kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

নোবেল শান্তি পুরস্কার

বাংলাদেশি মার্কিন চিকিৎসক মনোনয়নের তালিকায়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশি মার্কিন চিকিৎসক মনোনয়নের তালিকায়

ডা. রুহুল আবিদ

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের আলপার্ট মেডিক্যাল স্কুলের অধ্যাপক বাংলাদেশি-মার্কিন চিকিৎসক রুহুল আবিদ নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। রুহুল আবিদ ও তাঁর অলাভজনক সংস্থা হেলথ অ্যান্ড এডুকেশন ফর অলকে (হায়েফা) নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদানে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবে এই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিন-ফিলিপ বেলিউ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর ফলে চলতি ২০২০ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য বিশ্বজুড়ে মনোনীত ২১১ জনের মধ্যে স্থান করে নিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডা. আবিদ।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে স্নাতক এবং জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোলিকুলার বায়োলজি ও জৈব রসায়নে পিএইচডি ডিগ্রিধারী আবিদ ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলে ফেলোশিপ শেষ করেন।

তাঁর অলাভজনক সংস্থা হায়েফা বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিতদের বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি গত তিন বছরে প্রায় ৩০ হাজার পোশাক শ্রমিককে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি প্রায় ৯ হাজার সুবিধাবঞ্চিত নারী ও পোশাক শ্রমিকের জরায়ু ক্যান্সার স্ক্রিনিং ও চিকিৎসাসেবা ছাড়াও কক্সবাজারে আশ্রিত মিয়ানমারের উদ্বাস্তু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দেড় হাজারেরও বেশি জনকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে বিনা মূল্যে। এর বাইরে সংস্থাটি কক্সবাজারের দুটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কভিড-১৯ সংক্রমণ মোকাবেলায় দক্ষতা তৈরির প্রশিক্ষণও দিয়ে যাচ্ছে।

২০১৬ সালে হায়েফা ডিজিটাল উদ্ভাবন ‘নিরোগ’-এর মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছে, এমন মানুষের চিকিৎসা রেকর্ড, রোগ বিশ্লেষণ এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করে ডা. আবিদ ও তাঁর দল। সৌরবিদ্যুৎ চালিত এবং অফলাইনে ব্যবহার করা যায়, এমন একটি মোবাইল ইলেকট্রনিক মেডিক্যাল রেকর্ড (ইএমআর) সিস্টেম হচ্ছে ‘নিরোগ’। ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর থেকে ‘নিরোগ’ পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা বারকোডসহ ডিজিটাল হেলথ কার্ড সিস্টেম চালু করা হয়েছে।

২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের ভয়াবহ ঘটনার পর ডা. আবিদ দেশজুড়ে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ‘হায়েফা’ প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৩ সালে হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের ডা. রোজমেরি দুদার সঙ্গে ঢাকা ও গাজীপুরের তিনটি কারখানায় বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছেন পোশাক শ্রমিকদের।

বর্তমানে কক্সবাজারের কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্পে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের নিয়ে হায়েফা দুটি স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিক পরিচালনা করছে। ডা. আবিদের পরিচালিত এসব ক্লিনিক দীর্ঘমেয়াদি ও দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা এবং সংক্রামক নয় এমন রোগ, যেমন—ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি, অপুষ্টিজনিত জটিলতা ও জরায়ুর ক্যান্সারের চিকিৎসা দিয়ে থাকে। ১৯৮২ সাল থেকে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করার পর টেকসই স্বাস্থ্যসেবার অভাবে তাদের মধ্যে অপুষ্টি ও অসুস্থ হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে সুবিধাবঞ্চিত পোশাক শ্রমিক ও উদ্বাস্তু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ডা. আবিদের সেবামূলক কর্মকাণ্ড ব্যাপক আলোচনা ও প্রশংসা কুড়িয়েছে সর্বত্র।

ডা. আবিদ ও তাঁর সংস্থা জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য ২০১৮ সালে গ্র্যান্ড চ্যালেঞ্জেস কানাডার ‘স্টারস ইন গ্লোবাল হেলথ’ পুরস্কার পেয়েছে। প্রসঙ্গত, ডা. আবিদ ও তাঁর প্রতিষ্ঠান সেবামূলক কোনো কাজের জন্য কোনো বেতন বা পারিতোষিক নেয় না। নোবেল পুরস্কার কমিটির ওয়েবসাইটের তথ্য মতে, ২০২০ সালের পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের মধ্য থেকে আগামী অক্টোবরে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা