kalerkantho

সোমবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৩ সফর ১৪৪২

আশা জাগাচ্ছে পুঁজিবাজার

► লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়াল
► মূল্যসূচক বেড়েছে ২০০ পয়েন্ট
► এক দিনে বাজার মূলধন ফিরল সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা

রফিকুল ইসলাম   

১০ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আশা জাগাচ্ছে পুঁজিবাজার

করোনাভাইরাস মহামারিতে বিপর্যস্ত পুঁজিবাজার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। করোনার কারণে পুঁজিবাজার নিয়ে যে শঙ্কা দেখা দিয়েছিল, তা কাটতে শুরু করায় আশা দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। গতকাল রবিবার পুঁজিবাজারে লেনদেন এক হাজার ১২৮ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। আর মূল্যসূচকের প্রায় ২০০ পয়েন্ট বৃদ্ধি চমক দেখিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পুঁজিবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অনাস্থা কেটে যাচ্ছে। বিশেষ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং ভালো কম্পানির আইপিও আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কড়া অবস্থান এই ক্ষেত্রে বড় সহায়ক হয়েছে। নতুন নতুন বিনিয়োগকারী বাজারে আসায় লেনদেনে বড় উল্লম্ফন হয়েছে।

চলতি বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়। অর্থনীতিতে বড় মন্দার শঙ্কায় মূলধন তুলে নিয়ে পুঁজিবাজার ছাড়তে হুমড়ি খেয়ে পড়েন বিনিয়োগকারীরা। উপর্যুপরি শেয়ার বিক্রির চাপে মূল্যসূচক ও বাজার মূলধন বিগত সাত বছর পেছনে ফিরে যায়।

পুঁজিবাজারের পতন ঠেকাতে তড়িঘড়ি করে ১৮ মার্চ শেয়ারের দামের সর্বনিম্ন সীমা (ফ্লোর প্রাইস) বেঁধে দেয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি); যদিও দাম বেঁধে দেওয়ার পর শেয়ার লেনদেন হয়েছে মাত্র কয়েক দিন। এরপর সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির কারণে টানা ৬৬ দিন বন্ধ থাকে পুঁজিবাজার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ ছুটির সময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পদে বড় রদবদল হয়।

চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। একই সঙ্গে কমিশনার হিসেবে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো দুই অধ্যাপক।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা সূত্রে জানা যায়, বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার মধ্যে পড়া পুঁজিবাজারে গতি ফেরাতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশন। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কঠোর অবস্থান, কম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের যথাক্রমে ২ ও ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে কঠোরতা ও আল্টিমেটাম, দুর্বল কম্পানির আইপিও বাতিল এবং বন্ড মার্কেট সচল করতে উদ্যোগী হয় কমিশন।

বিএসইসি চেয়ারম্যান ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুঁজিবাজার গতিশীল করতে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীর আস্থা ফেরাতে কাজ করছে কমিশন। বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষায় নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা পুঁজি বিনিয়োগ করে যেন ক্ষতির সম্মুখীন না হন, সে বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে।’

স্বাভাবিক সময়ে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত পুঁজিবাজারে চার ঘণ্টা লেনদেন হয়। তবে মন্দাবস্থা কাটিতে ওঠার প্রাক্কালে পুঁজিবাজারে শেয়ার কেনাবেচা করতে বিনিয়োগকারীর আগ্রহ দেখা দেওয়ায় লেনদেনের সময় আধাঘণ্টা বাড়িযেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) কর্তৃপক্ষ। সময় বাড়ানোর পর গতকাল বর্ধিত সময় শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এতে পুঁজিবাজারে শেয়ার কেনাবেচায় বড় চমক দেখা গেছে। শেয়ার কেনার চাপে মূল্যসূচকে বড় উত্থান হয়েছে। লেনদেনও এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ৮২ শতাংশ কম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। আর শেয়ারের দাম বাড়ায় এক দিনে পুঁজিবাজারে ১১ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা বাজার মূলধন ফিরেছে।

পুঁজিবাজারে বড় চমকের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংকে আমানতের সুদের হার এখন অনেক কম। আমানতে ৬ শতাংশ ও ঋণে ৯ শতাংশ সুদহার কার্যকর হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে ঢুকছে। কারণ তালিকাভুক্ত কম্পানিগুলো অন্তত ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়। অবশ্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে আয় কম হলে লভ্যাংশ কম দেওয়া হয়। তবে অনেক তালিকাভুক্ত ব্যাংক ও কম্পানি ১০ শতাংশের চেয়ে বেশি লভ্যাংশও দিয়ে থাকে।

চলতি আগস্ট মাসে পুঁজিবাজারে পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। এই সময়ে বাজার মূলধন বেড়েছে ১৯ হাজার ৪০১ কোটি টাকা। আর মূল্যসূচক বেড়েছে ৩৩০ পয়েন্ট। গত ৩০ জুলাই ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ২৫ হাজার ৭৩২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। গতকাল এই মূলধন দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৪৫ হাজার ১৩৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান-উর রশীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার দূরদর্শী সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীরা আস্থা ফিরে পেয়েছে। দীর্ঘদিন মূলধন খোয়ানোর কারণে পুঁজিবাজার থেকে বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল।’

বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুদের হার কমে যাচ্ছে। এখন ব্যাংকের চেয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ অনেক বেশি সম্ভাবনাময়। দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করলে ভালো মুনাফা করতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা