kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৬ সফর ১৪৪২

বিনোদন

ভিড় জমেছে পূর্বাচলে

শরীফুল আলম সুমন   

৮ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভিড় জমেছে পূর্বাচলে

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে কয়েক মাস ধরে রাজধানীর মানুষ ঘরবন্দি। তবে কিছুদিন ধরে এই ভাইরাসভীতি উপেক্ষা করে ঘর থেকে বেরোচ্ছে অনেকেই। বিনোদনকেন্দ্রগুলো এখনো খোলেনি। তাই মানুষ বিনোদনের খোঁজে ভিড় করছে বেশ খোলামেলা জায়গা পূর্বাচলে। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন ৩০০ ফুট সড়ক, মেহেদী ফুড কোর্ট, নীলা মার্কেটসহ পূর্বাচলের বিভিন্ন খোলা জায়গায় লোকজনের প্রচণ্ড ভিড় দেখা যায়।

কয়েক দিন আগেই পালিত হলো ঈদুল আজহা। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবারের ঈদে রাজধানীতে মানুষের অবস্থান ছিল বেশি। তবে ঈদের ছুটিতে প্রচণ্ড গরম ও বিনোদনকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় সেই সময় মানুষ ঘুরতে তেমন একটা বের হতে পারেনি।

ঈদের ছুটি শেষে গতকাল ছিল প্রথম শুক্রবার। ফলে অনেক মানুষই ঘর থেকে বেরিয়েছিল। গতকাল পূর্বাচল এলাকায় মানুষের প্রচণ্ড আনাগোনো দেখা যায়। ব্যক্তিগত গাড়ি, ভাড়া করা গাড়ি, মোটরসাইকেলসহ নানা যানবাহনে অনেক দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ এসেছে। কেউ এসেছে পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউ বা এসেছে বন্ধুদের সঙ্গে। পূর্বাচলের বিভিন্ন সড়কে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আড্ডা-গল্পে মেতে উঠেছে অনেকে, অনেকেই আবার খোলা জায়গায় বাচ্চাদের নিয়ে ক্রিকেট, ফুটবলও খেলে।

৩০০ ফুট সড়ক-সংলগ্ন মেহেদী ফুড কোর্টেও ছিল মানুষের ভিড়। অনেকেই ঘোরাফেরা করে কিছু খাওয়ার উদ্দেশ্যে এসেছে দেশের অন্যতম বড় এই ফুড কোর্টে। ‘দ্য ফুড হলে’ বসে কথা হয় সাদমান ইসলামের সঙ্গে। তিনি স্ত্রী ও দুই  সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে এসেছিলেন পূর্বাচলে। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদেও বাচ্চারা ঘরবন্দি ছিল। তাই চিন্তা করছিলাম কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাওয়া দরকার। এ জন্যই মূলত আসা। দুপুরের পর পর এসেছি। সন্ধ্যার পর চলে যাব। বাচ্চারা অনেক দিন পর বের হয়েছে। বেশ ভালো লাগছে।’

পাশের টেবিলে বসেছিল আরেকটি পরিবার। পরিবারের কর্তা আমানুর রহমান বলেন, ‘পূর্বাচলটাই এখনো অনেকটা খোলামেলা রয়েছে। একটু নিঃশ্বাস নেওয়া যায়। কিন্তু একে তো ঈদের পর, আবার শুক্রবার—ফলে সব জায়গায়ই বেশ ভিড় ছিল। এখানে এসে কারো ভেতরে তেমন কোনো করোনাভীতি দেখতে পাইনি। যা আমাকেও আগের চেয়ে সাহস জুগিয়েছে।’

রাজধানীর ডেমরা থেকে আসা চার বন্ধুর সঙ্গে কথা পূর্বাচলের নীলা মার্কেটের সামনে। তাঁদের মধ্যে জিয়াউল বলেন, ‘আমরা প্রায়ই চারজন একসঙ্গে ঘুরতে বের হই। কোথায় যাব, সেটা অনেক চিন্তা করে পূর্বাচলই ঠিক করলাম। এখানে বেশ খোলামেলা জায়গা রয়েছে। এখানকার ফুড কোর্টগুলোতেও নানা ধরনের খাবার পাওয়া যায়। সারা দিন ঘুরলাম। বেশ ভালো লাগল। তবে ঈদের পর পর হওয়ায় ভিড়টা একটু বেশি।’

গতকাল দুপুর থেকেই ৩০০ ফুট সড়কে বেশ গাড়ির চাপ দেখা যায়। তাদের বেশির ভাগই পূর্বাচলে ঘোরার জন্য এসেছে। মানুষজন পূর্বাচলের বিভিন্ন খোলা মাঠে, রাস্তার পাশে গল্প করে সময় কাটিয়েছে। ঘোরাঘুরির পর ভিড় করেছে বিভিন্ন খাবার দোকানে। অনেক পরিবারই আবার বাসা থেকে খাবার নিয়ে এসেছে। পূর্বাচলের বিভিন্ন মোড়ে ছোট ছোট বাজারের মতো বসতেও দেখা যায়। ঘোরাফেরা শেষে সেই বাজার থেকে সবজি, গরুর দুধ, ডিম, ফলসহ নানা পণ্য কিনেও মানুষজন বাড়িতে ফেরে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা