kalerkantho

শনিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৮ সফর ১৪৪২

পাঁচ সচিব ও ৬৪ ডিসিকে চিঠি

অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে মন্ত্রিপরিষদের কড়া নির্দেশ

বাহরাম খান   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে মন্ত্রিপরিষদের কড়া নির্দেশ

সারা দেশে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং মাঠ প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। স্থানীয়ভাবে অবৈধ যেকোনো বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে মাঠ প্রশাসন যাতে পিছপা না হয় তার জন্যই এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত রবিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি পরিবীক্ষণ শাখা থেকে পাঁচ সচিব ও ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসককে (ডিসি) পাঠানো এক চিঠিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে পরিবেশ-প্রতিবেশ হুমকিতে ফেলছে। দেশের বড় কয়েকটি প্রকল্প, বিশেষ করে পদ্মা সেতু প্রকল্পের নদীশাসনেও বালু উত্তোলন নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই এই বিষয়টিতে স্থানীয়ভাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মাদারীপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় রাজনৈতিক চাপে গত ২৮ আগস্ট  জেলার ডিসির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। পরে সরকার ও বিচার বিভাগের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে ৬ সেপ্টেম্বর ডিসির বিরুদ্ধে করা সেই মামলা প্রত্যাহার করা হয়। ওই দিনই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প, পদ্মা রেল সেতু সংযোগ প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ চলছে।’ এতে আরো বলা হয়েছে, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারিত সংবাদে দেখা যাচ্ছে, সরকারের বালুমহাল হিসেবে ঘোষিত নয়—এমন এলাকা থেকে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আবার অনুমোদিত ইজারাদাররাও বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ অনুসরণ না করে বালু উত্তোলন করছেন। ফলে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় নদীভাঙন বৃদ্ধি পাচ্ছে; গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। সে কারণে অবৈধ বালু উত্তোলন এবং বিপণন সম্পূর্ণ বন্ধ করা প্রয়োজন।’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব তৌহিদ এলাহী স্বাক্ষরিত চিঠিটি ভূমি মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (জননিরাপত্তা বিভাগ) সচিব ও ৬৪ জেলার ডিসিদের পাঠানো হয়েছে।

মাঠ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে উদ্যোগ নিতে গেলেই স্থানীয় ক্ষমতাসীনদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে প্রশাসনকে। এ বিষয়টি বর্তমান সময়ে বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে মাদারীপুরের ডিসির বিরুদ্ধে মামলার কারণে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। গত ৫ সেপ্টেমর অ্যাসোসিয়েশনের এক সংবাদ সম্মেলনে ‘মাদারীপুরের একজন স্থানীয় প্রভাবশালীর’ কারণে ডিসির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়। অন্যদিকে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে স্থানীয়ভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের পদক্ষেপকে একটি বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, রাজনৈতিকভাবে একটি দুষ্টু চক্র সরকারের অনেক ভালো অর্জন নষ্ট করে দিচ্ছে। তাদের নিয়ন্ত্রণ করতেই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ওই আদেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে মাঠ প্রশাসন সাহস না হারায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা