kalerkantho

শনিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৮ সফর ১৪৪২

নৌভ্রমণ

খোলা হাওয়ায়

শাখাওয়াত হোসাইন   

১১ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খোলা হাওয়ায়

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে মাসের পর মাস ঘরবন্দি মানুষ। বিশেষ করে নগরজীবনে এই বন্দিদশায় হাঁপিয়ে উঠেছে মানুষ। চার দেয়ালে আটকা পড়ে থাকা মানুষ খোলা বাতাসে বুকভরে শ্বাস নিতে উন্মুখ হয়ে আছে। আর ঈদ ঘিরে তারা যেন বাইরে বেরোনোর একটি উপলক্ষ পেয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে বিনোদনের অনুষঙ্গ হিসেবে তারা বেছে নিয়েছে নৌভ্রমণকে।

নদীতীরের খোলা হাওয়া কার না ভালো লাগে। শুকনো মৌসুমেও তাই নদীতীরের দর্শনীয় স্থানগুলোতে ভিড় লেগে থাকে। কিন্তু রাজধানী ঢাকাবাসীর জন্য এই সুযোগ বরাবরই অধরা থেকে যায়। কারণ নগরের চারপাশ ঘিরে বয়ে চলা নদীগুলো প্রবাহ হারিয়ে ধুঁকছে অস্তিত্ব সংকটে। ঢেউয়ের তালে তালে দুলতে থাকা বাহারি রঙের পালতোলা নৌকার দেখা নেই বহু বছর।

সাম্প্রতিক বন্যায় ভরা যৌবনা নদীতে ঘুরে বেড়াতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে নগরবাসী। ফিরে এসেছে নদীর বুকে তরি ভাসিয়ে বিনোদনে মেতে ওঠার দৃশ্য। রাজধানীর পূর্বদিকে বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীতে এখন প্রতিদিনের দৃশ্য এটি। সব বয়সী মানুষ মিলে ভাড়া করা ট্রলারে উপভোগ করছেন নদীর উচ্ছল সৌন্দর্য।

গত কয়েক বছরের মধ্যে এবার বর্ষায় বেড়েছে নদীর পানির উচ্চতা। বানের পানি বালু ও শীতলক্ষ্যার তীর মাড়িয়ে বিধৌত করেছে তীরবর্তী গ্রামগুলো। নদীর বুকে আছড়ে পড়ছে বড় বড় ঢেউ। আর ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ট্রলারে চড়ে সেই ঢেউয়ে দুলে বেড়াচ্ছে ভ্রমণপিয়াসীরা। একই সঙ্গে চলছে সেলফি তোলা।

আব্দুল্লাহপুর থেকে তুরাগ নদে সুসজ্জিত নৌকা নিয়ে ঘুরতে বেরোনো ইরফান কবির কালের কণ্ঠকে বললেন, ‘আমরা বন্ধুরা মিলে ১০ হাজার টাকা দিয়ে নৌকা ভাড়া করে ঘুরতে বেরিয়েছি। নৌকা সাজাতে খরচ লাগছে আরো প্রায় সমপরিমাণ টাকা। তবে নদীর ঢেউয়ে দুলতে দুলতে এগিয়ে চলা আর চারপাশের দৃশ্য মুগ্ধ করার মতো। খুব ভালো লাগছে।’

স্থানীয় অনেকেই বললেন, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীতে বহু বছর ধরেই এমন সুসজ্জিত নৌকার দেখা মেলেনি। তবে এই বছর ব্যতিক্রম। করোনার কারণে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি মানুষ যেন মুখিয়েই ছিল। আর চলতি বন্যায় বিনোদনের অনুষঙ্গ হিসেবে তারা বেছে নিয়েছে নৌকা ভ্রমণকে। ভরা নদী দেখতে আগ্রহ বেড়েছে নগরবাসীর।

বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীতে এখন প্রতিদিন দেখা মিলছে অর্ধশতাধিক সুসজ্জিত নৌকার। ভ্রমণকারীদের বেশির ভাগই তরুণ। নৌকা ভ্রমণের ঝোঁক বাড়ায় কদর বেড়েছে মাঝিদের। ইঞ্জিন নৌকার ব্যবস্থা না থাকলেও স্থানীয় মাঝিদের নিয়ে স্বল্প দূরত্বে নৌকা ভ্রমণে যাচ্ছে অনেকে।

বেরাইদ বাজারের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব ফয়েজ মিয়া বললেন, ‘বহু বছর ধইর‌্যা নদীতে আমোদ-প্রমোদ ছিল না। এহন তা বাড়ছে। প্রতিদিন বহু মানুষ নৌকা নিয়ে এখন বেড়াতে আসে। দেখতেও ভালো লাগে।’

নৌকার মাঝি আফিজ মিয়া বলেন, ‘লোকজন আহে। ঘণ্টা হিসাবে ভাড়া নিয়া নৌকায় ঘোরে, মজা করে। এতে আমগোর ইনকাম বাড়ছে। এইবার লোকজন বেশি আইতাচে।’

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, চারদিকে নদী রয়েছে বিশ্বে এমন শহরের সংখ্যা খুব বেশি নয়। ঢাকার চারপাশে সেই সুবিধা থাকলেও দখল-দূষণে এসব নদী অস্তিত্ব সংকটে। অথচ এই নদীগুলো পর্যটনের বিকাশে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের পর্যটনশিল্পের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে সাও প্র্যাং নদীতে প্রমোদতরি ভ্রমণ। ঢাকার চারপাশের নদীগুলো সচল করে পর্যটন ও পরিবহন ব্যবস্থা সক্রিয় করা সম্ভব।

রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিভিন্ন দেশেই নদীকেন্দ্রিক পর্যটনশিল্প গড়ে উঠেছে। কিন্তু আমরা দীর্ঘ সময়েও তা পারিনি, এটি দুঃখজনক। পর্যটনশিল্প, নৌযোগাযোগ ও পরিবেশ-প্রকৃতির স্বার্থেই নদীগুলোকে বাঁচিয়ে তুলতে হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা