kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ কার্তিক ১৪২৭। ২৯ অক্টোবর ২০২০। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ট্রলারডুবিতে আরেক লাশ উদ্ধার

তদন্ত কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ ও মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি   

৭ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্রলারডুবিতে আরেক লাশ উদ্ধার

নেত্রকোনার মদন উপজেলার রাজালিকান্দা হাওরে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ সর্বশেষ ব্যক্তির মরদেহ গতকাল বৃহস্পতিবার উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৮।

এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

গতকাল উদ্ধার করা হয়েছে মো. রাকিবের (২০) লাশ। তিনি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সিকতা ইউনিয়নের কোনাবাড়ী গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতি টেঙ্গা জামিয়া আরাবিয়া মাদরাসার শিক্ষক ছিলেন তিনি।

রাকিবসহ ট্রলারডুবিতে মৃত ১৬ জনের বাড়ি ময়মনসিংহের সিরতা ইউনিয়নে। বাকি দুজনের বাড়ি গৌরীপুর উপজেলায়। গতকাল ১৮ জনেরই দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দশ্রী পশ্চিমপাড়া রাজালিকান্দার পেছনে রাকিবের লাশ ভেসে ওঠে। এরপর মদন থানায় খবর দেওয়া হয়। মরদেহ গতকাল সকালেই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। 

গত বুধবার মাদরাসার শিক্ষক, ছাত্রসহ তাদের অভিভাবকদের ৪৮ জনের একটি ট্রলারে করে হাওর ভ্রমণে বের হন। দুপুর দেড়টার

দিকে উপজেলার রাজালিকান্দায় ট্রলারটি ডুবে যায়। ৩০ জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও ১৮ জন পানিতে ডুবে যান। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করে।  

এ ঘটনায় ওই রাতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফখরুল হাসান চৌধুরী টিপু, মদন থানার ওসি মো. রমিজুল হক ও মদন ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার আহমেদুল কবির। কমিটিকে আগামী  সাত কার্যদিবসের মধ্যে  প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ জানান, তদন্তকাজ শুরু হয়েছে।                                                                                            

দাফন সম্পন্ন : ট্রলারডুবির ঘটনায় মৃত ১৮ জনের দাফন গতকাল সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জনকে তাঁদের নিজ গ্রাম ময়মনসিংহের সদর উপজেলার চরসিরতার কোনাপাড়া গ্রামে দাফন করা হয়। গতকাল সকাল ৭টার দিকে জানাজা শেষে ১৫ জনকে দাফন করা হয়। রাকিবের দাফন সম্পন্ন হয় বিকেল ৩টার দিকে। অন্য দুজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায়। তাঁরা হলেন শফিকুল ইসলাম ও তাঁর ছেলে সামোয়ান (১০)। সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ধোপা জাঙ্গালিয়া গ্রামে তাঁদের দাফন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ময়মনসিংহ সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ট্রলারডুবিতে মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে কোনাপাড়া গ্রামে যান। সদরের উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফ হোসাইনও তাঁদের সান্ত্বনা দেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা এবং সদর আসনের এমপি বেগম রওশন এরশাদের পক্ষ থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

 

মন্তব্য