kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

দুর্ঘটনা

নেত্রকোনায় ট্রলার ডুবে প্রাণ গেল ১০ জনের

হাওরাঞ্চল ও নেত্রকোনা প্রতিনিধি   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নেত্রকোনায় ট্রলার ডুবে প্রাণ গেল ১০ জনের

নেত্রকোনার কলমাকান্দার গুমাই নদীতে গতকাল ট্রলারডুবির ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের আহাজারি। ছবি : কালের কণ্ঠ

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় গুমাই নদীতে যাত্রীবাহী ট্রলারডুবিতে পাঁচ শিশু ও তিন নারীসহ ১০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে তাঁদের স্বজনরা নিশ্চিত করেছেন। ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বালুবাহী ট্রলারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ডুবে যায় ট্রলারটি।

কলমাকান্দা থানার ওসি (তদন্ত) সিরাজুল ইসলাম ও স্থানীয় বড়খাপন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম হাদিছুজ্জামান বেঁচে যাওয়া ট্রলারের যাত্রীদের বরাতে জানান, গতকাল সকাল ৯টার দিকে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর বাজার থেকে ৩৫ জন যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি নেত্রকোনা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা বাজারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নে গুমাই নদীতে বালুবোঝাই একটি নৌকার সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ডুবে যায় ট্রলারটি। এ সময় সাঁতরে ট্রলারচালকসহ ১২ জন তীরে উঠতে পারলেও বাকিরা নিখোঁজ হন। যে ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তাঁদের ৯ জনই সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে ছয়জন দুটি পরিবারের সদস্য।

নিহতরা হলেন ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানা সদর ইউনিয়নের কামাউরা গ্রামের আব্দুস ছায়েদের স্ত্রী মজিদা আক্তার (৫৫), একই গ্রামের আব্দুল ওহাব মিয়ার স্ত্রী লুত্ফুন নাহার বেগম (২৬) ও শিশুপুত্র রকিবুল ইসলাম (৩), হাবিকুল ইসলামের স্ত্রী লাকি আক্তার (৩৪), মেয়ে টুম্পা আক্তার (৭) ও শিশুপুত্র জাহেদ হাসান (২); একই উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের আব্দুল করিমের স্ত্রী সুলতানা আক্তার (৪২) ও জুবায়ের মিয়ার শিশুপুত্র মুজাহিদ হোসেন (৫)। অন্যজন হলেন নেত্রকোনা জেলা সদরের মেদনী গ্রামের আবু চাঁন মিয়ার স্ত্রী মজিদা আক্তার (৫২)।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক কাজী আব্দুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, স্থানীয়দের সহযোগিতায় ডুবুরিরা এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন। চারজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে তাঁদের স্বজনরা জানিয়েছেন। তবে নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। নিখোঁজ চারজন হলেন—মনিরা আক্তার (৭), রতন মিয়া (৩৫), ফাতেমা আক্তার (৩৫) ও মোফাজ্জল।

এ ঘটনায় বালুবোঝাই ট্রলারের চালকসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে ৫ আগস্ট জেলার মদন উপজেলার হাওরে নৌকাডুবির ঘটনায় সাত শিশুসহ ১৮ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

প্রশাসনের নজরদারির অভাব, নৌপুলিশের উদাসীনতা, ত্রুটিপূর্ণ নৌযান, অদক্ষ চালকসহ অসচেতনতার কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তাঁরা বলছেন, নৌযানে লাইফ জ্যাকেট, টিউবসহ জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম রাখা হয় না। এ ছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিষয়টিও রয়েছে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা