kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

লালমনিরহাট কারাগার

হুমকির পরই ১৪ কারারক্ষী স্ট্যান্ড রিলিজ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হুমকির পরই ১৪ কারারক্ষী স্ট্যান্ড রিলিজ

লালমনিরহাট জেলা কারাগার থেকে একযোগে ১৪ কারারক্ষীকে তাৎক্ষণিক বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) করা হয়েছে। গত সোমবার চিঠি পাওয়ার পরপরই তাঁরা লালমনিরহাট ছেড়ে গেলেও গতকাল মঙ্গলবার বিষয়টি জানাজানি হয়। এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। বদলি হওয়া কারারক্ষীদের নামও জানানো হয়নি। তবে একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকসংশ্লিষ্টতাসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

লালমনিরহাট জেলা কারাগার বোমা মেরে উড়িয়ে ‘সাথি ভাইদের’ নিয়ে যাওয়া হবে—এমন হুমকি দেওয়ার পরই ওই ১৪ জনকে সরিয়ে নেওয়া হলো। বিষয়টি নিয়ে কলের কণ্ঠ গত সোমবার একটি সংবাদ প্রকাশ করে। এ কারাগারে বর্তমানে নাশকতার বিভিন্ন মামলায় জঙ্গি সংগঠনের ২০ সক্রিয় সদস্য আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

লালমনিরহাটের জেলা সুপার বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ১৪ কারারক্ষীকে বদলি করা হয়েছে। বদলি করতে কোনো কারণ লাগে না।’

জানা গেছে, গত সোমবার অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল আবরার হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে ওই ১৪ জনকে তাৎক্ষণিক বদলি করে দেশের বিভিন্ন কারাগারে পদায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।

কারাগার সূত্র জানায়, লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক ও জেল সুপারকে একটি উড়ো চিঠি পাঠানো হয় গত সপ্তাহে। চিঠিতে কারাগার উড়িয়ে দিয়ে সাথি ভাইদের ছিনিয়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। চিঠিটি আমলে নিয়ে কারাগারের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি ঘটনা তদন্ত শুরু করে প্রশাসন। এ অবস্থায় গত শনিবার জেল সুপার কিশোর কুমার নাগকে একটি টেলিটক নম্বর থেকে একইভাবে হুমকি দেওয়া হয়। ফোনে দেওয়া হুমকির পরদিন লালমনিরহাট সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে কারা কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ১৯০ জন ধারণক্ষমতার লালমনিরহাট কারাগারে বর্তমানে ৪৬৬ বন্দি আছে। তাদের মধ্যে নাশকতার বিভিন্ন মামলায় জঙ্গি সংগঠনের ২০ সক্রিয় সদস্য আছে।

সূত্র মতে, গত বছরের ২২ মে রাতে লালমনরিহাট সদরের বড়বাড়ী থেকে জেল সুপার কিশোর কুমার নাগের গাড়িচালক ফিরোজ কবির ও কারাগারের সিআইডি সদস্য তহুরুল ইসলামকে ইয়াবাসহ আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। কয়েক মাস আগে মেহেদি নামের একজন কারারক্ষীর মাদকপাচারের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া কারাগারের ফার্মাসিস্ট সানওয়ার হোসেনকে ইয়াবাসহ আটক করেছিল স্থানীয় লোকজন। সে সময় অভিযোগ ওঠে, কারারক্ষীদের মাধ্যমেই বাইরে থেকে কারাগারে মাদক নিয়ে বেশি দামে মাদকাসক্ত বন্দিদের কাছে বিক্রি করা হতো। পরে এ ধরনের অভিযোগের তদন্তে নেমে একটি গোয়েন্দা সংস্থা ১৪ কারারক্ষীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবেদন দাখিল করে।

অন্য একটি সূত্র ধারণা করছে, স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়া ওই কারারক্ষীদের গতিবিধি ও সন্দেহভাজন বন্দিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার বিষয়টিও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে বোমায় কারাগার উড়িয়ে সাথি ভাইদের ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার উড়ো চিঠি ও ফোনে দেওয়া হুমকির পরই তাঁদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

লালমনিরহাট সদর থানার ওসি শাহ আলম জানান, কারাগার কর্তৃপক্ষ থানায় জিডি করার পরই কারাগার এলাকার নিরাপত্তা বাড়িয়ে যানবাহন ও পথচারীদের তল্লাশি করা হচ্ছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা