারকরা

সজীব হোম রায়   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নজরদারিতে পেঁয়াজ আমদানিকারকরা

প্রতিবছর আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাস এলেই কোনো না কোনো অজুহাতে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের অনুরোধে একাধিক শিল্প গ্রুপও পেঁয়াজ আমদানিতে মাঠে নামে। নানা পথে স্বাভাবিক সময়ের চেয়েও বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি হয়। কিন্তু ঠিক কী পরিমাণ পেঁয়াজ দেশে আসে, কতটা ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়, দাম কত ধরা হয়—এসবের সঠিক মনিটরিং হয় না। পর পর দুই বছর ধাক্কা খেয়ে এবার সরকার আমদানিকারকদের নজরদারিতে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি উল্লেখ করে গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরকে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পেঁয়াজ আমদানিতে কত দামে কী পরিমাণ এলসি খোলা হচ্ছে তা আমরা জানতে চাই। বিষয়টি নিয়ে আজই (গতকাল) বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাদের সব তথ্য জানাবে।’ তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে বড় শিল্প গ্রুপগুলো পেঁয়াজ আমদানিতে মাঠে নেমেছে। গত বছরের মতো এবার আর দাম বাড়তে দিইনি। আশা করছি ১৫-২০ দিনের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে, দেশে প্রতি মাসে পেঁয়াজের চাহিদা দুই থেকে তিন লাখ টন। সে হিসাবে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ থেকে ২৫ লাখ টন। এই চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানি করে মেটানো হয়। তবে আমদানির সঠিক তথ্য নেই সংশ্লিষ্ট কারো কাছে। কত দামে এলসি খোলা হচ্ছে তাও মনিটরিংয়ের বাইরে থাকে। ফলে আমদানিকারকরা সহজেই পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি করার সুযোগ পেয়ে যায়। তারা এলসি মূল্যে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পেঁয়াজ বাজারজাত করে। এতে পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়ে যায়।

জানা গেছে, দেশের চারটি বন্দরের মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানির রেকর্ড ও দাম পর্যালোচনা করা হবে। আমদানি ও খুচরা বাজারে দামের বিশাল ফারাক কেন, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে। পেঁয়াজ আমদানির জন্য ব্যবসায়ীরা কী পরিমাণ এলসি খুলেছেন ও খুলছেন এবং তা নিষ্পত্তির সংখ্যাও পর্যালোচনা করা হবে। এ জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এসংক্রান্ত প্রতিদিনের তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে।

পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে গত বছরের মতো এবারও বড় শিল্প গ্রুপগুলোকে পেঁয়াজ আমদানির অনুরোধ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এতে সাড়া দিয়ে এরই মধ্যে বড় চারটি শিল্প গ্রুপ এস আলম, মেঘনা, সিটি ও বিএসএম এলসি খুলছে। এস আলম গ্রুপ মোট এক লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির টার্গেট নিয়েছে। অন্য বড় গ্রুপগুলোও কাছাকাছি পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করবে। বড় শিল্প গ্রুপের আমদানি করা পেঁয়াজ ভর্তুকি মূল্যে সারা দেশে বিক্রি করা হবে। এ ছাড়া পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে ছোট ও মাঝারি মাপের আড়াই শ ব্যবসায়ী প্রায় দেড় লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছেন।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চেয়ারম্যান গোলাম রহমান এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রতিবছর প্রায় একই সময়ে নানা কারণে পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি হয়। এতে ভোক্তারা ঠকে। লাভ হয় ব্যবসায়ীদের। গত বছর দেশে পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের হাতে তাই যথেষ্ট পেঁয়াজ মজুদ আছে। ভারত হঠাৎ পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় এর ফায়দা লুটছেন ব্যবসায়ীরা। সরকারের উচিত মনিটরিং আরো জোরদার করা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা