kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

বিবিএসের তথ্য

বিনিয়োগ বাড়লেও কমেছে জিডিপি

► জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৫.২৪
► মাথাপিছু আয় ২০৬৪ ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিনিয়োগ বাড়লেও কমেছে জিডিপি

করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিপর্যস্ত দেশের অর্থনীতি। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে বিরাজ করছে স্থবিরতা। প্রভাব পড়েছে আমদানি-রপ্তানিতেও। করোনার কারণে অর্থনীতির সব সূচক লণ্ডভণ্ড। সেখানে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যে মিলছে উল্টো চিত্র। সংস্থাটি বলছে, করোনার মধ্যেও দেশে সরকারি-বেসরকারি দুই খাতেই বিনিয়োগ বেড়েছে।

করোনার প্রভাবে অসংখ্য মানুষের আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি বেকার হয়ে পড়েছে বিপুলসংখ্যক মানুষ। স্বাভাবিকভাবেই এর ফলে মানুষের ভোগব্যয় কমার কথা বলছেন অর্থনীতিবিদরা। সেখানে বিবিএস বলছে, দেশে মানুষের ভোগব্যয় বাড়ছে। করোনার প্রভাবে কাজ হারিয়ে মানুষ যখন জীবন-জীবিকার তাগিদে সঞ্চয়পত্র ভেঙে ফেলছে, সেখানে বিবিএস বলছে দেশে গড় সঞ্চয়পত্র বিক্রির হার বাড়ছে।

বিনিয়োগ, ভোগব্যয়, জাতীয় সঞ্চয়পত্র—সব খাতে বৃদ্ধি ঘটলে তো প্রবৃদ্ধিও বাড়ার কথা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বিবিএস বলছে—করোনার কারণে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার কমেছে। সংস্থাটির তথ্য মতে, সদ্যোবিদায়ি ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫.২৪ শতাংশ। এটা গত ১৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। টাকার অঙ্কে জিডিপির আকার ২৭ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা।

গত সোমবার রাতে বিবিএসের ওয়েবসাইটে বিদায়ী অর্থবছরের জিডিপির প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ, ভোগব্যয়, মজুরি খরচসহ অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করা হয়। সেসব তথ্য পর্যালোচনা করে এবং অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে কথা বলে বিবিএসের তথ্যের অসামঞ্জস্যতার বিষয়টি উঠে আসে। যদিও বিবিএসের কর্মকর্তারা বলছেন, বিদায়ী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের যেসব তথ্য দেওয়া হয়েছে সেগুলো সাময়িক তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। গত অর্থবছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে প্রতিবেদন করা হয়েছে। জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত পুরো এক বছরের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করার পর প্রবৃদ্ধির তথ্য হেরফের হতে পারে।

গত এক দশকে দেশে গড়ে ৬ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে। আবার দুই বছর ধরে তা ৮ শতাংশের বেশি। করোনার প্রভাবে এক লাফে প্রবৃদ্ধি কমে ৫.২৪ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থনীতির স্বাভাবিক নিয়ম বলে ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির জন্য ৪ শতাংশ বিনিয়োগ হয়। সে অনুযায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিনিয়োগ হয় ৩১.৫৭ শতাংশ। ওই বছর প্রবৃদ্ধি হয় ৮.১৫ শতাংশ। বিবিএস বলছে, সদ্যোবিদায়ি অর্থবছরে বিনিয়োগ হয়েছে মোট জিডিপির ৩১.৭৫ শতাংশ। বিনিয়োগের সঙ্গে তুলনা করলে বিদায়ী বছরে প্রবৃদ্ধি বাড়ার কথা। কিন্তু বিনিয়োগ বাড়লেও প্রবৃদ্ধি কমেছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিবিএসের তথ্য বরাবরই সন্দেহের উদ্রেক তৈরি করে। সরকারি সংস্থাটিকে স্বাধীনভাবে কাজ করার তাগিদ দেন অর্থনীতিবিদরা। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনার কারণে বিদায়ী অর্থবছরে যদি ৫ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি অর্জনের কথা বলে বিবিএস, তাহলে সেটাকে বলতে হবে এক মিরাকল অর্থনীতি। দেশে আমদানি-রপ্তানিতে স্থবিরতা বিরাজ করছে, বিনিয়োগ নেই। সেখানে জিডিপির প্রবৃদ্ধি কিভাবে ৫ শতাংশের ওপরে অর্জিত হয় তা বোধগম্য নয়। তাহলে বুঝতে হবে বিবিএসের মৌলিক পদ্ধতিতে সমস্যা আছে।

বিবিএসের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিদায়ী অর্থবছরে দেশে বার্ষিক মাথাপিছু জাতীয় আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৬৪ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে মাথাপিছু জাতীয় আয় বাড়ল ১৫৫ ডলার। আর বিদায়ী অর্থবছরে মোট বিনিয়োগ হয়েছে ৩১.৭৫ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারি ৮.১২ আর বেসরকারি খাতে ২৩.৬৩ শতাংশ। আর আগের বছর মোট বিনিয়োগ হয়েছিল ৩১.৫৭ শতাংশ। সে হিসাবে আগের বছরের তুলনায় গত বছর বিনিয়োগ বেড়েছে। গত বছর ভোগব্যয় হয়েছে মোট জিডিপির ৭৪.৬৯ শতাংশ। মোট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে জিডিপির ৩০.১১ শতাংশ, যা আগের বছর ছিল ২৯.৫০ শতাংশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা